Published : 22 Nov 2025, 10:46 PM
জাতীয় ক্রিকেট লিগে দিনটি ছিল মাইলফলকের। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সৌম্য সরকার খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের ঠিকানায় পৌঁছলেন মার্শাল আইয়ুব। ৩০০ উইকেট পূর্ণ করে শুভাগত হোম স্পর্শ করলেন সাকিব আল হাসানের অসাধারণ এক অলরাউন্ড অর্জনকে। এছাড়াও ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন দুই পেসার মুকিদুল ইসলাম ও ইফরান হোসেন।
সৌম্যর ঝড় ও আক্ষেপ
আগে একবার ১৫০ ছুঁয়ে সেখানেই থমকে গিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। এবার সেই স্কোর ছাপিয়ে স্ট্রোকের ফোয়ারায় তিনি ছুটছিলেন ডাবল সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ১৪ রান দূরেই তাকে থামান শুভাগত হোম চৌধুরি।
শুভাগত ম্যাচটি শুরু করেছিলেন ২৯৯ উইকেট নিয়ে। সৌম্যকে এলবিডব্লিউ করে তিনি পূর্ণ করেন ৩০০ উইকেট। ব্যাট হাতে রান করেছেন তিনি ৬ হাজারের বেশি। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এই ‘ডাবল’ আছে আর কেবল সাকিব আল হাসানের।
ময়মনসিংহ বিভাগের বিপক্ষে খুলনা বিভাগ তোলে ৬ উইকেটে ৩২৮ রান।
খুলনায় টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনা ওপেনার এনামুল হককে হারায় ১৪ রানে। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান এবারের লিগে ৯ ইনিংস খেলেও ফিফটির দেখা পেলেন না।
দ্বিতীয় উইকেটে তরুণ কালাম সিদ্দিকির সঙ্গে ২৩০ রানের জুটি গড়েন সৌম্য।
সৌম্য ফিফটি করেন ৬৪ বলে। সেখান থেকে আরও গতিতে ছুটে শতরানে পৌঁছে যান ১১৩ রানে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯৬ ম্যাচে তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরি এটি।
একশ থেকে দেড়শতে যেতে তার লাগে ৩৮ বল। কিন্তু দুইশ পর্যন্ত যেতে পারেননি। শুভাগতর সোজা ডেলিভারি অনসাইডে খেলার চেষ্টায় এলবিডব্লিউ হন ২২২ বলে ১৮৬ রান করে। তার ইনিংসে চার ২৪টি, ছক্কা ৫টি।
৭৭ রান করে আগেই আউট হন কালাম।
সৌম্যর বিদায় দিয়ে ছোটখাটো ধস নামে খুলনার ইনিংসে। ৬ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় তারা।
এর তিনটি নেন শুভাগত। ১৩৫ ম্যাচে তার উইকেট এখন ৩০২টি, রান ৬ হাজার ৮৭৭৬। ১০৮ ম্যাচে সাকিবের উইকেট ৩৫৫টি, রান ৬ হাজার ৫৩৬।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
খুলনা বিভাগ ১ম ইনিংস: ৮১ ওভারে ৩২৮/৬ (এনামুল ১৪, সৌম্য ১৮৬, কালাম ৭৭, ইমরানউজ্জামান ১৪, মিঠুন ১, আফিফ ১৩*, সফর ০, জিয়াউর ৮; গালিব ১১-১-৮০-১, শহিদুল ১০-২-৩৬-১, মারুফ ১২-৩-৫০-০, আরিফ ২০-৪-৫০-১, শুভাগত ১৭-১-৬৪-৩, আজিজুল ১১-০-৪৩-০)।
২৮তম সেঞ্চুরিতে মার্শালের ১০ হাজার
কক্সবাজারে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে প্রথম দিনে ঢাকা বিভাগ রান তুলেছে ২৪৬। মার্শাল আইয়ুব একাই করেছেন অপরাজিত ১১৮।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ হাজার রান থেকে ৪২ রান দূরে ম্যাচটি শুরু করেছিলেন মার্শাল। সেই পথ পাড়ি দিয়ে পরে চলতি লিগে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের ২৮তম সেঞ্চুরি করেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপাকে পড়ে যায় ঢাকা। ৩ উইকেট হারায় তারা ১৮ রানের মধ্যে। চতুর্থ উইকেটে দলকে উদ্ধার করেন আশিকুর রহমান শিবলি ও মার্শাল।
১৯ বছর বয়সী শিবলি ও ৩৭ ছুঁইছুঁই বয়সের মার্শাল মিলে গড়েন ১৩৫ রানের জুটি।

আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা শিবলি এবার ফেরেন ৬৪ রানে। পরের বলেই আউট হয়ে যান অভিজ্ঞ তাইবুর রহমান।
পরে লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে দলকে আড়াইশর কাছে নিয়ে যান মার্শাল। দিনশেষে তিনি অপরাজিত ১৮৪ বলে ১১৮ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ঢাকা বিভাগ ১ম ইনিংস: ৮০.৫ ওভারে ২৪৬/৭ (জয়রাজ ১২, রনি ১, আনিসুল ৩, শিবলি ৬৪, মার্শাল ১১৮*, তাইবুর ০, শাকিল ৬, নাজমুল অপু ১৪, সুমন ১২*; মোজাম্মেল ১৭.৫-৭-৪৩-১, রাসেল ১৩-২-৪২-৩, ইফতি ৮-১-২৬-১, তানভির ২২-৩-৬২-১, নোবেল ৮-১-২৭-০, সোহাগ ১২-১-৩৩-১)।
ইফরানের ৫
বগুড়ায় টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেট বিভাগের ইনিংস শেষ হয় ২৫৫ রানে। চট্টগ্রাম বিভাগের পেসার ইফরান হোসেন ৬৫ রানে নেন ৫ উইকেট।
সিলেটের শুরুটা খারাপ ছিল না। ১০ ওভারে ৩৪ রান তোলেন দুই ওপেনার জাকির হাসান ও মুবিন আহমেদ দিশান। এরপরই চোখের পলকে চিত্র বদলে দেন ইফরান। এক ওভারেই তিনি ফেরান দিশান, সৈকত আলি ও অমিত হাসানকে।
পরে মেহেদি হাসান যখন ফেরান রাহাতুল ফেরদৌসকে, সিলেটের রান ৪ উইকেটে তখন ৪৯।
পঞ্চম উইকেটে ১০৭ রানের জুটি গড়েন জাকির হাসান ও আশরাফুল হাসান রিহাদ। এই জুটিও ভাঙেন ইফরান। রিহাদ ফেরেন ৪৬ রানে।
একপ্রান্ত আগলে রাখা জাকিরকে ৭৩ রানে বিদায় করেন নাঈম হাসান।
এরপর সিলেটকে এগিয়ে নেন রেজাউর রহমান রাজা। ক্রমেই ব্যাটিংয়ে উন্নতি করা পেসার অপরাজিত থাকেন ৫৭ রানে। অষ্টম উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তিনি, যেখানে আবু জায়েদ চৌধুরির অবদান ছিল স্রেফ ৯ রান।
আবু জায়েদকে ফিরিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৬ ম্যাচে ষষ্ঠবার ইনিংসে ৫ উইকেটের স্বাদ পান ইফরান।
চট্টগ্রাম বিভাগ শেস বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে হারায় ওপেনার সাদিকুর রহমানকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট বিভাগ ১ম ইনিংস: ৬৮ ওভারে ২৫৫ (জাকির ৭৩, দিশান ২১, সৈকত ০, অমিত ০, রাহাতুল ৪, রিহাদ ৪৬, শাহানুর ১৪, রেজাউর ৫৭*, আবু জায়েদ ৯, তারেক ১, নাবিল ০; মেহেদি ১৩-২-৪১-৩, শরিফ ১৪-১-৬৮-০, নাঈম ১৮-৩-৪৬-১, ইফরান ১৮-৩-৬৫-৫, আশরাফুল ৪-০-১০-১, জিল্লুর ১-০-৬-০)।
চট্টগ্রাম বিভাগ ১ম ইনিংস: ৬.৪ ওভারে ১৯/১ (সাদিকুর ৫, জসিম ১৩*, শরিফ ১*; আবু জায়েদ ৩-০-৭-০, তারেক ৩-১-৮-১, নাবিল ০.৪-০-৪-০)।
অপ্রতিরোধ্য মুকিদুল
জাতীয় লিগে এবার আগের দুটি রাউন্ডে খেলে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন মুকিদুল ইসলাম। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পেসার আরও একবার দেখা পেলেন ৫ উইকেটের।
রাজশাহীতে টস হেরে রাজশাহী অলআউট হয় ২৬৮ রানে।
২৯ রানের উদ্বোধনী জুটির পর নাঈম আহমেদ ফেরেন ১২ রানে। রংপুরের পেসারদের ছোবলে ২০ রানের মধ্যে রাজশাহী হারায় ৪ উইকেট।
ওপেনিংয়ে নামা অধিনায়ক সাব্বির হোসেন পাল্টা আক্রমণে ৭২ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন ১২ চার ও ২ ছক্কায়।
মিডল অর্ডারে ভালো করতে পারেনি কেউ। দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা দলের হয়ে ৮ নম্বরে নেমে রহিম আহমেদ করেন ৭৭ রান। তৃতীয় ম্যাচে তার প্রথম ফিফটি এটি।
লেগ স্পিনার ওয়াসি সিদ্দিক করেন ৩৬ রান।
টানা দুই ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করেন মুকিদুল। ২৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে এই স্বাদ পেলেন তিনি পঞ্চমবার।
রংপুর দিন শেষ করে কোনো উইকেট না হারিয় ৩৭ রান তুলে। দুই ওপেনার ছিলেন দুই রূপে। ২৮ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন জাহিদ জাভেদ, ২১ বলে ৪ রানে আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজশাহী বিভাগ ১ম ইনিংস: ৬৭.১ ওভারে ২৬৮ (নাঈম ১৪, সাব্বির হোসেন ৮৪, সাকিব ০, প্রিতম ২, সাব্বির রহমান ৫, শাকির ১৫, রহিম আহমেদ ৭৭, ওয়াসি ৩৬, আব্দুর রহিম ২, শফিকুল ০*; রবিউল ১০-১-৬৪-১, মুকিদুল ১৪-৪-৪২-৫, মেহেদি ১০-২-৩৬-০, আল মামুন ১৩-২-৩৫-১, হাশিম ৭.১-০-৪২-২, নবিন ৭-১-১৭-০, নাসির ৬-০-১৬-১)।
রংপুর বিভাগ ১ম ইনিংস: ৮.১ ওভারে ৩৭/০ (জাভেদ ২৯*, আল মামুন ৪*)