Published : 28 Jul 2023, 04:22 PM
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাধারণ গণিতে পাসের হার কমে যাওয়ায় তা সার্বিক ফলাফলের ওপরে প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ।
তিনি বলেন, “সাধারণ গণিতে পাসের হার কমে যাওয়ায় সার্বিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এবছর সাধারণ গণিত ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতে পাসের হার ৯০ শতাংশের উপরে।“
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছর এসএসসিতে পাসের হার ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ; যা গতবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট কম।
বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, সাধারণ গণিতে এ বছর পাসের হার ৮৭ দশমিক ১১ শতাংশ। যা বিষয় ভিত্তিক পাসের সর্বনিম্ন হার। ইংরেজিতে পাসের হার ৯০ দশমিক ৪১ শতাংশ।
সর্বোচ্চ পাসের হার বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি বিষয়ে ৯৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এরপর ব্যবসায় উদ্যোগে ৯৯ দশমিক ৩৩ ও পদার্থ বিদ্যায় ৯৯ দশমিক ০৭ শতাংশ।
ফলাফল ঘোষণার সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ বলেন, “এবছর যারা মাধ্যমিকে অংশ নিয়েছে তারা করোনাকালীন সময়ে বিনা পরীক্ষায় নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিল। যার কারণে তাদের অনেকেই পড়া লেখা কম করেছে।“
তিনি জানান, আগের দুই বছর সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে পরীক্ষা নেওয়া হলেও এবার সবগুলো বিষয়ে পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ কারণেও পাসের হার আগের বছরগুলো থেকে কমেছে।
তবে ২০১৯ সালের তুলনায় পাসের হার এ বছর কিছুটা বেশি থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। কোভিড মহামারীর আগে ২০১৯ সালে এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ।
সাধারণ গণিত ও ইংরেজি ছাড়া চট্টগ্রামে অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষায় পাসের হার বাংলায় ৯৮ দশমিক ৯৭, উচ্চতর গণিতে ৯৮ দশমিক ৮৫, সাধারণ বিজ্ঞানে ৯৭ দশমিক ৫৪, রসায়নে ৯৭ দশমিক ৪২, জীব বিজ্ঞানে ৯৮ দশমিক ৩৫, হিসাব বিজ্ঞানে ৯৬ দশমিক ৩৯, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে ৯৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
এবারেও এগিয়ে ছাত্রীরা
এসএসসিতে চট্টগ্রাম বোর্ডের এক হাজার ১০৭টি স্কুলের মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ৫৪ হাজার ৮১৯ জন। যার মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৩ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে এবছর ১১ হাজার ৪৫০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় গত বছর (২০২২) জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৬৬৪ জন। তার আগের বছর (২০২১) এ সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৭৯১ জন।
তবে ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৮ জন ও ২০১৯ সালে সাত হাজার ৩৯৩ জন।
মাধ্যমিকের ফলাফলে দেখা গেছে গত দুই বছরের মত এবারও সার্বিক ফলাফলে এগিয়ে আছে ছাত্রীরা।
এবছর ছাত্রীদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭১ শতাংশ; যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
২০২২ সালেও ছাত্রীরা এগিয়ে ছিল। ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ; ছাত্রদের ৮৭ দশমিক ৩৩।
তার আগের বছর ২০২১ সালে ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ছাত্রদের ৯০ দশমিক ১৪ শতাংশ পাস করেছিল।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে আছে ছাত্রদের চেয়ে।
এবছর জিপিএ-৫ পাওয়া মোট ১১ হাজার ৪৫৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছয় হাজার ৪৪৬ জন। আর ছাত্র সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪ জন।