Published : 29 Apr 2026, 02:29 PM
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টির পর সৃষ্ট জলাবদ্ধতার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
বুধবার সকালে নগরীর প্রবর্তক মোড় সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চান।
মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টির পর নগরীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। শহরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাও জলাবদ্ধতার শিকার হয়।
এরপর মঙ্গলবার বিকেলে ও রাতে এবং বুধবার দুপুরে প্রবর্তক এলাকা পরিদর্শনে যান মেয়র শাহাদাত হোসেন।
জলাবদ্ধতা নিয়ে জনগণের উদ্দেশে কী বলবেন–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গতকালের ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। যদিও এই কাজগুলো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এরা করছে। তারপরও আমি চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে জনগণের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
“জনগণ এই শহরের অংশ। অবশ্যই অবশ্যই এই শহরকে তারা ভালোবাসে। এই শহরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করার জন্যই কিন্তু এই কাজগুলো হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “জনগণকেও শহরের প্রতি দরদ থাকতে হবে। যত্রতত্র ময়লা প্লাস্টিক পলিথিন ককশিট আমরা ফেলব আর সারাক্ষণ মেয়রকে গালিগালাজ করব বা অন্য সংস্থাকে। এটা তো হতে পারে না। এই শহরের দায়বদ্ধতা সবার। এটা একা মেয়রের শহর না। শহরটা সবার।
“আমাদের উপর কনফিডেন্স রাখবেন। কখনো কোনো কথা মিথ্যা বলিনি, বলব না। জনগণের সাথে থাকব, কাজ করে যাব।”
জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “সামনে বর্ষাকাল আসবে। বর্ষা ছয় মাস ধরেই থাকবে। বর্ষার প্রস্তুতি নিয়েই কাজগুলো হচ্ছে। কাজগুলো করতে গিয়ে অনেক সময় ব্যয় হয়েছে। কারণ ভবন ভাঙতে গেলে অনেকে রিট করেছে। সেগুলো নিষ্পত্তি করতেও সময় লেগেছে।
“বাঁধ তুলে নেওয়ার জন্য আমরা বলেছি। আগামীকাল আবার সব সেবাসংস্থার সাথে বসব। সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করব। কীভাবে বাঁধ খুলে সেখান থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া যায়, সে কাজ শুরু হবে। বাঁধ গতকাল থেকে খুলে দিচ্ছে। বেশিরভাগ বাঁধ ইতোমধ্যে খুলে দিয়েছে।”
মঙ্গলবার এক নাগাড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা বৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধতা বেশি হয়েছে দাবি করে মেয়র বলেন, “জনগণকে বলব, ভয়ের কিছু নেই। এখন প্রলম্বিত বর্ষা হয়। সেজন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি।
“গতবার যেভাবে ৫০-৬০ ভাগ জলাবদ্ধতা কমিয়ে দিয়েছি, এবার ৭০-৮০ ভাগ জলাবদ্ধতা কমাতে পারব ইনশাল্লাহ।”
মেডিকেল, চকবাজার, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর এসব এলাকায় পানি বেশি উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “কারণ এখানে প্রায় ৩০টার মত বাঁধ দেওয়া হয়েছে হিজড়া খালের কাজের জন্য। সে কারণে পানি আর যেতে পারেনি। না পেরে পানি উঠে গেছে। বিকেলে বাঁধ খুলে দেওয়ার পর পানি আস্তে আস্তে সরে গেছে। রাতে এখানে এসেছি, সামান্য পানি ছিল তখন।”
মেয়র বলেন, মেগা প্রজেক্টের অধীনে সিডিএ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ২০১৬ সাল থেকে সেখানে কাজ করছে। বেশিরভাগ খালের কাজ শেষ।
বৈশাখে এত ভারি বৃষ্টি হবে সেটা ‘কল্পনা করেননি’ জানিয়ে মেয়র বলেন, “কারো দোষ দিয়ে লাভ নেই। এটা আমাদের ভাগ্যের দোষ। কাজগুলোতে করতে হবে। আর বর্ষার জন্য প্রস্তুতিও তো নিতে হবে। গতবার দেখেছি ছয় মাস বর্ষা ছিল।
“সেই জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ১৬০০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ নিয়েছি। মে মাসের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করা হবে।”
বর্ষা শুরুর আগেই হওয়া জলাবদ্ধতা নিয়ে জনমনে ‘তীব্র প্রতিক্রিয়া’ সৃষ্টির পর মঙ্গলবার বিকেলে খাল দুটির সংস্কার কাজের জন্য দেওয়া বাঁধ কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম। তাতে করে দুই খালে চলমান সংস্কার কাজ আগামী শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগে আর হবে না।
তবে ঝড়-বৃষ্টির সময় শুরুর আগে খালের সংস্কার শেষ না করা ও বাঁধ কেটে না দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে নগরবাসী।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আমবাগান আবহাওয়া অফিসের হিসেবে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তীয় ছয় ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৮১ মিলিমিটার। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৯১ মিলিমিটার।
পুরনো খবর