Published : 08 Jun 2026, 12:51 AM
চট্টগ্রামে ‘বাড়তি ভাড়া’ নেওয়ার অভিযোগে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের হাতাহাতি হয়েছে।
রোববার বিকাল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
এতে দলের দুই সদস্য আহত হওয়ার দাবি তুলেছেন এনসিপির নেতারা।
রোববার সকালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত।
এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগে থেকেই আমরা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম। তারা দুই থেকে তিনগুণ বাড়তি ভাড়া নেয়। বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স চালক তাদের ভয়ে মেডিকেলে ঢুকতেই পারে না।
“গত বছরও আমাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণ করে চার্ট করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের দাবি ছিল, সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ওপেন করে দিতে। রোগীর স্বজনরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা যেভাবে ভাড়া নেন, সেভাবে যেন নিজেদের পছন্দমতো অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে পারেন। কিন্তু সেটা করা হয়নি।”
অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির নেতাদের ভাষ্য, তারা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন না। প্রায় বছর খানেক আগে ভাড়া নির্ধারণের পর সবকিছুর খরচ বাড়ায় তারা ‘কিছু বাড়তি’ ভাড়া নেন।
আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, “একজন রোগীর স্বজন নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে যেতে ১২ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে বাধ্য হন। অথচ তালিকা অনুসারে নির্ধারিত ভাড়া অর্ধেক। পরে তিনি বাইরে থেকে কম ভাড়ায় একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসেন। কিন্তু সমিতির সিন্ডিকেটের ভয়ে সেই চালক চলে যান।”
নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় এবং রোগীর স্বজনের ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্সের চালককে ভয় দেখানোর প্রতিবাদ করলে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির লোকজন তাদের উপর হামলা করে বলে অভিযোগ।
এসময় মেডিকেলের পূর্ব গেট এলাকায় এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমিতির লোকজনের হাতাহাতি হয়। সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
পরে সেখানে ‘সিন্ডিকেট করে জনগণের থেকে ২-৩ গুণ ভাড়া আদায় করা চট্টগ্রাম মেডিকেল অ্যাম্বুল্যান্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে’ সংবাদ সম্মেলন করেন এনসিপির নেতারা।
এনসিপি নেতা মঈনুদ্দিন বলেন, “সংবাদ সম্মেলনের জন্য টেবিল বসাতে গেলে তারা সেটা টেনে নিয়ে যেতে চায়। এসময় আমাদের দলের আকবর আলী আশিক এবং মো. শাহাদাত আহত হয়েছেন। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে যতদূর যেতে হয় আমরা যাব।
“যেহেতু মেডিকেল একটা সেবা দেওয়ার জায়গা, তাই আজ আমরা আর কিছু করিনি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে আসতে চাই।”
এদিকে হাতাহাতির অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া এক বছর আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময়ের চেয়ে এখন জ্বালানি খরচসহ সবকিছু বেড়ে গেছে। তাই হাজার দেড়েক টাকা ভাড়া বেশি নেওয়া হয়।”