Published : 04 Jul 2026, 05:01 PM
‘বজ্রঝড়’ এই রূপকের আশ্রয় প্যারাগুয়ে কোচ গুস্তাভো আলফারো নিলেন, ফ্রান্সের আক্রমণভাগের শক্তি বোঝাতে। রাফায়েলায় বেড়ে ওঠা সময়ের এক গল্পও শোনালেন এই আর্জেন্টাইন কোচ। যে গল্পের সারমর্ম-ফ্রান্সের আক্রমণভাগের সামনে তাদের লুকানোর পথ নেই!
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়, ফিলাডেলফিয়ায় মুখোমুখি হবে দুই দল। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
শেষ বত্রিশে, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে, আত্মবিশ্বাসে তু্ঙ্গে আছে প্যারাগুয়ে। কিন্তু, কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলের মতো ক্ষিপ্র, ধারাল ফরোয়ার্ডে সাজানো ফ্রান্সের আক্রমণভাগ নিয়ে ভীষণ সতর্ক আলফারো।
“আপনি যদি, ফ্রান্সের গোল গড় অনুপাত দেখেন, এটা ৪-১ এবং এ কারণেই তারা এক নাম্বার।”
“আমি গ্রামের ছেলে: রাফায়েলায় বেড়ে উঠেছি। যখন বজ্রবৃষ্টি হতো, তখন আমাদের লুকানোর কোনো জায়গা থাকত না, কেননা, সেখানে কোনো বজ্রনিরোধকই ছিল না। ফ্রান্স বজ্রবৃষ্টির মতো এবং যখন এটা গোল মুখে পড়বে, তখনই আপনি বুঝবেন এটা আসছে। আমার চোখে বিশ্বকাপের চার দাবিদার: আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ব্রাজিল এবং ফ্রান্স এক নাম্বার।”
বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের সেরা প্রাপ্তি ২০১০ সালের আসরে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলা। ফ্রান্সকে পেরিয়ে যেতে পারলে, ১৬ বছর আগের অর্জনের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে তারা। বর্তমান দলটিকে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেই দলের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। তবে, নিজেদের গল্প লেখতে চান এই আর্জেন্টাইন কোচ।
“২০১০ এর সাথে আমরা নিজেদের তুলনা করতে চাই না। তবে, আমি খুশি যে, তারা আমাদের প্রশংসা করছে। তারা ইতিহাসের অংশ এবং আমরা নিজেদের গল্পটা লেখতে চাই। আশা করি, এমন সুযোগ আরও আসবে আমাদের সামনে। কিছু দলের কাছে, একটা ভালো বিশ্বকাপ মানে সেরা চারে থেকে শেষ করা, কিন্তু আমাদের জন্য বিষয়টা ভিন্ন।”
ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ে সম্ভাবনা ৩ শতাংশ উল্লেখ করলেন আলফারো। পরক্ষণেই অবশ্য শোনালেন, জার্মানির বিপক্ষে পাওয়া জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়াকু ফুটবল খেলবে তার দল।
“আমরা এখানে ঘুরতে আসিনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসেছি। যদিও সম্প্রতিই ছেলেদের বলেছি, আমরা যে অবস্থানে আছি, তাতেই আমরা বিজয়ী। এ কারণে জার্মানির বিপক্ষে জয় বা ফ্রান্সকে আমরা হারাতে পারব কিনা, তাতে আমার কিছুই বদলাবে না। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৩ শতাংশ, কিন্তু একটা বিষয়, একটা দলের বেড়ে ওঠায় সাহায্য করে, সেটা হচ্ছে আত্মবিশ্বাস এবং জার্মানিকে হারিয়ে সেটা অনেক সঞ্চয় করেছি আমরা।