Published : 04 Apr 2026, 10:58 PM
বিপিএলে ও ঘরোয়া অন্যান্য আসরে নানা সময়ে স্পিন বোলিং কোচের ভূমিকায় দেখা গেছে মোহাম্মদ রফিককে। কিংবদন্তি এই স্পিনারকে এবার দেখা যাবে বিসিবির কোচ হিসেবে। দেশের নানা পর্যায়ের স্পিনারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য তাকে বেছে নিয়েছে বোর্ড।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় শনিবার চূড়ান্ত নয় রফিকের নিয়োগ। এক বছরের চুক্তিতে বিসিবির স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন ৫৫ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার।
বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে রফিককে বেছে নেওয়ার কারণ ও তার কাজের সম্ভাব্য ধরন সম্পর্কে ধারণা দিলেন বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন।
“মোহাম্মদ রফিকের যে পারফরম্যান্স দেখি… ওর ক্যারিয়ারের পারফরম্যান্স এবং এখনও ওর খেলা যখন আমরা দেখি, তখন মনে হয় না যে অবসর নেওয়া একজন খেলোয়াড়। ওর যে ইনটেন্ট থাকে, মাঠের মধ্যে বড় বড় ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে সাধারণ একটা খেলায়ও… কাজেই আমাদের মনে হয়েছে, অনেক কিছু দেওয়ার আছে।”
“ও যদি আমাদের জুনিয়র লেভেলের ক্রিকেটার, এমনকি সিনিয়র লেভেলের ক্রিকেটার, যারা স্পিন বোলিং করে, তাদের সাথে যদি কাজ করে, ওর কাছ থেকে যে টিপসগুলো ওরা পাবে, সেটা ওদের জন্য খুব উপকারী হবে।”
রফিককে এই দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে দেশের ক্রিকেটে স্পিন বোলিং কোচের ঘাটতির কথাও বললেন নাজমূল।
“সত্যি বলতে, আমরা যদি একটু হিসাব করি, আমাদের প্রায় ৮-১০ জন পেস বোলিং কোচ আছেন। কিন্তু আমরা পিছন ফিরে তাকালে দেখব, ৩ জন স্পিন কোচ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আমাদের দেশের ক্ষেত্রে। ওই জায়গাটা খুব অ্যালার্মিং। আমাদের নিজস্ব কিছু স্পিন কোচ তৈরি করতে হবে।”
“রফিক প্রায় তৈরি একজন কোচ, যে এখনই সার্ভ করতে পারবে। এর পাশাপাশি আরও আমরা ৪-৫ জনকে ভবিষ্যতে হয়তো দেখতে পাব, যাদেরকে আস্তে আস্তে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। কারণ আস্তে আস্তে আমরা যখন বিকেন্দ্রীকরণে যাচ্ছি, আমরা কিন্তু এইগুলোর মুখোমুখি হচ্ছি যে, আমাদের যথেষ্ট লোকবল নেই, স্পেশালাইজড লোকবল নেই। ওটা খুব প্রয়োজন হবে আমাদের। ওইটা মাথায় রেখেই রফিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
বাংলাদেশের হয়ে ৩৩ টেস্ট, ১২৫ ওয়ানডে ও ১টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন রফিক। ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি জয়ের নায়কদের একজন তিনি, দেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ে তিনি ছিলেন ম্যান অব দা ম্যাচ। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে নিয়েছেন ১০০ টেস্ট উইকেটে। ভয়ডরহীন ও বিশাল হৃদয়ের ক্রিকেটার হিসেবে তার ছিল পরিচিতি।