Published : 05 Jun 2026, 11:33 AM
মন্থর ও নিচু বাউন্সের উইকেট। বল গ্রিপ করেছে, মিলেছে টার্ন। প্রচণ্ড গরম তো ছিলই। সব মিলিয়ে পাকিস্তানে কঠিন পরীক্ষাই হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া দলের। এবার তাদের অভিযান বাংলাদেশে। এখানেও একইরকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে ধরেই রাখছেন অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিস।
পাকিস্তানে তিন ম্যাচের সিরিজটি অস্ট্রেলিয়া হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। সিরিজজুড়ে ছিল বোলারদেরই দাপট।
তিন ম্যাচের একটিতেও দলীয় রান আড়াই হয়নি। প্রথম ম্যাচে অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাসের রেকর্ড গড়া ৫ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ২০০ রানে। পাকিস্তান ম্যাচ জিতে নেয় ৫ উইকেট। পরের ম্যাচে ২৩১ রানের পুঁজি নিয়েও ৪১ রানের জয়ে সমতায় ফেরায় সফরকারীরা।
শেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ১৫৭ রানেই। সেই রান তাড়ায় ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে হারের মুখে ছিল পাকিস্তান। পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করে তারা।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ ছিল রাওলপিন্ডিতে, পরের দুটি লাহোরে। তবে উইকেট ও কন্ডিশন ছিল একইরকমের। এই সিরিজ শেষ করে সরাসরি বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়ানরা। শুক্রবারই ঢাকায় রাখছে তারা। আসার আগে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ইংলিস বললেন, বাংলাদেশেও একইরকম কন্ডিশন পেতে পারেন বলে ধারণা করছেন তারা।
“ওখানেও হয়তো আমরা একই রকম কন্ডিশন পেতে পারি। অপেক্ষা করে দেখতে হবে আমাদের। তবে হ্যাঁ, এখানকার কিছু ভিন্ন কন্ডিশনের অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং কিছু পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে পেরে ভালো লাগছে। দলের অনেকের জন্যই এটা ছিল ভালো অভিজ্ঞতা।”
পাকিস্তানে এই সিরিজে অভিষেক হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান অলিভার পিকের। এছাড়াও খেলেছেন আরেক উঠতি ক্রিকেটার কুপার কনোলি। কিপার-ব্যাটার অ্যালেক্স কেয়ারিকে ওপেনিংয়ে বাজিয়ে দেখা হয়েছে। প্রথমবার পাকিস্তান সফর করেছেন আরও কয়েকজন।
কঠিন কন্ডিশনে খেলার এই অভিজ্ঞতা সবাইকে আরও সমৃদ্ধ করবে, বিশ্বাস ইংলিসের।
“ওদের জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতা। অলি পিককে আমি এটা বলেছি… একজন অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কন্ডিশন আর পেতে পারতাম না, আমাদের জন্য এটা এত বেশি বিরুদ্ধ…! আমি সম্ভবত চতুর্থবার এলাম পাকিস্তানে, তার পরও আমার জন্য এখনও এটা কঠিন। আমি তাকে (পিক) বলেছি, সবকিছুই আলিঙ্গন করে নিতে।”
“ছেলেদের অনেকেই এখনও শিখছে এই কন্ডিশনে খেলতে… নিজেদের পরিকল্পনা, রিভার্স সুইং ও স্পিন সামলানো… অনেক কিছুই শিখেছি, ইতিবাচক অনেক কিছু আছে। সব মিলিয়ে ভালো কিছুই শিখেছি আমরা।”
প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতিতে এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক করা হয়েছিল মিচেল মার্শকে। কিন্তু চোটের কারণে তিনিও ছিটকে পড়ায় নেতৃত্ব দেন ইংলিস। বাংলাদেশকে মার্শকে পাওয়া যাবে কি না, এখনও নিশ্চিত করেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ সফরে অবশ্য ট্রাভিস হেডকে পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দলের শক্তি তাই বেড়ে যাচ্ছে একটু।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু মঙ্গলবার। এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ চট্টগ্রামে।
বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজের অস্ট্রেলিয়া দল: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স কেয়ারি, কুপার কনোলি, বেন ডোয়ার্শাস, ন্যাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাট রেনশ, তানভির স্যাঙ্ঘা, লিয়াম স্কট, অ্যাডাম জ্যাম্পা।
বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি সিরিজের অস্ট্রেলিয়া দল: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, জোয়েল ডেভিস, ন্যাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যারন হার্ডি, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইংলিস, স্পেন্সার জনসন, ম্যাথু কুনেমান, রাইলি মেরেডিথ, জশ ফিলিপি, ম্যাট রেনশ, অ্যাডাম জাম্পা।