Published : 21 Jan 2026, 09:00 PM
চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে বাবার দেখানো পথেই হাঁটতে চান বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের এ প্রার্থী বলেছেন, “পাঁচ বছরের মধ্যে আমার উদ্যোগ সামনে চলে আসতে হবে। সফল হব কিনা তা আমিও জানি না। কিন্তু চেষ্টা দৃশ্যমান হতে হবে।
“বাণিজ্যিক রাজধানীর ১৬ দফা আমার বাবা ২০০৩ সালের কেবিনেটে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে পেশ করেছিলেন। দেশনেত্রী কেবিনেটে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। ১৬ দফার একটা প্রস্তাবনা আমার বাবা নিজ হাতে লিখে ম্যাডামের কাছে পেশ করেছিলেন। এটা হল একটা উদ্যোগ, একটা প্রচেষ্টা। কিন্তু বাকি ২২ বছর আমরা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি নাই। যদি সময় সুযোগ আমরা পাই, সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে চট্টগ্রামকে ‘আসল অর্থে’ বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দিতে হবে।”
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কথা বলছিলেন সাঈদ আল নোমান। তিনি বিএনপি সরকারের সময়ের খাদ্যমন্ত্রী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে।
সাঈদ আল নোমান বলেন, “নিজের রাজনৈতিক পদ-পদবি বা কোনো জায়গায় পৌঁছার অভিলাষে আমি এখানে দাঁড়াইনি। আমি সারাজীবনের জন্য মানুষের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধু ১২ তারিখের (ভোটের দিন) জন্য না।
“আমার যে কর্তব্য সেটা সঠিকভাবে করতে পারব কিনা সেই জায়গা থেকে খুব ভয় কাজ করছে। আমার কোনো ভুলে যেন মানুষের কোনো বিপদ না হয়। আমার ভুল হলে আপনারা পথ দেখাবেন। মানুষের জন্য কোনটা উপকারী ও টেকসই উন্নয়ন, সেটাই সংসদের বড় একটা কাজ। নির্বাচিত হতে পারলে সেই লক্ষ্যে কাজ করব।”
নিজ নির্বাচনি এলাকার মধ্যে হালিশহর-পাহাড়তলিতে কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকা, জলাবদ্ধতার সমস্যা, বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট মেরামতে কাজ করার কথা বলেছেন এ প্রার্থী।
তার কথায়, “প্রথম দিন হালিশহরের সাধারণ মানুষ বলেছিল পানির ও রাস্তার সমস্যা এবং কিশোর গ্যাংয়ের কথা। বলেছিল, খুবই বিপদে আছি। এটা অনেক দিনের একটা চর্চা হয়ে গেছে আমাদের শহরে।
“আমার প্রথম দিন থেকে একটি বক্তব্য ছিল আমাদের নেতৃবৃন্দের কাছে, আমার মিছিল বড় হতে হবে না। দয়া করে আমার মিছিলে যেন কোনো কিশোর না থাকে। তাদের রাজনীতি ও মিছিলে অংশ নেবার বয়সও হয়নি, প্রয়োজনও নেই।”
উন্নয়ন কাজে ‘সমন্বয়হীনতার ঘাটতি’ নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগের মেয়ররা একই কথা বলে যাচ্ছেন। এটা মূলত সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসার মত সংস্থাগুলোকে একটা জায়গায় আসতে হবে। পলিসির কোনো রোল থাকলে সেই সুপারিশ আমি অবশ্যই দিব।”
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বন্দর শুধু জাহাজ আসবে আর যাবে এরকম কিছু না। বন্দরে আরো অনেক অ্যাক্টিভিটি আছে। চট্টগ্রামের গুরুত্ব রাষ্ট্রীয়ভাবে, অনেক বিনিয়োগ দরকার।”
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নাহলে কীভাবে জবাবদিহি করবেন, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “সেজন্যই গণতন্ত্র ও নির্বাচন। যদি নির্বাচিত করেন, আমি শুধু বাবার পুত্র নই। নিজেরও কিছু কাজ আছে। মানুষ যদি মনে করে আপনি কিছু করতে পারেননি, তাহলে তারা পাঁচ বছর পর সুযোগ পাবেন আরেকজনকে ভোটের মাধ্যমে নিয়ে আসার।”
নির্বাচনে জয়ের পথে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কিনা, সাঈদ আল নোমান এমন প্রশ্নে বলেন, “জয়-পরাজয় নিয়ে যিনি ভাবলেন, তিনি প্রথমে নিজের কাছে হেরে গেলেন। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তাহলে মানুষের ভোটে যে জিতবে তাকেই সাধুবাদ দিব। অন্য কেউ হলে তাকে সহযোগিতা করব কাজগুলো করার জন্য।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এ এম নাজিম উদ্দিনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।