Published : 01 Jul 2025, 02:20 PM
সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমিয়ে চলতি বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য নতুন হার নির্ধারণ করেছে সরকার।
তাতে মুনাফার সর্বোচ্চ হার ধরা হয়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, আর সর্বনিম্ন হার হবে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এতদিন মুনাফার সর্বনিম্ন হার ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ ছিল।
অবশ্য ওয়েজ আর্নার ডেভোলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক সাধারণ হিসাব–এই চার ধরনের স্কিমে বিদ্যমান মুনাফার হার বহাল থাকবে।
এর আগে সবশেষ গত জানুয়ারি মাসে ছয় মাসের জন্য মুনাফার হার ঘোষণা করা হয়েছিল। সরকার প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে অনুযায়ী মুনাফার নতুন হার ঠিক করে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে।
আগামী ছয় মাসে যারা নতুন সঞ্চয়পত্র কিনবেন, তাদের ক্ষেত্রে মুনাফার নতুন হার প্রযোজ্য হবে। তাবে আগে যারা সঞ্চয়পত্র কিনে রেখেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ক্রয়কালীন সুদহার প্রযোজ্য হবে।
একক বা যৌথভাবে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বিনিয়োগে মুনাফার এক ধরনের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। আর তার চেয়ে বেশি, অর্থ্যাৎ সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে অপেক্ষাকৃত কম সুদ দেবে সরকার।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ হারে মুনাফা মিলবে, এটাই সর্বোচ্চ সুদহার। এতদিন এই হার ছিল সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
এই স্কিমে এক বছরের জন্য বিনিয়োগে সুদহার হবে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগে এক বছরের জন্য ছিল ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা এক বছরের জন্য বিনিয়োগ করলে সুদহার হবে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বিনিয়োগ সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে একই মেয়াদের জন্য সুদহার হবে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।
একইভাবে তিন মাস অন্তর অন্তর মুনাফাভিত্তক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চপত্র ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে মেয়াদী হিসাবেও সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সঞ্চয় স্কিমে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পরিবার সঞ্চয়পত্র। এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য সুদহার নির্ধারণ কর হয়েছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ; এতদিন এই হার ছিল ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এক বছরের জন্য ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ মুনাফা মিলবে, যা আগে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ ছিল।
আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে সর্বনিম্ন সুদহার ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ১১ শতাংশ, সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
বাজেট বাস্তবায়নে ঘাটতি মেটাতে সরকার এবার অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১০ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধ বেশি হয়েছিল।
বিদায়ী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। তবে দশ মাসে ৭ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা নিট ঋণ পরিশোধ করতে হয় সরকারকে। অর্থ্যৎ, এ খাত থেকে সরকারের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্বক।