Published : 19 Jan 2026, 12:11 AM
চট্টগ্রাম নগরীর টাইগার পাস বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক কাজে যোগদান করতে এসে ‘মবের’ মুখে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষাবোর্ডের চিঠি নিয়ে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দিতে গেলে তাকে জোরজবস্তি করে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওই শিক্ষকের।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, স্কুলের একটি কক্ষে ওই শিক্ষকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর তাকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের গভর্নিং কমিটির দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ অগাস্ট মোজাম্মেল হক এবং ওই বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোজ্জাম্মেলের স্ত্রী আমেনা বেগম পদত্যাগ করেছেন।
তবে মোজাম্মেলের দাবি, তিনি পদত্যাগ করেননি। তাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি এ স্কুলে ৩৫ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। ২০২৪ সালের ১৪ অগাস্ট আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ‘মব‘ তৈরি করে হেনস্থা করা হয় এবং জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে আমি চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করি।
“আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন কমিটির চিঠি পেয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার পর বের করে দেওয়া হয়।”
২০১১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন মোজাম্মেল হক। তার স্ত্রী আমেনা বেগম ওই বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক।
রোববার মোজাম্মেল হককে বের করে দেওয়ার সময় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুনুর রশিদসহ অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি ওই শিক্ষকের।
স্কুলের গভর্নিং কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওনার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এটির তদন্ত হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে। এটির কোনো সুরাহা না করে তিনি স্কুলে যোগদান করতে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, তাকে কোনো মব করা হয়নি। উনি আসার পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে তিনি স্কুল ত্যাগ করেন।
শিক্ষক মোজাম্মেল হকের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যারা মব করেছিল তারা রোববারের ঘটনার সময়ও ছিল।
“আমি বোর্ডের চিঠি পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। তারা যোগদান করতে দেবে না, আমি নিশ্চিত ছিলাম। তবে শারীরিক লাঞ্ছনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমি বোর্ডে বিষয়টা জানাব এবং নিরাপত্তার জন্য থানায় যাব।”
চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষাবোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন কমিটি মোজাম্মেল ও তার স্ত্রীর পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়।
এটি আদালতের সিদ্ধান্তের মত দাবি করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত এসেছে। তিনি স্কুলে যোগ দিতে পারবেন। এটি সংশ্লিষ্টদের মেনে চলা উচিত। কেউ সেটি না মানলে আইনের ব্যত্যয় হবে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।