১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) মুনাফার আগের হারই বহাল থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jan 2026, 08:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:30 PM

জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে কিছুক্ষেত্রে সুদহার কমানোর যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেখান থেকে সরে এসেছে সরকার।

এর ফলে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আগের হারেই মুনাফা পাবেন বিনিয়োগকারীরা বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব আবদুর রহমান খান।

সুদহার কমানোর আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এতক্ষণে পূর্বের হার বহাল রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সম্ভবত। না হলে এখনই হবে।”

রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত আইআরডির অধীন জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে সঞ্চয় অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুদহার কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যহর হয়। এতে সঞ্চয়পত্রের বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সুদহার কমানো হয়।

পর সরকারের সিদ্ধান্তে অর্থ মন্ত্রণালয় তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণ করে আসছে আইআরডি।

৩০ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী জুন পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা এর চেয়ে কম বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ; সর্বনিম্ন ধরা হয়েছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ ধরনের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। সবশেষ ৪ জানুয়ারি- রোববারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ বছরের বিনিয়োগে আগের মতই মিলবে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদ। এছাড়া বিনিয়োগের মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হারে ভিন্নতা রয়েছে।  

পরিবার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জুলাই মেয়াদে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে এমন বিনিয়োগে সুদের হার কমিয়ে করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এখন আগের জুলাইয়ের হারেই সুদ মিলবে।

রোববারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগের সুদের হার সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে আগের মতই ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগ হলে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। বিনিয়োগ সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে তিন বছর মেয়াদে সাড়ে সাত লাখ টাকার বিনিয়োগের সুদহার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এছাড়া প্রবাসীদের জন্য বন্ডে বিনিয়োগসহ অন্যান্য বিনিয়োগের হারও আগের মতই থাকবে।

সরকার ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রে সুদহার ঘোষণা করে। তবে সুদহার বদলালেও যখন যে স্কিমে বিনিয়োগ করা হবে, সেটির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেনার সময়কার সুদহারই বহাল থাকে।

একক বা যৌথভাবে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বিনিয়োগে এক ধরনের সুদহার পাওয়া যায়। এর চেয়ে বেশি বিনিয়োগে অপেক্ষাকৃত কম সুদহার দেয় সরকার। বিনিয়োগের মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হারেও ভিন্নতা রয়েছে।

এক স্কিমে এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে বিনিয়োগ করা যায়। 

সঞ্চয় স্কিমে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পরিবার সঞ্চয়পত্র।

কত টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন একজন ব্যক্তি?

সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমলো

সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কমল