Published : 19 Feb 2026, 11:53 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা বিদেশি চুক্তিগুলোকে পুনর্বিবেচনা করার তাগিদ দিয়েছেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত বিফ্রিংয়ে তিনি তারেক রহমানের নতুন সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান।
এ সংগঠনের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় বলেন, “বিগত সরকার যাওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক চুক্তি করেছে। এসব চুক্তি শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হয়নি, শুধু আমাদের বন্দর দিয়ে দেওয়ার জন্য হয়নি। আরও অন্যান্য ক্ষেত্রেও হয়েছে যেগুলো হয়তো আমরা এখনো অবহিত না।
“এই সমস্ত বৈদেশিক চুক্তিগুলোকেও আবার পুনর্বিবেচনা করা উচিৎ যাতে নতুন সরকারের কাছে এর কী ধরনের দায়-দায়িত্ব বর্তায় (তা খতিয়ে দেখা)।
এর ব্যাখ্যা হিসেবে চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় বলেন, “যেহেতু এলডিসি গ্রাজুয়েশনকে আপনি পুনর্মূল্যায়ন করতে রাজী আছেন, তাহলে এগুলোকেও আপনাকে পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্বিবেচনার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে বলে আমি মনে করি।”
রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক এ বিফ্রিংয়ের আয়োজন করে ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’।
এতে নতুন সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে সরকারকে ধৈর্য ধরার পরামর্শও আসে দেবপ্রিয়ের তরফে।
গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় এই ফেলো চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিপক্ষে তার মত দেন। অর্থনৈতিক বিষয়ে সরকারকে সংযম দেখাতে বলেন তিনি।
নবগঠিত সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একটু বাস্তবসম্মত হন, রাষ্ট্রনায়কোচিতভাবে আমাদের এগুতে হবে।”
নতুন সরকারের জন্য কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মধ্যে দায়-দেনার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।
“অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিস্থিতি, দায়-দেনা পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিল তার চেয়ে আরেকটু খারাপ অবস্থায় রেখে গিয়েছে। এটা হল সত্য। এটা কী কারণে রেখে গিয়েছে তা আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি। সেটা রাজস্ব আদায় কম হওয়ার কারণে হতে পারে, চলতি ব্যয়কে তারা সংকোচন করতে পারেনি এ কারণেও হতে পারে।
“আবার এডিপির কোনো সামঞ্জস্য বিধান করে নাই দেখেও হতে পারে। তবে উত্তরাধিকার সূত্রে বিএনপি যে ঋণ পরিস্থিতি পাচ্ছে তা অন্তর্বর্তী সরকার যে অবস্থায় পেয়েছিল তার চেয়ে আরেকটু দুর্বল ও নাজুক।“
সরকারের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দেবপ্রিয় বলেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা যদি আমাদের থাকে তাহলে টাকা ছাপানোর চিন্তা আমরা যেন স্বপ্নেও না করি।”
১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে দেবপ্রিয় বলেন, “আমি তাড়াহুড়ার বিপক্ষে। এই যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথা বলা হচ্ছে, আমি হলে বলব ধৈর্য ধরেন। এই অর্থবছরে আর কিছু হবে না। একটা পরিকল্পনা দাঁড় করান। পরবর্তী অর্থ বছরে অর্থায়নের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটাকে দেখতে হবে।
“আগামীকাল থেকেই আপনি কর্মসূচি বাস্তবায়নে লেগে গেলেন। আপনি জানেনই না যে বাড়িটা দুইতলা নাকি এক একতলা, এটা কাঠের তৈরি বা টিনের। অথচ আপনি এর ওপরে দালান কোঠা বানাতে চাচ্ছেন। একটু বাস্তবসম্মত হন।”
ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়নও আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরে করার পক্ষে মত দেন তিনি।
বাজার ব্যবস্থা নিয়ে সিপিডির এই সম্মানীয় ফেলো বলেন, “যে নেতারা বলেছেন সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন প্রথম দিন থেকে- আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি। ওই সিন্ডিকেটগুলোর যে রাজনৈতিক শক্তি আছে সেটাও তো আমরা জানি।”
ওই সিন্ডিকেটগুলো নির্বাচনে অর্থায়ন করেছে কী না সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
শেষ কথায় তিনি বলেন, “রমজান শুরু হয়েছে, সংযমের মাস। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সংযম দেখানোর এটাই শেষ সময়।”
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। বক্তব্য রাখেন আরেক সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।