Published : 06 Mar 2026, 03:58 PM
বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হলেও এখন অকাতরে রান দিচ্ছেন ভারুন চক্রবর্তি। যার প্রভাব তার আত্মবিশ্বাস ও মানসিকতায় বাজেভাবে পড়েছে বলে মনে করছেন ইরফান পাঠান। ভারতীয় রহস্য স্পিনারকে সঠিক অবস্থায় ফেরাতে ফাইনালের আগে ক্রিকেট থেকে থেকে দূরে রাখতে বলেছেন দেশটির বিশ্বকাপ জয়ী অলরাউন্ডার।
টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার ভারুন এই সংস্করণের বিশ্বকাপেও শুরুটা চমৎকার করেন। গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচের একটিতেও ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি রান দেননি। এখন পর্যন্ত আসরে তার ১৩ উইকেটের নয়টিই আসে ওই সময়ে।
সুপার এইট শুরু হতেই যেন বদলে যায় ভারুনের বোলিংয়ের চিত্র। ওই রাউন্ডের তিন ম্যাচে ১২ ওভারে করে ১২২ রান দেন তিনি। উইকেট নিতে পারেন স্রেফ তিনটি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুম্বাইয়ে বৃহস্পতিবারের সেমি-ফাইনালেও তার ওপর বয়ে যায় ঝড়। রান বন্যার ম্যাচে ৪ চারে ৬৪ রান খরচ করে জস বাটলারের উইকেট নেন তিনি। ম্যাচে তার চেয়ে বেশি রান দেননি কোনো বোলার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি তো বটেই, স্বীকৃতি টি-টোয়েন্টিতেও ক্যারিয়ারে এক ম্যাচে এত রান কখনোই খরচ করেননি ভারুন। তার বাজে দিনে অবশ্য ৭ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত।
ভারতের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন পাঠান। ২০০৭ আসরের ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানেই তিনি তুলে ধরেন, ভারুনের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির কথা ও তার মনোযোগে চিড় ধরার বিষয়টি।
২৯ টেস্ট, ১২০ ওয়ানডে ও ২৪ টি-টোয়েন্টি খেলা পেস বোলিং অলরাউন্ডারের মনে হচ্ছে, এখন ভারুনের সবকিছু থেকে দূরে থাকা উচিত।
“এখন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনাল। ভারতের তাদের কৌশল খুব সাবধানে ঠিক করতে হবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে, ভারুন চক্রবর্তিকে সঠিক মানসিকতায় ফিরিয়ে আনা। তার আত্মবিশ্বাস খুবই কম মনে হচ্ছে।”
“আমি ভারতীয় দলের অংশ হলে, তাকে দুই দিনের জন্য ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে দিতাম। এমনকি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে এবং তাকে মাঠেও আসতে দিতাম না। চনমনে মানসিকতা ও ইতিবাচক প্রাণশক্তি নিয়ে তাকে সরাসরি ফাইনালে খেলাতাম। একদিনের অনুশীলনে খুব বেশি বদলাবেও না। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।”
ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ ভারতের সামনে। সেই লক্ষ্যে আগামী রোববার আহমেদাবাদে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা।