Published : 08 Jul 2026, 05:41 PM
আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি এবং রেললাইন থেকে পানি না সরা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে তথ্য দিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলশহরের শমসের পাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে পানি জমে থাকা অংশ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।
ডুবে থাকা লাইন ধরেই রেলওয়ের একটি গ্যাংকারে করে প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যদের সকাল ১০টার দিকে ষোলশহরের শমসের পাড়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম স্টেশনে ফিরে সাংবাদকিদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ রুটে আপাতত ট্রেন না চালানোর ঘোষণা দেন।
এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাত্রার জন্য যেসব যাত্রী টিকিট কিনেছেন, তারা টিকিটের মূল্য ফেরত পাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা এখানে এসেছি। চট্টগ্রামে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে রেলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চট্টগ্রাম কক্সবাজারের রেল চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটা শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।
“এ জন্য আমরা সরেজমিন ষোলশহর পার হয়ে মূল যে জায়গাটি শমসের পাড়া, ওখানে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম, কোথাও দুই-আড়াই ফুট এমনকি তিন ফুট পর্যন্ত পানি উঠেছে। ওখানে যদি ট্রেন চালাই, বড় কোন দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।
“বড় দুর্ঘটনা থেকে যাতে রক্ষা করা যায়, তাই আপাতত সিদ্ধান্ত হচ্ছে বৃষ্টিপাত না কমা পর্যন্ত এবং রেললাইন থেকে পানি না সরা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।”
চট্টগ্রামে গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। প্রবল বর্ষণে তলিয়ে যায় বন্দর নগরীর বিভিন্ন এলাকা।
এ পরিস্থিতির মধ্যে নগরীর ষোলশহর সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনে পানি ওঠায় আটকা পড়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। এছাড়া রেললাইনের ওপর একটি গাছও ভেঙে পড়ে।
পরে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ট্রেনটিকে ষোলশহর স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। রাত ৯টার দিকে ট্রেনটিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় চট্টগ্রাম স্টেশনে। দিনভর যাত্রীদের চরম ভোগান্তির পর রাত ১১টার দিকে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায়। কিন্তু বুধবার সকালেও রেলললাইনের ওই অংশে পানি থাকায় ট্রেনটি কক্সবাজারের পথে যেতে পারেনি। পরে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাও বাতিল করা হয়।
দুই ট্রেনের যাত্রীরাই চট্টগ্রাম থেকে তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যেতে বাধ্য হন।