Published : 05 Jun 2026, 09:45 AM
বয়স মোটে ৩২। জাতীয় দলে ফেরার লড়াই করার সময় যথেষ্টই আছে এখনও। কিন্তু সেই লড়াইয়ে ক্ষান্তি দিলেন কনা শ্রিকার ভারত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন ভারতের এই কিপার-ব্যাটার।
সামাজিক মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বিদায়ের ঘোষণা দেন ভারত। কোনো কারণ তিনি উল্লেখ করেননি, শুধু জানিয়েছেন নিজের গর্বের কথা ও পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
“গর্বিত হৃদয় ও কৃতজ্ঞতার রেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আমার অবসরের ঘোষণা করছি। দেশের হয়ে খেলা আমার জন্য ছিল জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান।”
“আমার এই যাত্রাপথে অসাধারণ সহনশীলতা ও শক্তির প্রয়োজন হয়েছে, কিন্তু টেস্টে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মানটুকু ছিল প্রতিটি মুহূর্তের জন্য মূল্যবান। চারজনের একটি পরিবারে, আমরা সবাই দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একই স্বপ্নকে লালন করেছি। আমার বোন, মা এবং বাবাকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ, তারা একটি পরিবেশ ও সহায়ক ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। তাদের ভালোবাসা, শৃঙ্খলা এবং কঠোর পরিশ্রমেরই ফসল আমি।”
ভারতের হয়ে ৭টি টেস্ট খেলেছেন ভারত। কোনো ফিফটি করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ইনিংসটি ৪৪ রানের। ডিসমিসাল করেছেন ১৯টি।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সহজাত কিপার তিনি ছিলেন না। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের শেষ সময়ে এসে কিপিং শুরু করেন। সেই তিনিই পরিশ্রম ও নিষ্ঠা দিয়ে ভারতের শীর্ষ কিপারদের একজন হয়ে ওঠেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম বড় ধরনের আলোড়ন তোলেন তিনি ২০১৪-১৫ মৌসুমে আন্ধ্রা প্রদেশের হয়ে ৩১১ বলে ৩০৮ রানের ইনিংস খেলে। রাঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে প্রথম কোনো কিপার-ব্যাটারের ট্রিপল সেঞ্চুরি ছিল সেটি। আন্ধ্রার ইতিহাসে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিও।
ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করলেও জাতীয় দলে আসতে পারছিলেন না ঋদ্ধিমান সাহা ও রিশাভ পান্তরা থাকায়। সেই সুযোগটি আসে সড়ক দুর্ঘটনায় পান্ত লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে পড়ায়। ২০২৩ সালে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি দিয়ে অভিষেক ভারতের। ওই সিরিজের চারটি টেস্ট খেলার পর আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও খেলেন।
পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দুটি টেস্ট খেলেন। ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় জায়গা হারাতে হয় তাকে। কিপিংয়ে দারুণ কিছু মুহূর্ত উপহার দিলেও খুব ধারাবাহিক ছিলেন না। বাদ পড়ার পর আর সুযোগ পাননি।
আইপিএলে প্রথম দল পান তিনি ২০১৫ সালে। কিন্তু দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি। অনেক অপেক্ষার পর ২০২১ আসরে তাকে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সেবার ৭ ইনিংস খেলে এক ফিফটিতে ১৯১ রান করেন ৩৮.২০ গড় ও ১২২.৪২ স্ট্রাইক রেটে। পরের আসরে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলতে পারেন দুটি ম্যাচ।
২০২৩ আসরে তিনি ছিলেন গুজরাট টাইটান্সে, ২০২৪ আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সে। গুজরাট রানার্স আপ হয়েছিল, কলকাতা চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ভারত ম্যাচ খেলার সুযোগই পাননি।