১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি, পাহাড় ধসের শঙ্কায় মাইকিং

২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ২২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 May 2025, 09:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:49 PM

নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পর পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপনকারীদের সরাতে মাইকিং শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। 

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বন্দর নগরীতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাতভর ভারি বৃষ্টির পর শুক্রবার দিনভর বৃষ্টি ঝরেছে। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের হিসাবে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ২২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। 

এদিকে অতি ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পাবর্ত্য জেলা রাঙামাটি, খাগঢ়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার পাহাড়ি এলাকায় ভূমি ধসের সর্তকতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

সেইসঙ্গে ভারি বর্ষণের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার রাত থেকে জেলা প্রশাসন বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পাহাড় ধসপ্রবণ এলাকাগুলোতে মাইকিং শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

চট্টগ্র্রাম জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. আল আমিন হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবকরা পাহাড়ে এবং পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলোতে গিয়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছেন। পাহাড় থেকে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। 

“পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যারা অবস্থান করবেন, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।” 

নগরীর ফিরোজশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বি ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন,বৃহস্পতিবার রাতের মত শুক্রবার রাতেও অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

“তাতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। কাল থেমে থেমে সারাদিনই বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, তবে তীব্রতা কমবে। রোববার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসবে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শুক্রবারের বুলেটিনে বলা হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পরে ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার, টাঙ্কির পাহাড়, মতিঝর্ণা, বাটালি হিল ও পোড়া কলোনির পাহাড়, ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়, বিজয় নগর, আকবর শাহ থানার ফয়’স লেক সংলগ্ন ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল এলাকা ও শান্তিনগর এলাকা, ফিরোজ শাহ কলোনি, বেলতলি ঘোনা, চান্দগাঁ থানার আমিন জুট মিলস পাহাড়, ভেড়া ফকিরের পাহাড়, বার্মা কলোনি, বায়েজিদ লিংক রোড এবং সলিমপুরের পাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি আছে। 

২০২৩ সালে করা জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুসারে, বন্দর নগরীর সরকারি-বেসরকারি ২৬টি পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৫৮টি।

এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের মালিকানাধীন ১৬টি পাহাড়ে বসবাস ছিল ৬ হাজার ১৭৫টি পরিবার। আর ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ছিল ৩৮৩টি।

২০০৭ সালের ১১ জুন প্রবল ভারি বর্ষণে নগরী ও আশেপাশের এলাকায় পাহাড় ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৯ বছরে বিভিন্ন সময় পাহাড় ধসে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে নগরীতে। 

পুরনো খবর 

চট্টগ্রামে ২৬ পাহাড়ে ৬৫৫৮ অবৈধ স্থাপনা, মামলায় আটকে উচ্ছেদ

চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে অবৈধ বাসিন্দাদের সরতে ৭ দিন সময়

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার সময় ধস, নিহত ১

পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা 

বৃষ্টিতে পাহাড় ধস, চট্টগ্রামে ৪ মৃত্যু

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে বাবা-মেয়ের মৃত্যু