Published : 20 Feb 2026, 10:15 PM
স্পিনারকে হাঁটু গেড়ে সুইপ করার চেষ্টায় টাইমিং করতে পারলেন না ট্রাভিস হেড। বল উঠে গেল আকাশে। ক্যাচ নিতে একই সঙ্গে ছুটলেন বোলার ও কিপার। সংঘর্ষও হলো দুজনের। একাধিকবারের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ক্যাচটি নিতে পারলেন ৩৮ বছর বয়সী স্পিনার শাকিল আহমেদ। ছুটে গিয়ে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ট্রেডমার্ক ‘Siuuu’ উদযাপনে মাতলেন তিনি। ইনিংসে এই একবারই কেবল উদযাপনের উপলক্ষ পেল ওমান!
‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সেরা সময়’- ম্যাচের আগে হুঙ্কার ছুড়েছিলেন ওমান অধিনায়ক জাতিন্দার সিং। তবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া স্বরূপে ফেরার জন্য বেছে নিল এই ম্যাচকেই। ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সে বড় জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল আগেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া দলটি।
আসরের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জয় ৯ উইকেটে। পাল্লেকেলেতে শুক্রবার ওমানের ১০৪ রান ৯.৪ ওভারেই পেরিয়ে গেছে মিচেল মার্শের দল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একশর বেশি রান তাড়ায় সবচেয়ে বেশি বল (৬২) হাতে রেখে জয়ের কীর্তি এটি। গত আসরে যুক্তরাষ্ট্রের ১১৫ রান তাড়ায় ইংল্যান্ডও জিতেছিল ৬২ বল হাতে রেখে।
জয়ের নায়ক অ্যাডাম জ্যাম্পা। ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান ৩৩ বছর বয়সী লেগ স্পিনার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই নিয়ে মোট চারবার ৪ উইকেট নিলেন তিনি, যা কোনো বোলারের সর্বোচ্চ। তিনবার করে আছে সাকিব আল হাসান, সাঈদ আজমল, রাশিদ খান ও আনরিখ নরকিয়ার।
বিশ্বকাপে ২৫ ম্যাচে জ্যাম্পার উইকেট হলো মোট ৪৪টি। এখানে তার ওপরে আছেন কেবল সাকিব (৪৩ ম্যাচে ৫০ উইকেট)।
সাত চার ও চার ছক্কায় ৩৩ বলে অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন অধিনায়ক মার্শ।
আসরে নিজেদের প্রথম ও শেষ ম্যাচটা জিততে পারল অস্ট্রেলিয়া। মাঝের দুই ম্যাচে তারা হেরে যায় জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারায় ওমান। ম্যাচের প্রথম বলে চমৎকার ডেলিভারিতে আমির কালিমকে বোল্ড করেন জেভিয়ার বার্টলেট।
ওই ওভারে আরেকটি উইকেট পেতে পারতেন তিনি, কিন্তু কারানের ক্যাচ ফেলে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
অবশ্য পাওয়ার প্লের মধ্যেই পরপর দুই ওভারে কারান (১১ বলে ১২) ও জাতিন্দারকে (১৫ বলে ১৭) ফেরান যথাক্রমে ন্যাথান এলিস ও বার্টলেট।
অষ্টম ওভারে বোলিং পেয়ে হাম্মাদ মির্জাকে বোল্ড করে শিকার ধরা শুরু করেন জ্যাম্পা। পরের ওভারে মোহাম্মদ নাদিমকে এলবিডব্লিউ করেন তিনি।
সপ্তদশ ওভারে বোলিংয়ে ফিরে পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে তিনিই ইতি টেনে দেন ইনিংসের।
ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মাঝে ওমানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩২ রান করতে পারেন ওয়াসিম আলি।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারে তিনটি চারে ডানা মেলে দেন মার্শ। পরের ওভারে তিনি ছক্কা মারেন একটি।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ওয়াসিমকে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় মার্শ ফিফটি করেন স্রেফ ২৬ বলে। আসরে দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই ফিফটি করলেন তিনি। ৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়া করে বিনা উইকেটে ৭৩ রান।
জয় থেকে ১২ রান দূরে থাকতে হেডের (১৯ বলে ৩২) বিদায়ে থামে ৪৯ বলে ৯৪ রানের বিস্ফোরক উদ্বোধনী জুটি। পরের ওভারে দুটি চার মেরে ম্যাচের ইতি টানেন জশ ইংলিস।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ হারল ওমান। টানা সবচেয়ে বেশি হারের রেকর্ডে বাংলাদেশের পাশে বসল তারা। ২০০৭ থেকে ২০১২ আসরের মধ্যে এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল বাংলাদেশের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওমান: ১৬.২ ওভারে ১০৪ (কালিম ৫০, জাতিন্দার ১৭, কারান ১২, হাম্মাদ ১৬, ওয়াসিম ৩২, নাদিম ২, ভিনায়ক ৯, জিতেন ১, শাকিল ৩, ওদেদ্রা ৪*, শাফিক ০; বার্টলেট ৪-০-২৭-২, স্টয়নিস ২-০-১৬-১, এলিস ২-০-১৪-১, গ্রিন ২-০-১১-০, জ্যাম্পা ৩.২-০-২১-৪, ম্যাক্সওয়েল ৩-০-১৩-২)
অস্ট্রেলিয়া: ৯.৪ ওভারে ১০৮/১ (মার্শ ৬৪*, হেড ৩২, ইংলিস ১২*; শাফিক ২-০-৩০-০, ওদেদ্রা ২-০-২১-০, শাকিল ৪-০-২৯-১, ওয়াসিম ১-০-১৮-০, জিতেন ০.৪-০-১০-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যাডাম জ্যাম্পা
বিশ্বকাপে টানা ১০ হারে বাংলাদেশের পাশে ওমান