“প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চাঁদাবাজি, গার্মেন্টেসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী কার্যক্রম করত।
Published : 16 Mar 2025, 03:47 PM
প্রবাসে অবস্থান করা ‘বড়’ সাজ্জাদের প্রশ্রয়ে ছোট সাজ্জাদ চট্টগ্রামের বায়েজিদ, চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করত বলে ভাষ্য পুলিশের।
আগের রাতে ঢাকায় ছোট সাজ্জাদ ধরা পড়ার পর রোববার সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আসেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ।
তিনি বলেন, ছোট সাজ্জাদকে ধরার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় করা হচ্ছিল। পাশাপাশি তাকে ধরার জন্য চট্টগ্রাম পুলিশের একটি দল কয়েকদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিল।
পুলিশ সদর দপ্তরের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে সাজ্জাদকে ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা আজিজ।
গ্রেপ্তার সাজ্জাদকে চট্টগ্রাম জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী বর্ণনা করে তিনি বলেন, “গত অগাস্টে অক্সিজেন এলাকায় জোড়া খুন এবং পরবর্তীতে চান্দগাঁও এলাকায় প্রকাশ্যে একজনকে গুলি করে হত্যা করেছে সে। পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চাঁদাবাজি, গার্মেন্টেসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী কার্যক্রম করত।
“দুবাই প্রবাসী সাজ্জাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে সে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন ধরনের হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপরাধী কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করত।”
চট্টগ্রামে সাজ্জাদকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, “সে দুর্ধর্ষ প্রকৃতির সন্ত্রাসী। তাকে যখন ধরতে যাওয়া হয়েছিল, সে গুলি ছুড়ে পাঁচতলা একটি ভবন থেকে আরেকটি ভবনে পালিয়ে চলে যায়। এসময় দুজন লোক আহত হয়েছিল।”
হাসিব আজিজ বলেন, “বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়ার পরই সে (সাজ্জাদ) প্রকাশ্যে তাকে লাঞ্ছিত করার হুমকি দিয়েছিল। এরপরই মূলত তাকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।”
‘ঢাকাতেও পালানোর চেষ্টা করেছিল’
সিএমপি কমিশনার বলেন, শনিবার সাজ্জাদ বসুন্ধরা শপিংমলে গিয়েছিল। খবর পেয়ে ঢাকায় অবস্থান করা সিএমপির সাদা পোশাকের একটি দল সেখানে যায়।
“এসময় সে পালানোর চেষ্টা করে। তখন পুলিশ আশপাশের লোকজনের সহায়তা নেয়। পরে তেজগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় সাজ্জাদকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।”
এদিকে শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সাজ্জাদকে ছেড়া শার্টে দেখা গেছে।
সাজ্জাদ পালানোর চেষ্টা করায় পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তিতে তার শার্ট ছিড়ে যেতে পারে বলে ধারণা কমিশনার হাসিব আজিজের।
‘থাকত গহীন এলাকায়’
এক প্রশ্নের জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের কাছে তথ্য ছিল গ্রেপ্তার এড়াতে সাজ্জাদ রাউজান, রাঙ্গুনিয়ার গহিন এলাকায় অবস্থান করতেন। যেখানে অভিযান করাটা ছিল অনেক দুরূহ। মাঝে দুই-একবার শহরে এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই চলে যেতেন।
“তাকে প্রতিনিয়ত নজরদারিতে রাখার কারণে সে ধরা পড়েছে।”
৭ দিনের হেফাজতে চায় পুলিশ
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) জাহাঙ্গীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সাজ্জাদের বিরুদ্ধে জোড়া খুনসহ ১৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে সবগুলোর মামলায় রিমান্ডে আনা হবে।
প্রথম ধাপে চান্দগাঁও থানায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা মামলায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
গত বছরের ২১ অক্টোবর বিকালে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় দোকানে বসে চা পানের সময় তাহসিন নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে কালো রঙের একটি গাড়িতে করে আসা লোকজন।
ওই ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় তাহসিনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে।
হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের জামালের ছেলে সাজ্জাদ নগরীর বায়েজিদ, অক্সিজেন, চান্দগাঁও এলাকায় পরিচিত ‘ছোট সাজ্জাদ’ বা ‘বুড়ির নাতি’ হিসেবে।
এই ‘ছোট সাজ্জাদ’ হলেন হুলিয়া নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা সাজ্জাদ হোসেনের অনুসারী।
দুই যুগ আগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর সংযোগ সড়কে দিনের বেলায় আড়াআড়ি বাস রেখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীবাহী মাইক্রোবাস আটকে গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যার আসামি ছিলেন বড় সাজ্জাদ। তার অনুসারী হিসেবে তার পক্ষে বায়েজিদ ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি করেন ছোট সাজ্জাদ।
আরও পড়ুন
সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে ধরিয়ে দিতে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা
চট্টগ্রামে পুলিশকে গুলি করে পালানো 'ছোট সাজ্জাদ' ঢাকায় গ্রেপ্তার
লাইভে এসে 'পেটানোর হুমকি' সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের, ওসির জিডি