Published : 03 May 2026, 03:25 PM
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
রোববার সকাল থেকে নগরীর ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী, ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ী ও ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে পরিচালিত জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মেয়র।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।
পরিদর্শনকালে নাগরিক সচেতনতার তাগিদ দিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, "শুধু সিটি করপোরেশনে উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়; নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
“নালা-নর্দমা পরিষ্কার করার পরও যদি যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও বর্জ্য ফেলা হয়, তাহলে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন, তাই নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।”
তিনি জানিয়েছেন গুলজার খাল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেট নির্মাণকাজের কারণে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকাসহ আশপাশের কিছু এলাকায় পানি জমে 'সাময়িক ভোগান্তি' সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
মেয়র বলেন, "বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্লুইস গেট নির্মাণ শেষ হলে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজও চলমান রয়েছে জানিয়ে মেয়র শাহাদাত বলেন, এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “গত বছর আমরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসনে সফল হয়েছি। চলমান খাল সংস্কার ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজ শেষ হলে নগরবাসী আরও সুফল পাবে।”
এ সময় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান রাখেন।
তিনি বলেন,“পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা একটি সামাজিক দায়িত্ব।”
প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক নির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে মেয়র শাহাদাত বলেন, প্রতি সপ্তাহে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ ও নালা পরিষ্কার রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে তা একসময় গণআন্দোলনে পরিণত হবে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের সব শহর আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
গত সপ্তাহে সোম, মঙ্গল ও বুধবার টানা তিনদিন প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা ও কাতালগঞ্জের কয়েকটি অংশে জলাবদ্ধতা ছিল।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা জেনে সংসদে গত মঙ্গলবার নগরবাসীর প্রতি দু:খপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিনই প্রবর্তক মোড় পরিদর্শনে গিয়ে ভোগান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ও সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বুধবার চট্টগ্রামে এসে নানা রকম বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এই এলাকা পরিদর্শন করে নগরীর হিজড়া খাল ও জামালখান খালের বাঁধগুলো ৫ দিনের মধ্যে সরিয়ে নেয়া কথাও জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও মেয়র শাহাদাত।
এর তিনদিনের মাথায় শনিবার আবারও আগের এলাকাগুলোর বেশিরভাগে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এরপর আবারও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর আগের বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে নগরবাসী।
শনিবার বিকেলে দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে বন্দর নগরীর প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, রহমতগঞ্জ, সিরাজুদ্দৌলা সড়ক, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, ঈদগাঁ ও রামপুরা এলাকায় আবারও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
শনিবার রাতে আবারও প্রবর্তক মোড় এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে জলাবদ্ধতা সংকট নিরসনে নগরবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছিলেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
সবশেষ রোববারও বেলা ১টা থেকে নগরীতে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে।