Published : 26 Feb 2026, 09:31 AM
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে যখন কথা বলতে শুরু করলেন দাসুন শানাকা, গ্যালারি থেকে ভেসে এলো দুয়োর সুরে আর হইচই। কান ঝালাপালা করা সেই আওয়াজের মধ্যেই তিনি বলতে থাকলেন, “ঘরের মাঠের দর্শকদের এতটা হতাশ করা বিব্রতকর…” এবং আরও নানা কিছু। তবে নিজেদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি লঙ্কান অধিনায়ক তীব্র হতাশা প্রকাশ করলেন লোকের প্রতিক্রিয়া নিয়েও। এমনকি এখানে সরকারের হস্তক্ষেপের অনুরোধও জানালেন তিনি।
দেশের মাঠের বিশ্বকাপ থেকে শ্রীলঙ্কা ছিটকে গেছে সুপার এইটের একটি ম্যাচ বাকি রেখেই। গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ের কাছে হারলেও সুপার এইটে উঠতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু এরপর ইংল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ডের কাছে টানা দুই পরাজয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে বিদায়।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বুধবার নিউ জিল্যান্ডের কাছে স্রেফ বিধ্বস্ত হয়েছে লঙ্কানরা। পরে সংবাদ সম্মেলনে শানাকা তুলে ধরলেন বাইরের নেতিবাচক আবহের কথা।
গত ৮-১০ মাস ধরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্স পড়তির দিকে থাকায় ক্রিকেট অনুসারীদের তুমুল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে দলকে। শানাকা বললেন, এই ব্যাপারগুলি বাজেভাবে স্পর্শ করছে দলকে।
“অনেক সময়ই আমরা যা দেখি এবং শুনি, তা নেতিবাচক। ক্রিকেটার হিসেবে আমরা যতই ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি না কেন, বাইরে নেতিবাচকতা স্পর্শ করেই। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য এটা একটা বড় ক্ষতি। আমাদের স্রেফ এই একটি খেলাই আছে এবং জানি না আমরা এটি রক্ষা করতে পারব কি না। আপনি যদি স্টেডিয়ামের বাইরে তাকান, দেখতে পাবেন কত মানুষ মাইক্রোফোন হাতে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে এবং লোকেরা খেলা না দেখেও অনেক কিছু বলে যাচ্ছে।”
শানাকার মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার স্বার্থে সরকারের হস্তক্ষেপ করে হলেও এই নেতিবাচকতার হাওয়া বন্ধ করা উচিত।
“এত নেতিবাচকতা কেন ছড়ানো হচ্ছে? হ্যাঁ, আমরা একটি বিশ্বকাপ হেরেছি এবং কারণগুলি আমরা জানি। সবারই উদ্বেগ আছে। কিন্তু এসব নিয়ে কথা বলা এবং সংশোধন করার চেয়েও সামনে চলে আসলে নেতিবাচকতা। আমরা তো এখন খেলছি ও একসময় চলে যাব, তবে ভবিষ্যতে যারা আসবে, তাদের জন্য সরকার যদি এসব (নেতিবাচকতা)বন্ধ করতে পারে, তাহলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে।”
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থাকলেও অবশ্য নিজেদের পারফরম্যান্সের জন্য সমর্থকদের কাছে দুঃখপ্রকাশও করলেন অধিনায়ক।
“দল চেষ্টা করছে পারফর্ম করার, বিশেষ করে বিশ্বকাপে… জানি না, এই দলের আর কেউ কখনও দেশের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে কি না। সবারই তাড়না ছিল সেমি-ফাইনালে খেলার। সবারই ইচ্ছে ছিল। তবে প্রত্যাশার প্রতি সুবিচার করতে পারিনি আমরা। সমর্থকদের চাওয়া পূরণ করতে পারিনি। এজন্য দুঃখিত।”
পাল্লেকেলে শনিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ।