Published : 31 Oct 2023, 06:42 PM
বোনের ছেলেকে চুরি করে বিক্রির অভিযোগে চট্টগ্রামে এক দম্পতিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যে নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শিশুটিকে।
মঙ্গলবার দুই বছর বয়সী শিশুটিকে উদ্ধারের পর আদালতের নির্দেশে মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান কোতোয়ালী থানার এসআই নয়ন বড়ুয়া।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মো. মুজিবর রহমান ওরফে মজিদ (২২), তার স্ত্রী আরজু বেগম (২০) ও আবুল কালাম (৪৫)।
এসআই নয়ন বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিশুটি মজিদের বড় বোনের ছেলে। নিজের আগের ঘরের সন্তান পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে সে কালামের মাধ্যমে নরসিংদী সদর উপজেলার বগারগত এলাকার নিঃসন্তান এক দম্পতির কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিল।
“সোমবার মজিদ ও আরজুকে গ্রেপ্তারের পর কালামের মাধ্যমে শিশুটিকে নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার শিশুটিকে আদালতের মাধ্যমে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মজিদ অপহরণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।”
এসআই নয়ন বড়ুয়া জানান, মজিদ তার বড় বোন, মা, ভাইসহ পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে ভূট্টো কলোনিতে থাকতেন। গত ১৯ অক্টোবর তাকে ওই বাসা থেকে স্ত্রীসহ বের করে দেয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।
তিনি জানান, উদ্ধার করা শিশুটির মা বাসাবাড়িতে কাজ করেন। কাজে যাওয়ার আগে তিনি তার দুই সন্তানকে বাড়িওয়ালার বাসায় রাখেন। গত ২৮ অক্টোবর মজিদ ওই বাসায় গিয়ে ফুসলিয়ে তার ভাগ্নেকে নিয়ে যান।
কালাম ও মজিদ পূর্ব পরিচিত ছিল জানিয়ে এসআই নয়ন বলেন, “কালাম তার পরিচিত এক নিঃসন্তান দম্পতির জন্য একটি শিশু দত্তক নেয়ার কথা বলেছিল। দত্তক দেয়ার মতো কোনো পরিবার আছে কিনা সেটাও জানতে চেয়েছিল মজিদের কাছে।
“তখন মজিদ তার বড় বোনের দুই বছর বয়েসী শিশু সন্তান ইসমাইলকে তার আগের ঘরের সন্তান পরিচয় দিয়ে তাকে দত্তক দেয়ার আগ্রহের কথা বলেছি।”
কালামের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, “মজিদ শিশুটিকে দত্তক দেয়ার জন্য এক লাখ টাকা চেয়েছিল। তাতে সে রাজি হয়ে প্রথম দফায় ২০ হাজার টাকা দিয়েছিল। গত ২৮ অক্টোবর মজিদ শিশুটিকে কালামের কাছে দেয় এবং কালাম ওই দিনই শিশুটিকে নরসিংদী নিয়ে তার পরিচিত নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দিয়ে চট্টগ্রাম চলে আসেন।”
এ ঘটনায় শিশুটির মা গ্রেপ্তার তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।