Published : 29 Apr 2026, 06:13 PM
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক মোড় সংলগ্ন এলাকাগুলো ফের তলিয়ে গেছে।
বুধবার সকালে নগরীতে তেমন বৃষ্টি হয়নি। তবে বেলা ১২টার দিকে বৃষ্টি বাড়তে শুরু করে। এর ঘণ্টাখানেক পর প্রবর্তক মোড়, মেডিকেলের সামনের সড়ক, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন অংশ ও কাতালগঞ্জের কিছু অংশে ফের জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে প্রবর্তক মোড় থেকে বদনা শাহ মাজার পর্যন্ত অংশ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে তৃতীয় দিনের মত। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা।
তবে বুধবার পানির উচ্চতা আগের দিনের তুলনায় কম ছিল। মঙ্গলবার ওই এলাকায় বুক সমান উচ্চতায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, সঙ্গে ছিল তীব্র স্রোত।
প্রবর্তক মোড় লাগোয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গেও এদিন দুপুরে পানি ঢুকে যায়।

এছাড়া হাসপাতালের সামনে সড়কে দুপুরে পানি ওঠে। হাসপাতালের মূল ফটকের বিপরীত পাশে পাঁচলাইশ এলাকার প্রবেশপথটিতেও পানি জমে যায়।
ওই এলাকার বিভিন্ন দোকানে মঙ্গলবার পানি ঢুকে ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়। পানি ঢুকে যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ায় সেখানকার ‘সেন্ট্রাল ল্যাব’ নামের একটি ডায়গনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সেন্ট্রাল ল্যাব এর ম্যানেজার মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “এই এলাকার ব্যবসায়ীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন। আমাদের প্রতিষ্ঠানের এমন কোন মেশিনারি নেই যে নষ্ট হয়ে যায়নি। জানি না কখন আবার প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারব। আমাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
“মেয়র মহোদয় ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাবো দ্রুত যেন কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।”
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় গিয়ে সেখানকার কয়েকটি সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে বিকেল ৩টার দিকেও।
অন্যদিকে নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকার ভেতরের একটি সড়কে এবং কাতালগঞ্জ বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন মূল সড়কেও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আমবাগান কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যেই ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা কেন্দ্র বলছে, বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার টানা ভারি বৃষ্টিতে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকার পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাও তলিয়ে যায়। এজন্য জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে নগরীর হিজড়া খাল ও জামালখান খালে চলমান সংস্কার কাজের লক্ষ্যে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধগুলোকে দায়ী করে সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল করিম বলেন বাঁধ কেটে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
হিজড়া খালটি নগরীর মেহেদীবাগের গোলপাহাড় মোড় থেকে শুরু হয়ে প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, চকবাজার হয়ে বাকলিয়ার ফুলতলী এলাকায় গিয়ে শেষ হয়েছে।
বুধবার বিকেলে প্রবর্তক মোড় এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন চট্টগ্রামবাসীর পাশে থাকার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে সংসদে চট্টগ্রামবাসীর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। উনার নির্দেশে আজকে সব জায়গায় আমি ঘুরছি। কোন জায়গায় কিন্তু পানির সমস্যা নেই।

“আমি আগ্রাবাদ, হালিশহর, রামপুরা, জামালখান, চকবাজার, বাকলিয়া ও জিইসি গিয়েছি। কোন জায়গায় পানির সমস্যা নেই। শুধু এই অংশটুকু হচ্ছে। যেহেতু এখানে খালের রিটেইনিং ওয়াল করার জন্য সমস্ত শিট পাইলগুলো এখানে দিয়ে রেখেছে। এখানে যথেষ্ট অবস্ট্রাকশন আছে। এগুলো এখন তাদেরকে উঠায় নিতে হবে।”
তিনি বলেন, “সেইম কাতালগঞ্জে তারা অবস্ট্রাকশন করে রেখেছে। এগুলো উঠায় ফেললে আস্তে আস্তে ক্লিন হয়ে যাবে। এবং জামালখানেও যেহেতু বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ওই বাঁধগুলো তারা এখনো খুলেনি। ওই বাঁধগুলো আস্তে আস্তে খুলে দেওয়া হচ্ছে। পুরো খোলেনি। খুললে একটা ভালো রেজাল্ট আমরা আশা করতে পারি।”
প্রবর্তক মোড় থেকে বদনা শাহর মাজার অংশে জলাবদ্ধতার কারণে গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে জানিয়ে মেয়র শাহাদাত বলেন, “এজন্য মেডিকেলের পরিচালককে বলেছি বিকল্প এই সড়কটা (নার্সিং কলেজের রোড) খুলে দিতে। তিনি খুলে দিয়েছেন। যাতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে পারে।
“এখানে যেহেতু পানি উঠছে সবাইকে অনুরোধ করছি এই অংশটা ব্যবহার না করে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য। হিজড়া খালে মোট ৩০টা বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। সব বাঁধ এখনো পুরো খুলতে পারেনি। আস্তে আস্তে খুলছে।”

তিনি বলেন, “মূল হচ্ছে কাজটা করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে সেনাবাহিনী। আশা করেছিলাম উনারা আজ এখানে থাকবেন। যারা মেগা প্রজেক্টের দায়িত্ব নিয়েছেন। উনাদের দেখছি না।
“আপনারা আসল জায়গায় কথাটা বলছেন না। ২০১৬ সালে শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে এই প্রজেক্ট না দিয়ে সিডিএকে দিয়ে যে বিশাল ভুল করে গেছে। কেন এই ভুল করল। এই ভুলের কারণে আজ এই সমস্যা হয়েছে। ২০১৬ সালের প্রজেক্ট ১৯ সালে গেছে। ১৯ থেকে ২২ সালে গেছে। আমি ২০২৪ সালে আসার পরে এক বছরে ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।”
বিকেলে নগরীর জামালখান এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে চেরাগী পাহাড় সংলগ্ন অংশে খালের বাঁধ কেটে দেয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতা: ক্ষমা চাইলেন মেয়র শাহাদাত