২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পড়াশোনায় না পাওয়া নম্বর ক্রিকেট মাঠে পেয়ে রেকর্ডের শীর্ষে সুরিয়াকুমার

পড়াশোনায় কখনও ৫০-৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাননি সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ, এখন অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সাফল্যের সর্বোচ্চ শতকরা হার অর্জন করে দারুণ খুশি ভারতীয় অধিনায়ক।

পড়াশোনায় না পাওয়া নম্বর ক্রিকেট মাঠে পেয়ে রেকর্ডের শীর্ষে সুরিয়াকুমার
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। ছবি: ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Mar 2026, 10:16 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:11 PM

৮২ শতাংশ মানে যে কোনো ক্ষেত্রেই উৎকর্ষের ছাপ। বেড়ে ওঠার দিনগুলোয় পড়াশোনায় এমন সাফল্যই পেতে চাইতেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। কিন্তু কখনোই পারেননি ধারেকাছে যেতে। পারবেন কী করে, তার মনপ্রাণ জুড়ে ছিল তো ক্রিকেট! ভালোবাসার সেই আঙিনায় একটি জায়গায় ঠিকই কাঙ্ক্ষিত সেই নম্বর অর্জন করতে পেরেছেন তিনি। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের দারুণ তৃপ্তি সেখানেই।

সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসে আলাদা জায়গা পেয়েই গেছেন সুরিয়াকুমার। এছাড়াও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আরেকটি জায়গায় তার পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য। ভারতের নেতৃত্বে ৫২ ম্যাচে তার জয় ৪০টি, হার মোটে ৮টি। টাই হয়েছে ২টি ম্যাচ, পরিত্যক্ত ২টি। সব মিলিয়ে তার সাফল্যের হার ৮২ শতাংশ।

টি-টোয়েন্টিতে অন্তত ৫০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩২ জন অধিনায়ক। তাদের মধ্যে সাফল্যে শতকরা হারে শীর্ষে সুরিয়াকুমারই। আফগানিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আসগার আফগানের (৮১/৭৩%) একটু ওপরে আছেন ভারতীয় অধিনায়ক। এই দুজনের পরে আছেন আরেক ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শার্মা (৭৯.৮৩%)

অন্তত ২৫ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যে সাফল্যের শতকরা হারে সুরিয়াকুমারের ওপরে আছেন কেবল স্পেনের ক্রিস্তিয়ান মুনোস-মিলস (৮৪.৪৪%)।

ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন, পড়াশোনায় নম্বরের ঘাটতি ক্রিকেট মাঠে পুষিয়ে দিয়ে তিনি দারুণ তৃপ্ত। 

“স্কুল ও কলেজে যে শতাংশ পাওয়ার চেষ্টা করেছি, এখন ক্রিকেটে তা পাচ্ছি। (পড়াশোনায়) কখনোই ৫০-৬০ শতাংশের বেশি পাইনি। এখন এটা জানতে পেরে দারুণ লাগছে। যদিও পরিসংখ্যানকে খুব গুরুত্ব দেই না আমি। তবে কেউই তো ম্যাচ হারতে চায় না। আমিও চাই সব ম্যাচ জিততে।”

সুরিয়াকুমারের বাবা আশোক কুমার ইয়াদাভ ছিলেন ভাভা অ্যাটোমিক রিসার্চ সেন্টারের তড়িৎ প্রকৌশলী। তার চাওয়া ছিল, ছেলেও যেন পড়াশোনায় মনোযোগী হয়। তবে সুরিয়াকুমারের মন পড়ে থাকত ক্রিকেট মাঠে।

৩৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান জানালেন, ছেলের আগ্রহ দেখে বাবা-মা উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন ক্রিকেটের পথেই এগিয়ে যেতে। 

“আমার পরিবার প্রথমে অনেক চেষ্টা করেছে আমাকে শিক্ষিত করে তুলতে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে তারা বুঝে যান, পড়াশোনায় সেই ছেলের আগ্রহ তেমন নেই, এই ছেলেকে আটকে রাখা যাবে না।”

“তবে খেলাধুলায়ও তারা সবসময় সমর্থন জুগিয়েছেন, কারণ তারা দেখতে পাচ্ছিলেন যে আমি এটা উপভোগ করছি, খেলতে ভালোবাসি আমি। তারা তখন বলেছেন, ‘ঠিক আছে, খেলা চালিয়ে যাও। যদি পরে কিছু না হয় এখানে, আমরা আছি তোমার পাশে।’ এভাবেই এগিয়েছি আমি।”