১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাঁশখালীতে পানিবন্দি ঘর থেকে হাঁড়িতে করে শিশু উদ্ধার

জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে সেখানে উদ্ধার কাজে যায় ফায়ার সার্ভিস।

বাঁশখালীতে পানিবন্দি ঘর থেকে হাঁড়িতে করে শিশু উদ্ধার
বাঁশখালী উপজেলার চেচুরিয়ায় পানিবন্দি ঘর থেকে শিশুটিকে হাঁড়িতে করে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2026, 02:16 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:37 PM

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চেচুরিয়া এলাকায় জলাবদ্ধতার মধ্যে কুড়ে ঘরে আটকা পড়া এক শিশু, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধাসহ ১৩ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। 

বাঁশখালী উপজেলার জলকদর খালের উপর চেচুরিয়া ব্রিজ সংলগ্ন ওই এলাকা বুধবার পানিতে তলিয়ে যায়। বুধবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে সেখানে উদ্ধার কাজে যায় ফায়ার সার্ভিস। 

পরে ওই উদ্ধার কাজের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী বুক সমান পানিতে রশি ধরে এগোচ্ছেন। শিশুটিকে বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে তাদের মধ্যে একজনের হাতে ছাতা ধরা। 

পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের হাতে ধরা একটি হাঁড়ির মধ্যে ৮ মাস বয়সী ওই শিশুকে শুয়ে থাকতে দেখা যায। শিশুটিকে নিরাপদে ওই এলাকা পার করেন তারা। 

জানতে চাইলে বাঁশখালী ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাত সাড়ে ৮টার দিকে ট্রিপল নাইন থেকে ফোন পেয়ে আমরা জানতে পারি, চেচুরিয়ায় ১৩ জন মানুষ আটকা পড়েছেন পানিতে। 

বুক সমান পানিতে রশি বেঁধে ও মাথায় ছাতা ধরে শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বুক সমান পানিতে রশি বেঁধে ও মাথায় ছাতা ধরে শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

“সেখানে গিয়ে রশিসহ সব সরঞ্জাম সেট করতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগে। তারপর ওই বাড়ি থেকে বৃদ্ধা, গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির বয়স আট মাস। এছাড়া সাত-আট বছর বয়সী আরো শিশু ছিল।” 

সেখানে পানির স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজ শেষ করতে রাত সাড়ে ১০টা পেরিয়ে যায় বলে জানান তিনি। 

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে। 

“এখন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে আরো ৩০ জনকে উদ্ধার করেছি। এছাড়া রাস্তার উপর বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো সরানো হয়েছে।” 

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকেও উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ পানিবন্দি থাকার খবর পাচ্ছিলেন বলে জানান তিনি। 

জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বুধবার রাতে জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত বাঁশখালী উপজেলায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষ পানিবন্দি ছিল।