Published : 01 Mar 2026, 03:02 PM
“আরেকটি যন্ত্রণাদায়ক বিপর্যয়ের সমাপ্তি”, মোহাম্মাদ হাফিজের ছোট্ট এক্স বার্তায় ফুটে উঠছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সের প্রতিচ্ছবি। শুধু তিনি নন, সেমি-ফাইনালে উঠতে না পারা দলকে তীব্র সমালোচনার তিরে বিদ্ধ করেছেন আহমেদ শেহজাদ ও মোহাম্মাদ ইউসুফও।
সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শনিবার শ্রীলঙ্কাকে ঠিকই হারিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু রান রেটের সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা। তাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় তাদের সেমি-ফাইনালে খেলার আশা ।
বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর সালমান আলি আগা, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খানদের নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। শূলে চড়ানো হচ্ছে নির্বাচক, কোচিং স্টাফদের সদস্যদেরও।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচই পাকিস্তান খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। তাদের গ্রুপ পর্বের লড়াইগুলো হয়েছে কলম্বোয়। সুপার এইটের দুটি ম্যাচ খেলেছে তারা পাল্লেকেলেতে।
একই মাঠে টানা খেলায় কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়ে যাওয়ার কথা তাদের। সঙ্গে ছিল না ভ্রমণের কোনো ক্লান্তি। সতেজ থেকেই সবগুলো ম্যাচে মাঠে নামতে পেরেছে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি দলটি।
গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে হেরে যায় পাকিস্তান। সেটি অবশ্য খুব অপ্রত্যাশিত ছিল না। তবে এবার ধারণা করা হচ্ছিল, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের পরীক্ষায় ফেলবে তারা। কিন্তু প্রতিবেশিদের কাছে পাত্তাই পায়নি সালমানের দল।
গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে সুপার এইটে উঠে পাকিস্তান। সেখানে তাদের প্রথম ম্যাচও ছিল কলম্বোতে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায় নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই লড়াই।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ভালো একটা সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি পাকিস্তান হ্যারি ব্রুকের চমৎকার সেঞ্চুরির কারণে। ইংলিশদের কাছে নিউ জিল্যান্ড হেরে যাওয়ায় সেমি-ফাইনালে ওঠার পথ তৈরি হয় পাকিস্তানের। যদিও সেটা ছিল কঠিন। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জে সফল হতে পারেনি তারা।
কয়েক বছর ধরেই আইসিসির আসরে ভালো করতে পারছে না পাকিস্তান। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনাল খেলতে পারেনি তারা, হয় পঞ্চম। পরের বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় এশিয়ার দলটি।
আর গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও শেষ চারে খেলতে পারেনি পাকিস্তান। আসরে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। আর এবার এই ব্যর্থতা।
বৈশ্বিক আসরে পাকিস্তানের হতাশাজনক পথচলার কথা তুলে ধরে সাবেক অধিনায়ক হাফিজ বলেন, পুরো দলের সংস্কার প্রয়োজন।
“সবশেষ চারটি আইসিসি ইভেন্টের ফলাফল খুবই বেদনাদায়ক। পাকিস্তান ক্রিকেটের সংস্কার প্রয়োজন।”
সাবেক ওপেনার শেহজাদ তো সরাসরি আঙুল তুললেন দল নির্বাচনের প্রক্রিয়ার দিকেই। তার মতে, উপরে ওঠার বদলে কেবল তলানির দিকে যাচ্ছে পাকিস্তানের ক্রিকেট।
“পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। এশিয়া কাপে যখন তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, তখন আপনাদের (নির্বাচকদের) সমর্থন করেছিলাম। শক্তিশালী মিডল অর্ডারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছু বদলে গেল, কিন্তু সেটা দলের ভারসাম্যের জন্য নয়, বরং সেটা ছিল নিজেদের পছন্দের ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া এবং সামাজিক মাধ্যমের চাপের কাছে মাথা নত করা।”
“একই সেটআপে তিন বছর, কিন্তু এখনও কোনো অগ্রগতি নেই। আমাদের আর কত সময় প্রয়োজন? আমরা উন্নতি করছি না, পতন হচ্ছে।”
পাকিস্তানের ব্যাটিং গ্রেট ইউসুফ কৌতূকের মতো করে বললেন, এই ব্যর্থতার কথাও শিগগিরই ভুলে যাবে সবাই।
“জোর গলায় বলেছিলাম, আমরা ফাইনালে খেলছি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, তারা ডুবন্ত জাহাজের অন্তিম মুহূর্তের কথা বুঝিয়েছিল। আমাদের কি পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট আছে? নাকি এটা স্রেফ আরেকটা টাইটানিক?”
“দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সামনেই পিএসএল, আর আমরা এই বিব্রতকর অবস্থা দ্রুতই ভুলে যাব এবং আবার গর্বিত হব।”