Published : 08 May 2026, 09:03 AM
অনলাইন হয়রানি থেকে নারীদের সুরক্ষায় ‘সাইবার সাপোর্ট ডেস্ক’ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপে তিনি চট্টগ্রাম শহরের অপরাধ, যানজট নিরসনসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।
দুই যুগ আগে চট্টগ্রাম শহরে পুলিশের চাকরি শুরু করা হাসান মো. শওকত আলীর কাছে প্রশ্ন ছিল আগেকার অপরাধ ও এখনকার অপরাধের ধরণে কোনো পার্থক্য তিনি দেখেন কি না।
উত্তরে তিনি বলেন, “অপরাধের ধরনটা পাল্টে গেছে। এখন অনেক কিছু অনলাইনে হচ্ছে। কম কষ্টে বেশি তারা সংগঠিত করছে। এক্ষেত্রে তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করছে।”
পুলিশ কমিশনার বলেন, নীরবে কিছু অপরাধ হচ্ছে অনলাইনে। এর অন্যতম ভুক্তভোগী নারীরা। অনলাইনে এমন অনেক ঘটনা ঘটে, যা নারীরা কাউকে বলতে পারে না।
“নারীরা যাতে নিঃসংকোচে তাদের কথা বলতে পারেন, সেজন্য আমরা ‘সাইবার সাপোর্ট ডেস্ক’ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি,” বলেন তিনি।
হাসান মো. শওকত আলী বলেন, এ ডেস্কে দায়িত্বে থাকবেন নারী অফিসাররা, যাতে ভুক্তভোগী নারীরা গিয়ে নির্বিঘ্নে, নির্ধিধায়, নিঃসংকোচে কথা বলতে পারেন আরেকজন নারীর কাছে। ভুক্তভোগীদের কথা শুনে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে।
তিনি মনে করেন, বর্তমানে চট্টগ্রামের অন্যতম বড় সমস্যা ‘কিশোর গ্যাং’। পুলিশ বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে।
অষ্টাদশ বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা শওকত আলী গত ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ৩৪তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে কাজ করা শওকত আলীর কাছে প্রশ্ন ছিল, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন কী? উত্তরে তিনি বলেন মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির কথা।
“কিশোরদের মনে একটা ‘ফ্যান্টাসি’ ও ‘হিরোইজম’ কাজ করে। এর থেকে তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। এটি একটি সামাজিক অপরাধ। এটা দমনের জন্য প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ।”
তিনি বলেন, “আমরা এ অপরাধটি প্রতিরোধের কাজ করছি। সম্প্রতি চকবাজার এলাকায় যে কলেজ ছাত্র মারা গেছে, সে ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা পুরোপুরি দমনের জন্য পুলিশের তৎপরাতার পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ।”
পুলিশ কমিশনার শওকত আলীর দাবি, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। এর বিরুদ্ধে কিছু ‘মব’ সংগঠিত করার চেষ্টা হয়েছে। পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদা দাবি ও গুলি ছোড়ার কয়েকটি ঘটনা চট্টগ্রামে বেশ আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে।
শওকত আলী বলেন, “আমার মূল টার্গেট চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ। সন্ত্রাসীরা কীভাবে কোন পথে এগোচ্ছে সেটা আগে আমাদের ধরতে হবে। সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
“বায়েজিদ এলাকায় সাজ্জাদ বাহিনীর বিষয়টি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে সেটা নিয়ে আমি পুরোপুরি খুশি না। আমি আরও বেশি কিছু চাই।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের চাঁদাবাজির মত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা বেশ কিছু কৌশল নিয়েছি। সব কৌশল বলা যাবে না। তবে অচিরেই আপনারা একটা ফলাফল দেখবেন।”
নগরজুড়ে সিসি ক্যামেরায় নজরদারি বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন চট্টগ্রাম নগরের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “অপরাধ ও ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতে আগে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। সিটি করপোরেশন ও সিএমপি যৌথভাবে এ কাজ করবে।”
চট্টগ্রামের যানজটের সমস্যা নিয়ে তার ভাষ্য, “নগরীতে কিছু সড়ক শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো থেকে হকারসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সড়ক নিয়ে এরকম কিছু কাজের পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি ট্রাফিক সিস্টেমকে সিগন্যাল লাইটের আওতায় আনারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”