Published : 09 Sep 2025, 07:28 PM
ডাকসু নির্বাচনের ভোট গণনার মধ্যে নীলক্ষেত, শাহবাগ, চানখারপুলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দিনভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর এখন চলছে গণনা।
এর মধ্যে বিকাল সাড়ে ৫টার পর মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আবিদসহ ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের একাংশ।
আবিদ বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এসব সন্ত্রাসী অবস্থান থেকে মুক্ত করুন। এ ধরণের যুদ্ধাংদেহী অবস্থান, আমরা অভ্যুথান পরবর্তী বাংলাদেশে আশা করি না।”
এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ সময় আচরণ বিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আসে চারটি প্যানেলের তরফে।
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের দুই প্রার্থীর ব্যালটে আগে থেকে টিক দিয়ে রাখার অভিযোগে প্রশাসনের বিরুদ্ধে টিএসসিতে বিক্ষোভও করেছে ছাত্রদল।

বিকালে সংবাদ সম্মেলনন করে ছাত্রদলের প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী আবিদ বলেন, “প্রশাসন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না, তা আজকে এই ডাকসু নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে।”
“অনেক সাংবাদিকই আমাকে আজকে প্রশ্ন করেছেন, আমাদের কোনো অভিযোগ আছে কিনা। আমি বলেছি, আমরা আর অভিযোগের রাজনীতিতে ফিরতে চাই না। আমরা শুধুমাত্র সামনে অগ্রসর হতে চাই।
“আমরা ভেবেছিলাম, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি থেকে যেমনভাবে ফ্যাসিস্টকে বিতাড়িত করা হয়েছে, তেমনভাবে অপরাজনীতিকে বিতাড়িত করা হয়েছে।”
নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানো হয়েছে অভিযোগ করে আবিদ বলেন, “আজকে সকাল থেকে প্রচার করা হয়েছে, আমি নাকি ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন’ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা পর্যন্ত সবাইকে বিভ্রান্ত করেছেন। আপনারা গঠনতন্ত্র পড়েন, এটা যে মিথ্যা, তার প্রমাণ পেয়েছেন।
“মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে আমাদের কলংকিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক করা হয়েছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

প্রার্থীরা ভোট কেন্দ্রে যাওয়াটা নিয়ম লঙ্ঘন নয় মন্তব্য করে আবিদ বলেন, “আপনারা যারা আগেও ডাকসু নির্বাচন কাভার করেছেন, তারা জানেন। ভিপি, জিএস প্রার্থীদের কি কেন্দ্র পরিদর্শনের সুযোগ ছিল না। অবশ্যই ছিল। প্রার্থীদের একটা পরিচিতি কার্ড কি ছিল না। অবশ্যই ছিল।
“কিন্তু এবার আমরা কেন্দ্রে যখনই গিয়েছি, তখনই আমাদের এতিমের মতো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদের সময় নষ্ট করা হয়েছে।”
রোকেয়া হলে আগে থেকেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিসি ও জিএস পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম এবং ফরহাদের নামে ব্যালট পেপারে ক্রস দেওয়া আছে অভিযোগ করে আবিদ বলেন, “রোকেয়া হলের একজন মেয়ে আমাকে অভিযোগ করেছে, ভাই যে ব্যালটপত্র আমাকে দেওয়া হয়েছে, তাতে আগে থেকেই সাদিক কায়েম এবং ফরহাদের নামে ক্রস চিহ্ন দেওয়া রয়েছে।
“অমর একুশে হলেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এটা জেনে যখন আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলাম, তারাও বলেছেন- এটা কীভাবে হয়েছে তারা জানেন না।”
এরকম ঘটনা আরো বেশি হতে পারে বলে অনুমান করে এই ভিপি প্রার্থী আবিদ বলেন, “আমরা জানি না কত ব্যালটে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয়েছে। যেহেতু দুইটা ঘটনার প্রমাণ পেয়েছি, তার মানে এরকম ঘটনা আরো ঘটেছে। অমর একুশে হলের ঘটনায় একজন নির্বাচন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগত প্রবেশ নিয়েও কথা বলেন আবিদ। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আমরা ঘুরে দেখেছি, অনেক বহিরাগত লোক এসেছেন। কেউ বলছে কুড়িগ্রাম থেকে এসেছেন। কেউ বলছেন, আমি এই এলাকার নেতা। আজকে জামায়াতের অনেক নেতা এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা দিন ঘুরে বেড়িয়েছেন।”
“এই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, আমাদেরকে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার নামে প্রতারণা করেছেন। কিন্তু নিরাপত্তা পাস দেওয়ার নামে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করিয়েছেন। এটা কোনোভাবেই বরদাশত করার মতো নয়।”
রোকেয়া হলের সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের এই প্রাথী। তিনি বলেন, “আমি আশ্চর্য হয়েছি, আমাদের মনামী ম্যাম, সহকারী প্রক্টর। আমাদের মেয়ে সূচনাকে বলেছে ‘তোমার ছাত্রত্ব কীভাবে থাকে আমি দেখে নেব’। ম্যাডামের তো এত হিংস্র আচরণ করার প্রয়োজন ছিল না।
“রোকেয়া হলের রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে আমি যতবার প্রবেশ করতে গিয়েছি। তিনি আমাকে বাধাগ্রস্ত করেছেন। আমি দুপুর পর্যন্ত বলেছি, আমি কোনো অভিযোগ করতে চাই না আজকে। আমরা এই গণতন্ত্রকে অনুভব করতে চাই। কিন্তু এগুলো যখন চলতে থাকে, তখন তো আর মুখ বন্ধ করে থাকা যায় না।”
আবিদ বলেন, “দুই কেন্দ্রে কারচুপি হয়েছে, ধরে নিতে পারি। এমন আরো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করে আছি।
“আমরা সুস্থ-স্বাভাবিক ক্যাম্পাস বিনির্মাণ করতে প্রত্যয়ী। একই সাথে এটাও বলে দিতে চাই, যদি ভোট গণনায় কারসাজির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেবে।”