পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার বেলাল ও মানিক আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী।
Published : 03 Apr 2025, 04:30 PM
চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার ধাওয়ার পর গুলি করে জোড়া খুনের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার টানা অভিযান চালিয়ে নগরীর চান্দগাঁও খাজা রোড ও ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- মো. বেলাল (২৭) ও মো. মানিক (২৪)। তাদের মধ্যে বেলাল ‘সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন’ এবং মানিক মোটর সাইকেল সরবরাহ করেছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ বলছে, বেলাল ও মানিক আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী।
বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তার দুজন এজাহারনামীয় আসামি না হলেও হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সিসি ক্যামেরার ভিডিও, কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে তাদের দুজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।”
তিনি বলেন, ঘটনার দিনের সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে বেলালকে গুলি ছুঁড়তে দেখা গেছে। গুলি ছুঁড়ে সে একটি মোটর সাইকেলে উঠে চলে যায়।
ঘটনার দিন বেলাল যে পোশাকে গিয়েছিলেন, সেই পোশাকও তার বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে বলে জানান পরিদর্শক মোজাম্মেল।
তিনি বলেন, বেলাল যে মোটর সাইকেলে করে পালিয়েছিলেন, সেটির মালিক মানিক। তিনি ‘হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায়’ জড়িত ছিলেন।
গত ৩০ মার্চ ভোর রাতে নগরীর চকবাজার চন্দনপুরা এলাকায় ধাওয়া করে প্রাইভেট কারে গুলি করে দুই জনকে হত্যা করা হয়। আহত হন আরও দুই জন।
নিহতরা হলেন- বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৬ এর মধ্যে। আহতরা হলেন- রবিন ও হৃদয়।
হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাতজনের নাম দিয়ে নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলা করেন নিহত বখতেয়ার উদ্দিন মানিকের মা ফিরোজা বেগম।
তিনি অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা ’শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর 'পরিকল্পনায়' দুইজনকে খুনের ওই ঘটনা ঘটে।
মামলায় সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নার পাশাপাশি মো. হাসান, মোবারক হোসেন ইমন, রায়হান ও বোরহানসেহ সাত জনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার পর চকবাজার থানার ওসি জাহিদুল কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, বাকলিয়া রাজাখালী ব্রিজ থেকে প্রাইভেট কারটিকে ধাওয়া করা হয়। পরে চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস রোডের মুখে গুলি চালিয়ে দুই জনকে খুন করা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রবিন রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রাইভেট কারে চালকসহ মোট ছয়জন ছিলেন। নিহত মানিক গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তার পাশে বসা ছিলেন সরোয়ার হোসেন বাবলা।
সরোয়ার হোসেন বাবলাও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। ছোট সাজ্জাদের মত তিনিও একসময় আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের অন্যতম আসামি সাজ্জাদ হোসেনের অন্যতম সহযোগী ছিলেন।
পরে বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে আলাদা দল গড়েন সরোয়ার। তখন সাজ্জাদের ডান হাত হয়ে ওঠেন ছোট সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি সাজ্জাদ।
বায়েজিদ, চান্দগাঁও এলাকার একটি বড় অংশে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে ছোট সাজ্জাদ ও সরোয়ারের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের খবর শোনা যায়। ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে এবং সরোয়ার নিজেই তার অনুসারীদের দিয়ে চাঁদাবাজি করতেন।
রবিনের সন্দেহ, গত ১৫ মার্চ ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হওয়ার পেছনে সরোয়ারের হাত থাকতে পারে–এমন সন্দেহ থেকে তাকে খুন করতে সাজ্জাদের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
সেদিনের ঘটনার পর সরোয়ার ও ইমনের কোনো হদিস পায়নি পুলিশ।
পুরানো খবর:
'ছোট সাজ্জাদ ও স্ত্রীর পরিকল্পনায়' গাড়িতে জোড়া খুন: নিহতের মা
চট্টগ্রামে গাড়িতে ২ খুন: তৃতীয় দিনে এসে মামলা
শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ারকে 'টার্গেট করেই' গাড়িতে গুলি
চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার থামিয়ে গুলি করে ২ জনকে হত্যা
চট্টগ্রামে পুলিশকে গুলি করে পালানো 'ছোট সাজ্জাদ' ঢাকায় গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের 'শীর্ষ সন্ত্রাসী' সরোয়ার গ্রেপ্তার