Published : 05 Jun 2026, 04:29 PM
জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডেতে নিয়মিত রান পেলেও ইনিংস বড় করতে পারছিলেন না তাওহিদ হৃদয়। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সেই প্রস্তুতিই সেরে নিলেন তিনি। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক উপহার দিলেন টানা দুটি সেঞ্চুরি।
আগের ম্যাচে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে শতরানের পর এবার গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বোলারদের উপর তান্ডব চালিয়ে তিন অঙ্কের ঠিকানায় পৌঁছে যান হৃদয়। ঝড়ো সেঞ্চুরিতে অবশ্য পরে তাকেও ছাড়িয়ে যান অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শুক্রবার পিকেএসপিতে ৬৫ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান হৃদয়। তার লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি এটি।
মুশফিকের সেঞ্চুরি আসে ৫৪ বলে। ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরির পথে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১২ হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি।
জাতীয় দলে মিডল অর্ডারে খেললেও এবারের লিগে তিন নম্বরে ব্যাট করছেন। টসজয়ী মোহামেডানকে ভালো শুরু এনে দেন এনামুল হক ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ। উদ্বোধনী জুটিতে ১০৭ রান তোলেন দুজন।
৬০ বলে ৫৩ করে নাঈম বিদায় নেওয়ার পর ক্রিজে যান হৃদয়। হাত খুলতে সময় নেননি খুব বেশি। ক্রিজে যাওয়ার পরপরই তিনি চড়াও হন মোহাম্মদ রুবেলের ওপর।
আগের ম্যাচে ৬ উইকেট শিকারি রহস্য স্পিনার যেন অসহায় হয়ে পড়েন হৃদয়ের সামনে। তার প্রথম চার বলের তিনটিই ছিল অফ স্ট্যাম্পের বাইরে। তিনটিতেই কাভার দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান হৃদয়। চার বলে তিন চার হজমের পর কিছুটা মিডিয়াম পেসারের মতো অ্যাকশনে বল করেন রুবেল। তবুও রেহাই পাননি। এবার স্কয়ার লেগ দিয়ে চার আদায় করে নেন হৃদয়। ওই ওভার শেষে হৃদয়ের রান দাঁড়ায় ১০ বলে ১৯!
রুবেলের ওই ওভারের পর হৃদয়ের স্ট্রাইক রেট একশর বেশি ছিল ৩৫ বল পর্যন্ত। পরে গতি কিছুটা কমলেও শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। এরপর এগোতে থাকেন টর্নেডোর গতিতে। ফিফটি থেকে শতরানে যেতে বল লাগে কেবল ১৯টি!
শেষ পর্যন্ত ৬৬ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থেকে ছাড়েন মাঠ। তার ইনিংসে চার ৮টি, ছক্কা ৪টি।
হৃদয়ের এমন ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সময় অপরপ্রান্তে ছিলেন মুশফিক, যাকে তিনি আদর্শ মানেন ছেলেবেলা থেকেই। ৬৮ বলে ৬২ রান করে এনামুলের বিদায়ের পর ২৫তম ওভারে ক্রিজে যান মুশফিক। তার ব্যাট উত্তাল হয়ে ওঠে দ্রুতই। প্রথম ১৫ বলেই করে ফেলেন তিনি ৩৩ রান।
পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ৩৪ বলে। এরপর আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। পরের পঞ্চাশে যেতে বল খেলেন তিনি ২০টি।
আউট হয়ে যান অবশ্য শতরানের পরই। তার ইনিংসে ছক্কা আধ ডজন, চার ৮টি।
দুজনের জুটিতে ১৭৩ রান আসে স্রেফ ১৬ ওভারেই!
বৃষ্টির কারণে ৪২ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শিরোপা প্রত্যাশী মোহামেডান তোলে ৩৩৪ রান।
তাদের দুজনের এমন ঝড়ো ইনিংসের দিনে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতিটা ভালো হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের। এবারের লিগে প্রথম খেলতে নেমেই নিজেকে মেলে ধরেন তিনি চেনা চেহারায়।
লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে আবাহনীর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৩০ রানে ৪ উইকেট নেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার।