Published : 09 Mar 2026, 11:21 AM
একটি টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় তো স্রেফ ওই আসরের সাফল্যের গল্প নয়। পেছনে থাকে আরও অনেক অধ্যায়, থাকে আড়ালের অনেক নায়ক। বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই মানুষগুলোর কথাই মনে করিয়ে দিলেন গৌতাম গাম্ভির। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী কোচ তুলে ধরলেন তার পূর্বসূরী রাহুল দ্রাবিড় ও ভারতের সেন্টার অব এক্সিলেন্সের প্রধান কোচ ভিভিএস লক্ষনের অবদান।
দ্রাবিড়ের কোচিংয়ে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ভারত। যদিও তার মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ দিয়ে। আহমেদাবাদের ফাইনালে হৃদয়ভাঙা হারের পরও রোহিত শার্মা ও তার সতীর্থদের অনুরোধে আরও কিছুদিন দায়িত্বে থেকে যেতে রাজি হন দ্রাবিড়। সেই পথ ধরেই ধরা দেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সাফল্য।
সেই সাফল্য এনে দেওয়া ক্রিকেটারদের শাণিত করা, চোট থেকে সারিয়ে তোলা, বাজে ফর্ম থেকে বের করে আনা, ঘাটতি-দুর্বলতা কাটাতে কাজ করা, সম্ভাবনাকে পূর্ণতার পথে নেওয়ার চেষ্টা করা, পোক্ত করে গড়ে তোলা, সবকিছুই হয় বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে। এখানেই দীর্ঘদিন ধরে প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করে আসছেন লক্ষ্মন।
দ্রাবিড়ের পর কোচের দায়িত্ব পাওয়া গাম্ভিরের পথচলা মসৃণ ছিল না। বিশেষ করে, টেস্ট ক্রিকেটে দেশের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশড হওয়াসহ অভাবনীয় কিছু ব্যর্থতায় তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে নানা সময়ে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অবশ্য অপ্রতিরোধ্য পধচলায় ছুটেছে ভারত। তবে বিশ্বকাপ না জিতলে তো সবকিছুই হয়ে যেত একরকম বৃথা।
বিশ্বকাপ জিততে না পারলে গাম্ভিরকে সরিয়ে দেওয়া হবে, এমন আলোচনা জোরালভাবেই ছিল ভারতীয় ক্রিকেটে। ট্রফি জিতে তাই স্বস্তি, উচ্ছ্বাস, সব একাকার হয়ে যাওয়ার কথা তার। তবে এমন সময়েও তিনি ভোলেননি দ্রাবিড় ও লক্ষ্মনকে। ভারতের কোচ এমনকি বললেন প্রধান নির্বাচক আজিত আগারকারের কথাও।
“প্রথমত, এই ট্রফি আমার উৎসর্গ করা উচিত রাহুল ভাই ও ভিভিএস লক্ষ্ননকে। রাহুল ভাই দায়িত্বে থাকার সময় ভারতীয় ক্রিকেটকে এমন দারুণ অবস্থায় রাখার জন্য যা করে করেছেন, সবকিছুর জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাতে হবে। এরপর ভিভিএস লক্ষ্মন শর্তহীনভাবে পর্দার আড়াল থেকে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এত কিছু করে যাচ্ছেন…। ভারতীয় ক্রিকেটের মূল পাইপলাইন রয়ে গেছে সিওই (সেন্টার অব এক্সিলেন্স, আগে যেটার নাম ছিল জাতীয় একাডেমি)।”
“তৃতীয়ত অবশ্যই আজিত আগারকার… কারণ সে যে কাজটি করে, সেটায় তীব্র সমালোচনার জায়গা থাকে, কিন্তু যে পরিমাণের সততা নিয়ে সে কাজটি করে থাকে…।”
গাম্ভির আলাদা করে কৃতজ্ঞতা জানালেন ভারতীয় বোর্ডের সাবেক সচিব ও আইসিসির বর্তমান প্রধান জয় শাহকেও।
“জয় ভাইকেও ধন্যবাদ জানাতেই হবে। কারণ, আমি যখন আমার মেয়াদের সবচেয়ে বাজে সময় কাটাচ্ছিলাম, খুব বেশি লোকে আমাকে ফোন করেনি, সেটা নিউ জিল্যান্ড সিরিজের পর হোক, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারার পরে হোক, একমাত্র জয় ভাই আমাকে ফোন করেছিলেন।”
“তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই হবে এই দায়িত্বের জন্য আমার ওপর ভরসা রাখায়। কারণ, খুব ভালোভাবেই মনে পড়ে, আমাকে যখন দায়িত্বটি দেওয়া হয়, কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বা কোনো দলের প্রধান কোচের অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। তার পরও আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। এই মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই হবে। এই মানুষগুলো যতদিন আছেন, ভারতীয় ক্রিকেটও নিরাপদে থাকবে।”