১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চার-ছক্কার ছটায় তানজিদ-প্রিতমের সেঞ্চুরি

তানজিদ হাসানের ব্যাট থেকে এসেছে ৭টি ছক্কা, প্রিতম কুমার মেরেছেন ১৭টি চার।

চার-ছক্কার ছটায় তানজিদ-প্রিতমের সেঞ্চুরি
তানজিদ হাসান ও প্রিতম কুমার।। ছবি: বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Nov 2025, 09:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:09 PM

সেঞ্চুরির সুবাস নিয়ে দিন শুরু করেছিলেন তানজিদ হাসান। শতরান পেরিয়ে যান তিনি অনায়াসেই। দিনের শুরুতে প্রিতম কুমার ছিলেন ফিফটির কাছে। দারুণ খেলে সেঞ্চুরি আদায় করে নেন তিনিও। প্রথম ইনিংসে ৯৮ রানে পিছিয়ে থাকা রাজশাহী বিপদ থেকে রক্ষা পায় এই দুজনের ব্যাটে।

রাজশাহীতে জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচটি শেষ হয় ড্রয়ে। ৫ উইকেটে ৩৬০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে রাজশাহী বিভাগ। ঢাকা বিভাগ ৪ উইকেটে ১০৯ রান করার পর শেষ হয় ম্যাচ। 

আগের দিন ৮৪ রানে অপরাজিত থাকা তানজিদ শতরানে পৌঁছে যান ১১১ বল খেলেই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৫ ম্যাচে তার পঞ্চম সেঞ্চুরি এটি।

৬৯ বলে ফিফটি স্পর্শ করা প্রিতম কুমার পরের পঞ্চাশ করে ফেলেন ৪২ বলেই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই কিপার-ব্যাটারের চতুর্থ শতরান এটি।

দুজনের জুটিতে রান আসে ২২০ রান। ৭ চার ও ৮ ছক্কায় ১৫১ বলে ১৪০ রান করে আউট হন তানজিদ। ১৭ চার ও ২ ছক্কায় ১৫১ বলে ১৩৬ রান করে বিদায় নেন প্রিতম।

পরে অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ৩০ বলে ৩৮ করে আউট হওয়ার পর ইনিংস ঘোষণা করে রাজশাহী।

ঢাকা বিভাগ চতুর্থ ইনিংসে নেমে মন্থর ব্যাটিংয়ে নিশ্চিত করে ড্র। ১১২ বল খেলে ৪২ রান করেন আনিসুল ইসলাম ইমন। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আশিকুর রহমান শিবলি এবার ফেরেন শুন্য রানে। তাইবুর রহমানের ব্যাট থেকে আসে ৪১ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

রাজশাহী বিভাগ ১ম ইনিংস:  ২৯৮ 

ঢাকা বিভাগ ১ম ইনিংস: ৩৮২ 

রাজশাহী বিভাগ ২য় ইনিংস:  ৬৭.৩ ওভারে ৩৬০/৫ (ডিক্লে) (আগের দিন ১৫১/২) (তানজিদ ১৪০, প্রিতম ১৩৬, হৃদয় ৩৮, সাব্বির রহমান ১১*, শাকির ০*; সাকিল ১৪-১-৪৯-০, সিয়াম ১২-১-৭৬-১, এনামুল ১০-০-৩৯-১, নাজমুল অপু ১৯.৩-০-১০৮-২, তাইবুর ৬-০-৩৬-০, আনিসুল ৬-০-৪১-১)।

ঢাকা বিভাগ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৭৭) ৩৭ ওভারে ১০৯/৪ (জয়রাজ ১২, আনিসুল ৪৪, শিবলি ০, তাইবুর ৪১, মার্শাল ৯*, নাজমুল অপু ০*; রহিম ২-০-১১-০, ওয়ালিদ ২-০-১০-০, , নিহাদ ১৩-১-২৭-৩, সানজামুল ১০-০-৩০-১, ওয়াসি ১০-০-২৯-০)।

ইমরান-মিঠুনের ফিফটি

এবারের আসরে দুই ম্যাচে খেলে একটিও ফিফটি ছিল না ইমরানউজ্জামান ও মোহাম্মদ মিঠুনের। দুজনেই প্রথম ফিফটির দেখা পেলেন একই ইনিংসে।

প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানে পিছিয়ে থাকা খুলনা দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে তৃতীয় দিন শেষে এখন এগিয়ে ১৭৫ রানে। উইকেট আছে ৬টি।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে ৭ উইকেটে ৩০৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা সিলেট বিভাগের ইনিংস শেষ হয় আর ১৬ রান যোগ করেই। 

খুলনা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতই হারায় এনামুল হককে (১৯)। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৪ সেঞ্চুরিতে ৯ হাজারের বেশি রান করা ব্যাটসম্যান এবারের লিগে আট ইনিংসে কোনো ফিফটি করতে পারলেন না।

দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের জুটি গড়েন ইমরানউজ্জামান ও কালাম সিদ্দিকি। ৩১ রানে আউট হন কালাম। বাংলাদেশ অনূধর্ব-১৯ দলের এই ব্যাটসম্যান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৩৬ রান।

ইমরানের ইনিংস থামে ৬২ রানে, অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার বিদায় নেন ১৭ রানেই। দুজনকেই ফেরান আবু জায়েদ।

এরপর মিঠুন ও আফিফ হোসেন ৯১ রানের অবিচ্ছ্নি জুটিতে শেষ করেন দিন।

৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৫৩ রানে দিন শেষ করেন মিঠুন, ৫ চারে ৩৮ রানে অপরাজিত আফিফ। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

খুলনা বিভাগ ১ম ইনিংস: ২৫৯

সিলেট বিভাগ ১ম ইনিংস: ৩২৩

খুলনা ২য় ইনিংস: ৬৭ ওভারে ২৩৯/৪ (এনামুল ১৯, ইমরানউজ্জামান ৬২, কালাম ৩১, সৌম্য ১৭, মিঠুন ৫৩*, আফিফ ৩৮*; আবু জায়েদ ১৩-১-৪৮-২, তানজিম ৯-১-২১-০, নাসুম ২৩-৩-৬১-১, শাহানুর ৯-২-২১-১, রেজাউর ১০-১-৪৩-০, গালিব ২-১-১০-০, রিহাদ ১-০-১৪-০)।