Published : 02 Jan 2026, 07:49 PM
চলতি অ্যাশেজ সিরিজে পার্থ ও মেলবোর্ন টেস্ট দুই দিনে শেষ হয়ে যাওয়ার পর, সবার আগ্রহের কেন্দ্রে এখন সিডনির উইকেট। ম্যাচের তিন দিন আগে সবুজাভ উইকেটের যে ছবি ছড়িয়ে পড়ে, তাতে অনেকেরই ভ্রু কুঁচকে যাওয়ার কথা। তবে এই মাঠের প্রধান কিউরেটর অ্যাডাম লুইস জোর দিয়ে বললেন, এটি উদ্বেগের বিষয় নয় এবং তিনি আশাবাদী যে, এই টেস্ট পঞ্চম দিনে গড়াবে।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (এসসিজি) উইকেটের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে বৃহস্পতিবার। সেখানে দেখা যায়, উইকেটে সবুজ ঘাসের আচ্ছাদন। আউটফিল্ড থেকে উইকেট যেন আলাদা করাই কঠিন। আগামী রোববার শুরু ম্যাচের আগে নিশ্চিতভাবেই এই ঘাস আরও ছেঁটে ফেলা হবে।
এসসিজির কিউরেটর লুইস শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বললেন, এখন উইকেট দেখতে সবুজাভ হলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই।
“আপনি তিন দিন আগে সবুজ আভা দেখতে চাইবেন। যদি তিন দিন আগে কোনো জীবন্ত ঘাস দেখতে না পান, তাহলে সেটাই (উদ্বেগের বিষয়)। আমরা এখন যা দেখছি, তাতে আমি সত্যিই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।”
“আজ সকালে একটু রোদ ছিল। আগামীকাল আরও কিছুটা রোদ থাকবে। এতে পিচের সবুজতা কমে যাবে। এই মুহূর্তে পিচ নিয়ে আমরা সত্যিই খুশি। আমরা ভালো দেখছি।”
পার্থ ও মেলবোর্ন টেস্ট দুই দিনে শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া প্রায় দেড় কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার মুনাফা হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে দুই দলের সঙ্গে দেখা করার সময় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মজা করে বলেন, ম্যাকগ্রা ফাউন্ডেশনের তহবিল সংগ্রহের জন্য সিডনি টেস্ট যেন তৃতীয় দিন পর্যন্ত যায়।
স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো ও তহবিল সংগ্রহের জন্য সিডনিতে বছরের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনটি পালন করা হয় ‘জেন ম্যাকগ্রা’ দিবস হিসেবে। কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রার স্ত্রী জেন ম্যাকগ্রা স্তন ক্যান্সারে মারা যান ২০০৮ সালে।
মেলবোর্নের উইকেটে ১০ মিলিমিটার ঘাস রেখে দিয়েছিলেন সেখানকার কিউরেটর ম্যাট পেজ। সেখানে ম্যাচের প্রথম দিনে ২০টিসহ দুই দিনে পতন হয় ৩৬ উইকেট। তাই পিচ নিয়ে হয় প্রবল সমালোচনা।
লুইস বললেন, এসসিজিতে মানসম্পন্ন পিচ প্রস্তুত করার জন্য বাইরের কোনো চাপ তিনি অনুভব করছেন না।
গত বছর এসসিজিতে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের টেস্ট শেষ হয়ে গিয়েছিল আড়াই দিনে। সেবার উইকেটে ঘাস রেখে দেওয়া হয়েছিল ৭ মিলিমিটার। এবার ঘাস আরও এক মিলিমিটার কম থাকবে বলে জানালেন লুইস।
“আমরা গত বছর থেকে শিক্ষা নিয়েছি। হয়তো প্রথম দিনে একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল। বছরের এই সময়টাতে আমরা সবসময় স্নায়ুচাপে থাকি। এটা আমাদের গ্র্যান্ড ফাইনাল। টেস্ট প্রস্তুতির আগে আমরা মাসের পর মাস পরিশ্রম করি।”
“আমরা রোমাঞ্চিত। একমাত্র যে বিষয়টি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, তা হলো আবহাওয়া। আমরা এমন একটি পিচ প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি, যেখানে ব্যাট ও বলের দারুণ ভারসাম্য থাকবে।”
মেলবোর্ন টেস্টের সময় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেছিলেন, সম্ভাব্য ক্ষতির দুর্ভাবনায় তার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এবার গ্রিনবার্গ বললেন, সিডনি টেস্ট লম্বা সময় টিকবে বলে আশা করছেন তিনি।
“উইকেট ও কত মিলিমিটার ঘাস নিয়ে আমি যতটা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশি ফোন কল পেয়েছি ও আলোচনা হয়েছে। তবে আমি আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের এখানে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ একটা টেস্ট ম্যাচ হবে।”
এসব কিছুই টড মার্ফির জন্য সুখবর। সিডনিতে পঞ্চম টেস্টে এই অস্ট্রেলিয়ান অফ স্পিনারের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এটিই হবে ঘরের মাঠে তার প্রথম টেস্ট। এখন পর্যন্ত সাত টেস্টের সবকটিই তিনি খেলেছেন দেশের বাইরে, যার পাঁচটি ভারতীয় উপমহাদেশে, দুটি ইংল্যান্ডে।
প্রথম চার টেস্ট শেষে সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া।