Published : 21 Jun 2026, 12:19 AM
কলকাতার অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘অভিমান’ সিনেমার ‘ভাবনা এবং চরিত্র চুরি’র অভিযোগ এনেছেন পশ্চিমবঙ্গের পরিচালক সুমন ঘোষ।
আর জবাবে প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, কারও সৃজনশীল ভাবনাকে অসম্মান করার উদ্দেশ্য তার নেই।
কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার এবং সংবাদ প্রতিদিন লিখেছে, ‘অভিমান’ মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার। কদিন আগে এই সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশের পর ‘রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জি’র ভূমিকায় প্রসেনজিৎ আলোড়ন তোলেন। আর সিনেমা মুক্তির দিন সুমন ও প্রসেনজিৎ মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যান।

সুমনের দাবি, ‘অভিমান’ সিনেমায় প্রসেনজিতের চরিত্রের সঙ্গে তার ভাবনায় থাকা একটি সিনেমার এক চরিত্রের মিল রয়েছে। যা সিনেমার টিজার ও ট্রেইলারে ফুটে উঠেছে।
পরিচালক দাবি করেছেন, এমনই এক চরিত্র নিয়ে গত আড়াই বছর ধরে প্রসেনজিতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। অনেক দূর এগিয়েছিল সে সব কথা।
সেই সিনেমা প্রযোজনা করার কথাও নাকি ছিল প্রসেনজিতের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থার।
ফেইসবুকে প্রসেনজিতের উদ্দেশে তার ডাক নাম ধরে এক খোলা চিঠিতে সুমন লিখেছেন, “প্রিয় বুম্বাদা, অত্যন্ত ভারী মন নিয়ে তোমায় এই চিঠি লিখছি। শিল্পের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে এমন কিছু প্রশ্ন বুকে চেপে বসেছে, যা আমার মতো একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে বিচলিত করছে।
“সৃজনশীলতা বা শিল্পের মূল ভিত্তি কী? শুধুই একটা চূড়ান্ত সৃষ্টি, নাকি সেই সৃষ্টি তৈরি হওয়ার পেছনের পারস্পরিক বিশ্বাস, সততা ও নৈতিকতা?”
তিনি লিখেছেন, “অত্যন্ত যত্ন ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি স্ক্রিপ্ট গড়ে তুলেছিলাম— ‘স্টার’। আর তার চরিত্রচিত্রণে ‘স্টার’ হিসেবে শুরু থেকেই তোমাকে ভেবে এসেছি। এই আড়াই বছরে তোমার মতো একজন সিনিয়র, খ্যাতনামা অভিনেতার সাথে আমার বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে। তোমায় ভেবেই চরিত্রটির দুটি ভিন্ন বয়স ও রূপ সাজানো হয়েছিল— ১) জরাগ্রস্ত, অবক্ষয়ী রূপ এবং ২) তরতাজা যৌবনের ইমেজ। এমনকি হোমওয়ার্ক হিসেবে আমি তোমায় নেটফ্লিক্সের ‘এলভিশ’ সিনেমাটি দেখতেও বলেছিলাম। যদিও সেটি একজন মিউজিক সুপারস্টারকে নিয়ে, তবুও আমাদের ছবির ভাবনার সাথে তা প্রাসঙ্গিক ছিল।

“শেষ বার, গত ডিসেম্বর মাসে আমাদের কথা চূড়ান্ত হয় যে ‘এনআইডিয়াস’ ছবিটি প্রযোজনা করবে এবং সেই অনুযায়ী আমার প্রোডাকশন কোঅর্ডিনেটর একটি বাজেটও তোমাকে পাঠায়। তবে এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক যে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তোমার ‘অভিমান’ ছবির টিজার এবং ট্রেলারে প্রায় হুবহু একই রকম চরিত্রায়ণ, একই রকম দৃশ্য এবং উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।”
একই দিনে সুমনের অভিযোগের উত্তর দেন প্রসেনজিৎ। তিনিও ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, “একজন অভিনেতা হিসাবে আমার দায়িত্ব হল আমার হাতে তুলে দেওয়া চিত্রনাট্যকে পর্দায় যথাযথভাবে জীবন্ত করে তোলা। কারও সৃজনশীল বিশ্বাস বা ভাবনার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের কোনও উদ্দেশ্য একেবারেই নেই। সুমনের জন্য আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।”
পরিচালক হিসাবে সুমনকে শ্রদ্ধা করেন বলেও জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ।
সিনেমার প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকেও একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। যেখানে তারা জানিয়েছে, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত এই সিনেমা সম্পূর্ণ মৌলিক গল্প থেকেই তৈরি হয়েছে।