ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৩৫ রোহিঙ্গা চট্টগ্রামে আটক
দালালদের মাধ্যমে উখিয়া যাচ্ছিলেন তারা। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের বেড়ি বাঁধ এলাকায় ধরা পড়েন তারা।
নোয়াখালীর ভাসনচর থেকে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুসহ ৩৫ জন রোহিঙ্গা ধরা পড়েছে চট্টগ্রামে।
শনিবার পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের বেড়ি বাঁধ এলাকা থেকে তাদের আটক করে র্যাব।
র্যাব-৭ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন বেড়ি বাঁধে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে অভিযানে নেমে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের পতেঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সি শিশুরা রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
আটক হওয়া রোহিঙ্গারা পতেঙ্গা থানা চত্বরে সাংবাদিকদের বলেন, তারা কয়েকটি পরিবারের সদস্য। ভাসানচরে তাদের ‘সুযোগ-সুবিধা’ কম থাকায় এবং ‘আয় রোজগারের পথ’ না থাকায় দালালের মাধ্যমে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের উখিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।
এজন্য দালালদের মাথাপিছু তিন থেকে চার হাজার টাকা করে দেওয়ার দাবি করেন আটক রোহিঙ্গারা।
তাদের অনেকেই বলেন, তারা আর ভাসানচরে ফিরে যাবেন না। উখিয়া তাদের জন্য সুবিধাজনক স্থান।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছে। এদের প্রত্যাবাসন আটকে থাকায় সেখানে নানা সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু করে সরকার।
১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে দফায় দফায় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।
ভাসানচরে পাঠানোর পর রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সময়ে সেখান থেকে পালানো এবং আটকের খবর এসেছে।
