Published : 18 Jun 2026, 11:31 AM
শুবমান গিলের ওয়ানডে ব্যাটিং গড় হৃষ্টপুষ্ট বরাবরই। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দেড়শ রানের ইনিংসটির পর সেই গড় এমন উচ্চতায় পৌঁছে গেল, ভিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে একটি মানদণ্ডে ভারতের এই ব্যাটসম্যান আপাতত ওয়ানডে ইতিহাসেরই সবার ওপরে!
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বুধবার লাক্ষ্নৌতে ১১০ বলে ১৫৪ রানের ইনিংস খেলেন গিল। এই পারফরম্যান্সেই তিনি ছাড়িয়ে গেছেন কোহলির গড়।
৬৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৯ সেঞ্চুরিতে ৩ হাজার ১৯১ রান এখন গিলের, ব্যাটিং গড় ৫৯.০৯। ওয়ানডে ইতিহাসে অন্তত ২ হাজার রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় আপাতত এটিই।
৩১১ ম্যাচে ১৪ হাজার ৭৯৭ রান করা কোহলির গড় ৫৮.৭১।
এই ম্যাচের আগে গিলের গড় ছিল ৫৭.৩। কোহলি ছাড়াও তার ওপরে ছিলেন নিউ জিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল (৫৮.৪৭)। আফগানদের বিপক্ষে ২২ চার ও ২ ছক্কার ইনিংসটিতে দুজনকেই ছাড়িয়ে গেছেন ভারতীয় অধিনায়ক।
অন্তত ২ হাজার রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ব্যাটিং গড়ে এই তিনজনের পরে আছেন মাইকেল বেভান। ওয়ানডে ইতিহাসে ‘ফিনিশার’ খ্যাতি পাওয়া প্রথম ব্যাটসম্যান সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান বাঁহাতি ৬ হাজার ৯১২ রান করেছেন ৫৩.৫৮ গড়ে।
আরেক কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্স ৯ হাজার ৫৭৭ রানে ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ৫৩.৫ গড়ে। বাবর আজমের গড় এখন ৫৩.৪৩।
২ হাজার রান থেকে কমিয়ে মানদণ্ড যদি ধরা হয় দেড় হাজার রান, তাহলে গিলের গড় আপাতত দুইয়ে। এখানে শীর্ষে যিনি, তিনিও এখন আছেন ভারতের ড্রেসিং রুমে। রায়ান টেন ডেসকাটে ৩৩ ওয়ানডেতে ১ হাজার ৫৪১ রান করেছেন ৬৭ গড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলা সাবেক এই অলরাউন্ডার এখন ভারতের সহকারী কোচ।
ক্যারিয়ার যতদিন না থামছে, ব্যাটিং গড়ের ওঠানামাও ততদিন চলবে। আপাতত গিল সবার ওপরে থাকলেও সামনে নেমে যেতে পারেন, কিংবা পৌঁছে যেতে পারেন নতুন উচ্চতায়।
তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ গত ছিল ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারিতে। সেদিন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর ২১ ম্যাচ শেষে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৭৩.৭৬।
কোহলি-বেভান-ডি ভিলিয়ার্সদের মতো ২০০-৩০০ ম্যাচ খেলার পরই বোঝা যাবে, ওয়ানডে ইতিহাসে কোন উচ্চতায় থাকবেন গিল। কোহলির ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ গড় ছিল ২৩৯ ম্যাচ শেষে। ২০১৯ সালের ১৪ অগাস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর তার গড় ছিল ৬০.৩১।
আফগানদের বিপক্ষে এই ইনিংসে ৭৭ বলে সেঞ্চুরি করেন গিল, দেড়শতে পা রাখেন ১০৮ বলে। পরে নাঙ্গেয়ালিয়া খারোটের বলে রিভার্স সুইপ খেলে যখন আউট হন, ভারতের ইনিংসের সাত ওভারের বেশি বাকি ছিল।
ম্যাচের পর গিল বললেন, ডাবল সেঞ্চুরির ভাবনা তার মাথায় খেলে গিয়েছিল।
“হ্যাঁ, মাথায় ছিল (ডাবল সেঞ্চুরি) তবে জানতাম দলকে ৪৩০, ৪৪০, ৪৫০ রানের দিকে নিয়ে যেতে হলে আমাকে ক্রমাগত শট খেলে যেতেই হবে। আসলে এটি (রিভার্স সুইপ) একটু বেশিই ভালোভাবে মাঝব্যাটে লেগে গিয়েছিল, এজন্য ডিপ কাভারে চলে যায় বল।”
শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৪৩০ রানের কাছেও যেতে পারেনি ভারত। গিলের ইনিংসের সঙ্গে ইশানন কিশানের ৭৯ বলে ১২৫ রানের ইনিংসে ৪৩ ওভার শেষে দলের রান ছিল ৩৬১। তবে পরের সময়টায় নিয়মিত উইকেট হারিয়ে শেষ ৭ ওভারে মাত্র ৪১ রান তুলে ৪০২ রানে অলআউট হয় তারা।
পরে ১৭০ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করে গিলের দল।