Published : 15 Sep 2025, 08:13 PM
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে দিনে গড়ে ৮০০ টন বর্জ্য পড়ছে জানিয়ে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এতে নদীটির পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সোমবার নগরীর টাইগারপাসে অস্থায়ী নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘চট্টগ্রামে প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি’ প্রকল্পের উদ্বোধনী সভায় তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে দৈনিক পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য তৈরি হয়। যার মধ্যে আমরা ২ হাজার ২০০ টন সংগ্রহ করতে পারছি। আর ৮০০ টন ঠিকমত সংগ্রহ না হওয়ার কারণে নালা-খাল হয়ে নদীতে গিয়ে পড়ছে; কর্ণফুলী নদী দূষণ হচ্ছে।
“যে বর্জ্য আমরা সংগ্রহ করতে পারছি না, তা পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যর ক্ষতি করছে; নালা ও খালগুলোতে বাধা সৃষ্টি করছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে জমা হচ্ছে।”
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন(সিসিসি) এবং দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামে বর্জ্য বিষয়ক একটি সমীক্ষা চালানো হয়। সেসময়ের সমীক্ষার তথ্য অনুসারে, নগরীতে প্রতিদিন আনুমানিক ২ হাজার ১০০ টন বর্জ্য তৈরি হয়, যার ৬৮ শতাংশই গৃহস্থালী।
এরমধ্যে ৮০ শতাংশ বর্জ্য সিটি করপোরেশন সংগ্রহ করতে পারত বলে ওই সমীক্ষায় তথ্য উঠে আসে। বাকি ২০ শতাংশ বর্জ্য নগরীর নালা, খাল হয়ে নদীতে পড়ে।
এছাড়া ২০১৯ সালে ‘চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দূষণ রোধ, নাব্যতা বৃদ্ধি এবং অবৈধ দখল রোধকল্পে প্রণীত খসড়া মহাপরিকল্পনা’ অনুসারে নগরীতে ৫০ হাজার স্যানিটারি এবং ২৪ হাজার কাঁচা শৌচাগার আছে।
এখন পর্যন্ত নগরীতে কোনো সুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকায় যার প্রায় সব পয়ঃবর্জ্য নালা ও খাল হয়ে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ে। সঙ্গে কিছু গৃহস্থালি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যেরও শেষ গন্তব্য কর্ণফুলী।

সোমবারের সভায় মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামকে আমি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি সিটি হিসেবে গড়তে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিবেশ দূষণরোধে প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে।”
সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সর্দার এম. আসাদুজ্জামান বলেন, প্লাস্টিককে আর বর্জ্য হিসেবে দেখা যাবে না। এতে রয়েছে সম্পদে রূপান্তরের সুযোগ। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চট্টগ্রাম গড়তে সিটি করপোরেশন এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবে।
“এই প্রকল্প প্রমাণ করবে, অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব। প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে স্থানীয় অংশীদারত্ব, নারী-সংবেদনশীল নীতি এবং সবুজ উদ্যোগে বিনিয়োগ অপরিহার্য।”
সভায় জানানো হয়, ‘চট্টগ্রামে প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি’ শীর্ষক এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রবাহ কমানো।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মীদের—বিশেষ করে নারী কর্মীদের জীবিকা ও কর্মপরিবেশ উন্নত করাও এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮ লাখ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম শহরের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য কর্ণফুলী নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশে পরিবেশ, মাছের ভাণ্ডার এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।
এই প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি প্রকল্প চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং টাঙ্গাইলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো ১৫ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত প্রায় ২ হাজার কর্মীকে সহায়তা দেওয়া, যার মধ্যে প্রায় ৬০০ জন নারী।
এ লক্ষ্যে ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও সিসিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিসিসির সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি ও উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা।