Published : 03 Sep 2025, 10:21 AM
রোমাঞ্চের ছোঁয়াতেই শুরু করেছিলেন সনি বেকার। ইংল্যান্ডের ক্যাপ পেলেন তিনি জশ বাটলারের কাছ থেকে, যিনি শুধু ইংলিশ গ্রেটই নন, টন্টনের কিং’স কলেজে বেকারের পূর্বসূরী নায়কও। হেডিংলির গ্যালারিতে ছিল পরিবারের সদস্যরা। সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন স্বপ্নের আবহে। কে জানত, অভিষেকের এই দিনটি তার জন্য রূপ নেবে দুঃস্বপ্নে!
শুরুটা ব্যাটিং দিয়ে। দলের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান তিনি। কিন্তু সতীর্থদের চরম ব্যর্থতার দিনে তাকে ক্রিজে যেতে হলো ২৫তম ওভারেই। উইকেটে গিয়ে তিনি প্রথম বলেই বোল্ড। সেটি অবশ্য বড় কিছু নয়। ব্যাটিং তো তার মূল কাজ নয়। কিন্তু যেটি তার আসল কাজ, সেখানে তো অপেক্ষায় ছিল আরও ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ওভারেই এইডেন মার্করামের ব্যাটে তিনটি চার হজম করে রান দিলেন ১৪। পরের ওভারে সেই মার্করামের কাছেই আবার এলো দুই ছক্কা এক চার। দুই ওভারেই রান দিলেন ৩৪!
তৃতীয় ওভারে সামনে পেলেন রায়ান রিকেলটনকে। কিন্তু স্বস্তি পেলেন না সেখানেও। ওই ওভারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মারলেন দুটি চার।
এরপরও আরেকটি ওভার বোলিং পেলেন বেকার। কিন্তু পেলেন না নিস্তার। আবার তাকে তিন দফায় বাউন্ডারিতে পাঠালেন মার্করাম।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম স্পেলেই রান দিলেন চার ওভারে ৫৬!
আরেক পাশে জফ্রা আর্চারের তিন ওভার থেকে তখন রান উঠেছে স্রেফ পাঁচ। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৩১ রানে গুটিয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের বোলিংয়ে লড়াইয়ের আশা শেষ বেকারের ওই প্রথম স্পেলেই।
৩.৫ ওভারেই রান দেওয়ার ফিফটি হয়ে যায় বেকারের। ইংল্যান্ডের হয়ে যা রান দেওয়ার ফিফটিতে যৌথভাবে দ্রুততম। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল বেন স্টোকসের।
পাওয়ার প্লে শেষে আবার তাকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। এবার সেই মার্করামের সামনেই রান দেন স্রেফ দুটি। এর একটি আবার ওয়াইড থেকে। কিন্তু পরের দুই ওভারে আবার দেন ১৮ রান।
সব মিলিয়ে ৭ ওভারে ৭৬ রান খরচায় উইকেটশূন্য।

তার নাম উঠে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের নানা পাতায়। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে ওয়ানডে অভিষেকে এত রান দেননি আর কোনো বোলার।
ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ১০.৮৫। ওয়ানডে অভিষেকে অন্তত ৭ ওভার বোলিং করা বোলারদের মধ্যে যা সবচেয়ে খরুচে, ন্যূনতম ৫ ওভার বোলিং করা বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরুচে।
এমন বিভীষিকার অভিষেক হলো যার, সেই বেকার ইংল্যান্ডের সবচেয়ে উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভাদের একজন। ইংলিশ পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ মনে করা হচ্ছে তাকে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই। তার ইনসুইঙ্গার নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রচুর। তার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় নেই তেমন কারও।
ঘরোয়া ক্রিকেটেও শুরুটা দারুণ করেছেন ২২ বছর বয়সী পেসার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাত ম্যাচে দুই দফায় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ওয়ানডে কাপের ম্যাচে ছয় উইকেট নিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট আর দা হান্ড্রেড টুর্নামেন্টেও ছাপ রেখেছেন প্রতিভার।
কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুতেই বুঝে গেলেন, কতটা কঠিন এই জগৎ!
তবে তরুণ পেসার যাতে ভেঙে না পড়েন, বিশ্বাস না হারান, এজন্য সবকিছুই করছে তার দল। ম্যাচের পর তাকে দারুণভাবেই আগলে রাখলেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক।
“সবাই তার পাশে থাকবে। এই দলটির ধরনই এমন। আমরা এতটাই ঘনিষ্ঠ, সবাই পরস্পরের কাছের সঙ্গী। খেলার বাইরেও অনেকটা সময় আমরা একসঙ্গে কাটাই। সে সবাইকে তার সঙ্গে পাবে।”
“দিনটি তার জন্য কঠিন ছিল। তবে যেভাবে সে চেষ্টা করে গেছে, লড়াই করেছে, এত মার খাওয়ার পরও যেভাবে বারবার বল হাতে ছুটেছে আমাদেরকে একটি উইকেট এনে দিতে, সেটি দেখতে পারা ছিল দারুণ। প্রতিটি বোলারের কাছে আমরা এমন কিছুই দেখতে চাই।”
“সত্যি বলতে, চেষ্টা করছিলাম সে যেন একটি উইকেট পায়। অবশ্যই বল হাতে আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। তারা যেভাবে ব্যাটিংয়ের শুরুটা করেছে, এরপর আমাদের আর ম্যাচ জয়ের সুযোগ ছিল না। এজন্যই আমি চেষ্টা করছিলাম তাকে (বেকার) কিছু একটা দিতে। সব বোলার তখন চেষ্টা করছিল স্কিল পরখ করে নিতে এবং অনুশীলনে তারা যা কিছু চেষ্টা করছে, তা ম্যাচে বাজিয়ে নিতে।”
“দক্ষিণ আফ্রিকা যেভাবে রান তাড়া করেছে, মার্করাম নেমেই যেভাবে অতি আগ্রাসী ব্যাটিং করেছে, ছোট লক্ষ্য তাড়ায় তা ছিল আদর্শ। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে, যখন স্রেফ দু-একজন ফিল্ডার থাকে বৃত্তের বাইরে। রান আটকানো কঠিন ছিল তখন। এজন্যই হয়তো সে (বেকার) ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে মার্করাম অসাধারণ কিছু শটও খেলেছে, তাকে টুপি খোলা কুর্নিশ।”