Published : 09 Sep 2025, 09:42 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে লোকজনের জমায়েত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচনি বিধিনিষেধের কারণে বহিরাগত কাউকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এর ফলে তারা সেখানেই অবস্থানে রয়েছেন।
ব্যক্তিপর্যায়ে অবস্থানকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও তারা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন ডাকসুর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা।
ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের ভাষ্য, নীলক্ষেত, শাহবাগ, চানখারপুলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ‘সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান’ নিয়েছে।
অপরদিকে শিবির প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদের অভিযোগ, নয়টি পয়েন্টে যুবদল এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা পাহারা দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার দিনভর ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর এখন চলছে গণনা।
এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ সময় আচরণ বিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আসে চারটি প্যানেলের তরফে।
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের দুই প্রার্থীর ব্যালটে আগে থেকে টিক দিয়ে রাখার অভিযোগে প্রশাসনের বিরুদ্ধে টিএসসিতে বিক্ষোভও করেছে ছাত্রদল।
রাতে ভোট গণনা চলাকালে খালি ব্যালটবক্স ভরে ফেলার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ খবর পাওয়া গেছে।
ভোট উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। সকাল থেকেই পরিচয়পত্র তল্লাশি করেই প্রত্যেককে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকাল থেকেই প্রবেশপথগুলোতে লোকজনের জমায়েত বাড়তে থাকে। শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও জটলা বাড়তে থাকায় সন্ধ্যার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জনবলও বাড়াতে দেখা যায়।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জটলা বাড়তে থাকে, যাদের প্রবেশপথে দেওয়া ব্যারিকেডের বাইরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে শাহবাগ, নীলক্ষেতসহ প্রায় সবকটি প্রবেশপথের বাইরেই লোকজনকে অবস্থান করতে দেখা যায়।
অবস্থানকারীরা নিজেদের পরিচয়ের বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও অনেকেই বলছেন, ভোটের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।
কেউ কেউ বলেছেন, ফল প্রকাশের পর পছন্দের প্রার্থীর বিজয় মিছিলে অংশ নিতে তারা এসেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলে শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর বলেছেন।
তিনি বলেন, “আইকনিক একটা নির্বাচন, এটার প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। সে কারণে উৎসুক মানুষের ভিড়তো রয়েছেই।”
কোন ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সতর্ক আছি।”
তবে বিকালে মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসে নীলক্ষেত, শাহবাগ, চানখারপুলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ‘সংঘবদ্ধভাবে’ অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ তোলেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এসব সন্ত্রাসী অবস্থান থেকে মুক্ত করুন। এ ধরণের যুদ্ধাংদেহী অবস্থান, আমরা অভ্যুথান পরবর্তী বাংলাদেশে আশা করি না।”
নির্বাচনকে ঘিরে দুপুরের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি গেটে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিনটি অভিযোগ করেন। এরমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি প্রবেশপথে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির কথা বলা হয়।
রাকিবুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি প্রবেশপথে দুপুরের পর থেকে ব্যাপক হারে জড়ো হয়েছে। এই নির্বাচন তো জামায়াত-শিবিরের নয়, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের। কিন্তু তাদের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এটা জামায়াতের নির্বাচন। কিন্তু প্রশাসন এতটা নতজানু, তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা ধিক্কার জানাই, যেকোনো সময় এখানে সংঘর্ষ হতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাই।”
এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, বিকাল ৪টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে জনসমাগমের তথ্য পেয়েছেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, “তখন থেকেই আমরা পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। প্রয়োজনে আমরা পুলিশের সঙ্গে আবার কথা বলব, তারা নিরাপত্তা বাড়িয়েছে কি না।”
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে এসে উল্টো বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের জমায়েত হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদ।
জামায়াত-শিবিরের জমায়েত হওয়ার ছাত্রদলের যে অভিযোগ সেটিকে ‘নাটক মঞ্চস্থ করা’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেছে বাইরে নাকি আমাদের লোকজন পাহারা দিচ্ছে। আমাদের ছাত্রশিবিরের বাইরের লোকজনের দরকার হবে না।
“আমরা বরং দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশের নয়টি পয়েন্টে যুবদল এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা চারপাশে পাহারা দিচ্ছেন। সেলফি তুলে তুলে আপলোড দিচ্ছেন। যেন একটা সিগনালের অপেক্ষায়-‘নেতা আহ্বান করলে ঢুকে যাব’।”
নীলক্ষেতে বিএনপির দুই গ্রুপ মারামারি করেছে বলেও অভিযোগ করে ফরহাদ বলেন, “তোরণের এখানে দুই ট্রাক দিয়ে লোকজন এসেছে। এভাবে ঢাকাসহ চারপাশের জেলার লোকজন নিয়ে এসে পুরো ক্যাম্পাসে একটা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো দলের হুমকি ধামকি ভয় পায় না মন্তব্য করে শিবির সমর্থিত এই প্রার্থী মনে করিয়ে দেন যে জুলাই আন্দোলনেও ছাত্রলীগ বহিরাগতদের এনে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
ছাত্রদলকে ‘একই চেষ্টায়’ না ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা গত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছেন। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘসময় এসসাথে ছিলাম। অন্তত আবার ছাত্রলীগ হয়ে যাইয়েন না। আবারও বহিরাগত নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাইতে আইসেন না। শিক্ষার্থীরা ভয় পায় না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগুলো নিশ্চিতভাবে প্রতিহত করবে।”
আরও পড়ুন:
ডাকসু ভোট: নীলক্ষেত-শাহবাগে ‘যুদ্ধাংদেহী অবস্থানে’ জামায়াত, অভিযোগ আবিদের
ডাকসু: ৯ পয়েন্টে যুবদল-বিএনপির অবস্থানের পাল্টা অভিযোগ ফরহাদের