Published : 20 May 2026, 06:34 PM
ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় আরো তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।
তাদের মধ্যে দুজন ইউসিবিএল ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং একজন আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা। বুধবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে তাদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৩ জুন মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যের দিন ধার্য করেছেন আদালত।"
এ নিয়ে এ মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা হল। মামলাটিতে মোট সাক্ষী ৯৬ জন।
গত ১১ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনেরি মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরুর আদেশ হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ৫ এপ্রিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান গত ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৩৬ জনকে সেখানে আসামি করা হয়।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান গত বছরের ২৪ জুলাই এ মামলা দায়ের করেন। সেখানে ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
তাদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল ও জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলদার নামে দুই জন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়। আর তদন্তের পর নতুন সাত জনকে আসামি করা হয় অভিযোগপত্রে।
ইউসিবিএল ব্যাংক ও জাবেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এ মামলায়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রোটকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীরকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রামের পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।
পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করেন। ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ কোনো ধরনের ‘যাচাই-বাছাই না করে’ ঋণ অনুমোদন করে।
ঋণের টাকাগুলো ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে যা নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্টে ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসেবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।