১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে জোড়া খুনের মামলায় ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার, অন্য মামলায় রিমান্ড

জোড়া খুনের মামলায় আরও দুই আসামিকে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Apr 2025, 09:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:26 PM

চট্টগ্রামে প্রাইভেট কারকে ধাওয়ার পর গুলি করে জোড়া খুনের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

রোববার শুনানি শেষে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর হাকিম সরকার হাসান শাহরিয়ার এ আদেশ দেন। 

এই মামলায় অপর দুই আসামির চার দিন করে রিমান্ডও মঞ্জুর করেছে আদালত। তারা হলেন- মো. বেলাল ও মো. মানিক।

এছাড়া অন্য একটি হত্যা মামলায় ছোট সাজ্জাদকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাকলিয়া থানার জোড়া খুনের মামলায় ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করে।

“ এ মামলায় অন্য দুই আসামি বেলাল ও মানিককে সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তাদের প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালাত।”

এর আগে ঢাকা থেকে আটকের পর ছোট সাজ্জাদকে চান্দগাঁও থানার একটি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, চান্দগাঁও থানার মামলায় ছোট সাজ্জাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ। রোববার শুনানি শেষে বিচারক এস এম আলাউদ্দিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গত ৩০ মার্চ ভোর রাতে নগরীর চকবাজার চন্দনপুরা এলাকায় ধাওয়া করে প্রাইভেট কারে গুলি করে দুই জনকে হত্যা করা হয়। আহত হন আরও দুই জন।

নিহতরা হলেন- বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৬ এর মধ্যে। আহতরা হলেন- রবিন ও হৃদয়।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ১ এপ্রিল সাতজনের নামে নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলা করেন নিহত বখতেয়ার উদ্দিন মানিকের মা ফিরোজা বেগম।

তাতে তিনি অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা ’শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর ‘পরিকল্পনায়’ চট্টগ্রামে প্রাইভেট কারকে ধাওয়ার পর গুলি করে দুইজনকে খুনের ঘটনা ঘটেছে।

মামলায় ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নার সঙ্গে মো. হাসান, মোবারক হোসেন ইমন, রায়হান ও বোরহানসহ সাত জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার পর চকবাজার থানার ওসি জাহিদুল কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, বাকলিয়া রাজাখালী ব্রিজ থেকে প্রাইভেট কারটিকে ধাওয়া করা হয়। পরে চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস রোডের মুখে সেটিতে গুলি চালিয়ে দুই জনকে খুন করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রবিন রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রাইভেট কারে চালকসহ মোট ছয়জন ছিলেন। নিহত মানিক গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তার পাশে বসা ছিলেন সরোয়ার হোসেন বাবলা।

“শাহ আমানত ব্রিজ সংলগ্ন বালুর মহাল থেকে বের হওয়ার কিছু সময় পর কয়েকটা মোটরসাইকেলে কয়েকজন এসে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। বহদ্দারহাটের দিকে যাওয়ার কথা থাকলেও ‘জীবন বাঁচাতে’ আমাদের গাড়ি বাকলিয়া এক্সেস রোডের দিকে চলে যায়। গাড়িতেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন আব্দুল্লাহ।”

বৃহস্পতিবার টানা অভিযান চালিয়ে নগরীর চান্দগাঁও খাজা রোড ও ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন- মো. বেলাল (২৭) ও মো. মানিক (২৪)।  তাদের মধ্যে বেলাল সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন এবং মানিক মোটর সাইকেল সরবরাহ করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

তার আগে ১৫ মার্চ রাতে ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মল থেকে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

বেলাল ও মানিক আলোচিত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের অনুসারী বলে জানা গেছে। এ দুজন বাকলিয়ার জোড়া খুনের মামলার এজাহার নামীয় আসামি না হলেও খুনের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।

বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ঘটনার দিনের সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরা ফুটেজে বেলালকে গুলি ছুঁড়তে দেখা গেছে। গুলি ছুঁড়ে সে একটি মোটর সাইকেলে উঠে চলে যেতেও দেখা গেছে।

গত ২১ অক্টোবর বিকালে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় দোকানে বসে চা পানের সময় তাহসিন নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে কালো রঙের একটি গাড়িতে করে আসা লোকজন।

ওই ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় তাহসিনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে।

হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের জামালের ছেলে সাজ্জাদ নগরীর বায়েজিদ, অক্সিজেন, চান্দগাঁও এলাকায় পরিচিত ‘ছোট সাজ্জাদ’ বা ‘বুড়ির নাতি’ হিসেবে।

এই ‘ছোট সাজ্জাদ’ হলেন হুলিয়া নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা সাজ্জাদ হোসেনের অনুসারী।

আত্মগোপনে থাকা ছোট সাজ্জাদ গত ২৮ জানুয়ারি রাতে ফেইসবুক লাইভে এসে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আরিফ হোসেনকে পেটানোর হুমকি দেন।

এরপর ৩০ জানুয়ারি তার সন্ধান চেয়ে ‘উপযু্ক্ত’ পুরস্কার ঘোষণা করে সিএমপি। 

পুরনো খবর:

'ছোট সাজ্জাদ ও স্ত্রীর পরিকল্পনায়' গাড়িতে জোড়া খুন: নিহতের মা

ছোট সাজ্জাদকে 'ধরিয়ে দিয়ে' এখন নিরাপত্তা চেয়ে নারীর মামলা

শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ারকে 'টার্গেট করেই' গাড়িতে গুলি

লাইভে এসে 'পেটানোর হুমকি' সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের, ওসির জিডি

চট্টগ্রামে জোড়া খুনের ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার থামিয়ে গুলি করে ২ জনকে হত্যা

'কাড়ি কাড়ি টাকা ছেড়ে' ছোট সাজ্জাদকে বের করে আনার ঘোষণা স্ত্রীর

চট্টগ্রামে পুলিশকে গুলি করে পালানো 'ছোট সাজ্জাদ' ঢাকায় গ্রেপ্তার

সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে ধরিয়ে দিতে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা

বড় সাজ্জাদের প্রশ্রয়ে অপরাধ কর্মে ছোট সাজ্জাদ: পুলিশ