চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি
Published : 11 Mar 2025, 06:59 PM
কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়া, আইপিএল জেতা, আর এখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়; গত বছরের জানুয়ারি থেকে ক্যারিয়ারের অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছেন শ্রেয়াস আইয়ার। এই সময়ে কি কখনও হতাশা ভর করেছিল তাকে? ভারতীয় মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বলেছেন, আইপিএল জেতার পর প্রাপ্য সম্মান না পাওয়ায় কিছুটা খারাপ লেগেছিল তার।
আইপিএলের গত আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক ছিলেন শ্রেয়াস। তার চমৎকার নেতৃত্বে টুর্নামেন্টে নিজেদের তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সেবার ১৫ ম্যাচে ১৪৬.৮৬ গড়ে ৩৫১ রান করেছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।
শিরোপাজয়ী সেই অধিনায়ককেই আসছে আসরের জন্য ধরে রাখেনি কলকাতা! গত নভেম্বরের মেগা নিলাম থেকে শ্রেয়াসকে ২৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি দিয়ে দলে টানে পাঞ্জাব কিংস। এবারের আইপিএলে প্রথম শিরোপার খোঁজে থাকা দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল শ্রেয়াসের। যখনই দল বিপদে পড়েছে, ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। মাঝের ওভারগুলোয় চমৎকার ব্যাটিংয়ে গড়ে দিয়েছিলেন ভিত।
আসরে পাঁচ ম্যাচে ২৪৩ রান করেন শ্রেয়াস। গ্রুপ পর্বে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৯ রান সর্বোচ্চ। কিউইদের বিপক্ষে ফাইনালে রান তাড়ায় চাপে পড়া দলের হাল ধরেন তিনিই। ২৫২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ম্যাচটি ৪ উইকেটে জেতে ভারত।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বিজয়ীদের পরানো হয় সাদা ব্লেজার। ক্যারিয়ারের কঠিন একটা সময় পার করার পর সাফল্যের এই স্মারক পাওয়ার অনুভূতি টাইমস অব ইন্ডিয়ায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন শ্রেয়াস।
“(চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সাদা ব্লেজার পরতে পারা) অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক। সত্যি কথা বলতে, এটা অন্যরকম এক যাত্রা ছিল, যেখানে ২০২৩ বিশ্বকাপের পর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার মতো ঘটনা ছিল এবং এবং জীবনের এই পর্যায়ে এসে অনেক কিছু শিখেছি। কোথায় ভুল করেছি, সেটা পুনরায় মূল্যায়ন করেছি। কি করা উচিত, ফিটনেসে কেমন মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, নিজেকে এসব প্রশ্ন করেছি। একটি রুটিন তৈরি করে অনুশীলনে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি স্কিল বাড়ানোর কাজ করেছি।”
“যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম, তখন বুঝেছিলাম ফিটনেস আমার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, বছরের শুরুতে যখন (চোট নিয়ে) উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম। সব মিলিয়ে নিজেকে নিয়ে ভীষণ খুশি... যেভাবে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছি, যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছি।”
কঠিন ওই সময়টায় কখনও হতাশ হয়েছিলেন কিনা, এমন প্রশ্নও করা হয় শ্রেয়াসকে। তখন তিনি উল্লেখ করেন আইপিএল জয়ের পরের সময়টার কথা। একই সঙ্গে বলেন, মাঠে তার প্রচেষ্টা আড়ালে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি।
“হতাশা ছিল না, কারণ আইপিএল খেলছিলাম। প্রধান লক্ষ্য ছিল আইপিএল জেতা, সৌভাগ্যক্রমে সেটা জিততে পেরেছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, আইপিএল জয়ের পর যে স্বীকৃতি চেয়েছিলাম তা পাইনি। তবে দিন শেষে, নিজের ওপর সৎ থাকলে এবং কেউ না দেখলেও সঠিক কাজ করে যাওয়া যায়। এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি সেটাই করে চলেছি।”
“স্বীকৃতি বলতে আমি সম্মান পাওয়ার কথা বুঝিয়েছি। মাঠে আমি যে প্রচেষ্টা দেখাই, সেটার জন্য সম্মান দেখানোর কথা বলছি।”