Published : 11 Sep 2025, 08:25 PM
ব্যাংকে হাজার কোটি টাকার ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ লেনদেন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রামে সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মালেক বাদী হয়ে দুদক চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দুটি করেন। একটি মামলায় দিদারের স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদক চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ পরিচালক সুবেল আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকেটে সংসদ সদস্য হওয়া দিদারুল আলম চট্টগ্রামের শিল্পগ্রুপ মোস্তফা হাকিম গ্রুপের পরিচালক ও আলোচিত শিল্প গ্রুপ এস আলমের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের বেয়াই।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলম নিয়মিত আয়কর দাতা। যেখানে দিদারুল আলম ২০টি খাত থেকে মোট আয় দেখান ৬৯ কোটি ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৪০৪ টাকা। আর বিপরীতে খরচ দেখান ১৫ কোটি ৯৬ লাখ ৭৫ হাজার ৭৫ টাকা।
অর্থাৎ আয়কর বিবরণীতে তার মোট আয়ের পরিমাণ উল্লেখ করা হয় ৫৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৯ টাকা।
দুদকের অভিযোগ, তদন্তে তার জ্ঞাত আয় মিলেছে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৭০৮ টাকা। আর মোট আয়ের ১০ কোটি ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টাকার কোনো ‘গ্রহণযোগ্য’ উৎস পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, দুদক তাদের তদন্তে সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের আয়ে ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৭ টাকার অসঙ্গতি পেয়েছে।
এছাড়াও দিদারুল ২০টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৯৪৮ কোটি ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩৮ টাকার লেনদের আড়াল করেছে বলেও মামলায় বলা হয়।
আরেক মামলায় তার স্ত্রী ইসমত আরার বিষয়ে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয়কর বিবরণীতে মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ লিখেছেন ১ কোটি ৭০ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৩ টাকা। কিন্তু তদন্তে তার স্থাবর/অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ পাওয়া যায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার ১৪৩টাকা।
দুদক বলছে, ইসমত আরার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৪৫০টাকা দিদারুল আলম সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছে।