Published : 12 May 2024, 03:37 PM
চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের চতুর্থ মহানগর হাকিম মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের আদালতে রোববার অভিযোগপত্রটি উপস্থাপন করা হয়।
রাইফার বাবা ও মামলাটির বাদী সাংবাদিক রুবেল খানের আইনজীবী ইকবাল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তকারী কর্মকর্তা যে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছিলেন সেটি আজ আমলে নিয়েছেন বিচারক। এরপর মামলাটির বিচার নিষ্পত্তির জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
নিয়ম অনুসারে, মহানগর দায়রা জজ আদালতে অথবা মহানগর দায়রা জজ নির্ধারিত অন্য কোনো আদালতে এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে। তবে সেই শুনানির দিন ধার্য হয়নি এখনো।
আইনজীবী ইকবাল হোসেন জানান, রোববার শুনানিতে আসামিদের মধ্যে তিনজন উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামির জন্য সময়ের আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।
তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্রটি আদালত আমলে নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী রুবেল খান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আশা করি অভিযোগ গঠন প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই বিচার কাজ শুরু হবে।”
এর আগে গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় এ অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত সংস্থা পিবিআই এর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুক।
যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন- চিকিৎসক বিধান রায় চৌধুরী, দেবাশীষ সেনগুপ্ত ও শুভ্র দেব এবং ম্যাক্স হাসপাতালের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খান।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক সেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, শিশু রাইফার চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক), ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
২০১৮ সালের ২৮ জুন গলাব্যথা নিয়ে নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশু রাইফা পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। দুই বছর চার মাস বয়সী রাইফার মৃত্যুর পর ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতি, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে গড়ে ওঠে আন্দোলন।
সাংবাদিকদের বিক্ষোভের মুখে পুলিশ ওই হাসপাতালে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক ও এক নার্সকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিএমএর চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন।
এরপর চট্টগ্রামের চিকিৎসক ও সাংবাদিকরা মুখোমুখি অবস্থানে যায়; দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেন। এর মধ্যে র্যাব ম্যাক্স হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একদিন সেবা বন্ধ রাখেন মালিকরা, ফলে ভুগতে হয় রোগীদের।
এরপর ওই বছরের ১৮ জুলাই রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান মামলার আবেদন করেন নগরীর চকবাজার থানায়। দুদিন পর সেই মামলা গ্রহণ করা হয়। ওই মামলায় ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়াকত আলী খান, ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেবকে আসামি করা হয়।
২০১৮ সালের ১৪ অগাস্ট হাই কোর্টে একটি রিট মামলা করেন রুবেল খান। ওই মামলার আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি কমিটিও ওই ঘটনার তদন্ত করে।
এই কমিটি কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল প্রতিবেদনে।
পুরনো খবর...
শিশু রাইফার মৃত্যু: অভিযোগপত্রে ৪ চিকিৎসকের নাম
রাইফার মৃত্যু: দুদিন পর মামলা নিল পুলিশ
ডিবি কর্মকর্তাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
শিশু রাইফার মৃত্যু: দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে তদন্ত কমিটি