Published : 18 Jun 2026, 08:05 PM
অতিরিক্ত গরমে আর আইপিএলের ম্যাচ আয়োজন করতে চায় না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআই। সংস্থাটির সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া সেই লক্ষ্যে ২০২৭ সাল থেকে আসর আরও আগে শুরু করতে চায়।
সাধারণত মার্চের শেষ সপ্তাহে আইপিএল শুরু হয়, আগামী আসরগুলো ১০ মার্চ থেকে ১৫ মের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ভারত।
২০২৪ সালে পরবর্তী তিন আসরের জন্য উইন্ডো নির্ধারণ করে বিসিসিআই। সে অনুযায়ী ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত আইপিএলের ২০তম আসর মাঠে গড়ানোর কথা।
আইপিএলের সবশেষ আসরে বেশ কয়েকটি ম্যাচে বাগড়া দিয়েছিল বৃষ্টি। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে সাইকিয়া বললেন, আগামী আসরগুলোতে এই বিঘ্ন এড়াতে চান তারা।
“এই বছর ২৯ মার্চ (২৮) আইপিএল শুরু করেছিলাম এবং ৩১ মে শেষ হয়েছে। আমরা এখন আলোচনা করছি টুর্নামেন্টের শেষদিকে, বিশেষ করে ১৫ মের পর বৃষ্টিপাত বা প্রাক বর্ষা শুরু হওয়ার শঙ্কা থাকে।”
শুধু বর্ষা নয়, গরমের বিষয়টিও মাথায় রেখে আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান।
“অন্যদিকে তীব্র গরম আবহাওয়ায় দর্শক কিংবা খেলোয়াড় কারও জন্যই অনুকূল পরিবেশ থাকে না। বিসিসিআই ও আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের মধ্যে আলোচনা চলছে টুর্নামেন্ট মার্চের শেষদিকে শুরু না করে, আরেকটু এগিয়ে আনা যায় কি না।”
“পরের বছর থেকে আমরা এই চেষ্টা করব। ইতোমধ্যে জেনারেল ম্যানেজারকে (গেমস ডেভেলপমেন্ট বিভাগে কর্মরত সাবেক পেসার আবে কুরুভিলা) নতুন উইন্ডো খুঁজে বের করতে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে ১০ মার্চের মধ্যে শুরু করে ১৫ মের মধ্যে শেষ করতে পারি। এতে ২০তম আসরের প্লে-অফ ও ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে বৈরি আবহাওয়ার কোন প্রভাব থাকবে না।”
আইপিলের সবশেষ মৌসুম থেকে খেলোয়াড় ও দর্শকদের কাছ থেকে বৈরি আবহাওয়া নিয়ে অভিযোগ শুনেছেন সাইকিয়া।
“আমি দর্শকের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রচুর অভিযোগ শুনেছি। সব খেলোয়াড় এই ধরনের পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে না বা খেলে অভ্যস্ত না। স্বস্তিকর একটা পরিবেশ দিতে ১৫ মের মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাই।”
“এটাই এখন আমাদের প্রথম লক্ষ্য এবং আগামী ২০তম আসরের জন্য চিন্তার জায়গা।”
২০২২ সাল থেকে ১০ দল নিয়ে আইপিএল আয়োজন করা হচ্ছে। তাতে প্রতি বছর আয়োজন করতে হচ্ছে ৭৪ টি ম্যাচ। গুঞ্জন ছিল, ডাবল রবিন লিগ রাউন্ড পদ্ধতিতে ম্যাচ সংখ্যা বাড়িয়ে ৯৪ টি করা হবে। সাইকিয়ার মতে, বর্তমান ক্রিকেটীয় সময়সূচিতে তা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে ম্যাচসংখ্যা বাড়বে না এমন সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দেননি। আইসিসির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশের সঙ্গে আলেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ভারত।
এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, আইসিসি ও এসিসির মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোর কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে, সেটাও মাথায় রাখছেন সাইকিয়া।