অ্যাশেজ
Published : 06 Jan 2026, 02:45 PM
ট্রাভিস হেড কাভার দিয়ে বল বাউন্ডারিতে পাঠানোর সঙ্গেই গোটা গ্যালারি যেন জেগে উঠল। সেঞ্চুরি ছোঁয়া ব্যাটসম্যানকে করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানালেন দর্শকরা। নিজের ইনিংসকে আরও এগিয়ে নিলেন বাঁহাতি ওপেনার। পরে চলতি অ্যাশেজে নিজের প্রথম শতক উপহার দিলেন স্টিভেন স্মিথ। তাদের সৌজন্যে বড় লিডের পথে অস্ট্রেলিয়া।
সিডনিতে পঞ্চম ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের রান ৭ উইকেটে ৫১৮। ইংল্যান্ডের চেয়ে ১৩৪ রানে এগিয়ে থেকে মঙ্গলবারের খেলা শেষ করে তারা।
৯১ রানে দিন শুরু করা হেড খেলেছেন ১ ছক্কা ও ২৪ চারে ১৬৬ বলে ১৬৩ রানের চমৎকার ইনিংস। চলতি অ্যাশেজে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। সবগুলোই করেছেন তিনি ওপেনিংয়ে নেমে। অ্যাশেজের এক সিরিজে হেডের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি নেই আর কোনো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারের।
ক্যারিয়ারের ৩৭তম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ১২৯ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন স্মিথ। অস্ট্রেলিয়ান তারকার ২০৫ বলের ইনিংসটি গড়া ১ ছক্কা ও ১৫ চারে। ক্রিজে তার সঙ্গী বাউ ওয়েবস্টার অপেক্ষায় পঞ্চম টেস্ট ফিফটির। ৪টি চারে ৪২ রানে খেলছেন তিনি।
এই ইনিংসের সৌজন্যে অ্যাশেজে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি ও রানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেলেন স্মিথ। তার সেঞ্চুরি ১৩টি ও রান ৩ হাজার ৬৮২। দুই জায়গায় শীর্ষে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত ডন ব্র্যাডম্যান, ১৯ সেঞ্চুরি ও রান ৫ হাজার ২৮।
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন ইংলিশ ব্যাটিং গ্রেট জো রুট। একই টেস্টে স্মিথ ও রুটের শতক দেখা গেল প্রথমবার।
হেড ও নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নিসারের ব্যাটে দিনের শুরুটা ভালো করে ২ উইকেটে ১৬৬ রান নিয়ে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়া। দিনের ষষ্ঠ ওভারে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন হেড, ১০৫ বলে। পরে ম্যাথু পটসকে টান তিনটি চার হাঁকান তিনি।
টেস্টে এটি হেডের দ্বাদশ সেঞ্চুরি, সিডনিতে তিন অঙ্কের স্বাদ পেলেন প্রথমবার। অস্ট্রেলিয়ায় রেকর্ড সাতটি ভিন্ন ভেন্যুতে সেঞ্চুরি করা পঞ্চম ক্রিকেটার তিনি। এই কীর্তি আছে আর স্টিভ ওয়াহ, ম্যাথু হেইডেন, জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও ডেভিড ওয়ার্নারের।
সেঞ্চুরির কয়েক ওভার পর দুই দফায় (১২১ ও ১২৪ রানে) জীবন পান হেড। ব্রাইডন কার্সের বলে বাউন্ডারিতে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন উইল জ্যাকস। দুই ওভার পর থার্ডম্যান বাউন্ডারিতে ক্যাচ নিতে পারেননি কার্স, এবার বোলার পটস।
আরেক প্রান্তে নিসার ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে হেডকে সঙ্গে দিয়ে যান। তাদের ব্যাটে প্রথম ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া।
নিসারের বিদায়ে ভাঙে ৭২ রানের জুটি। ৪টি চারে ২৪ রান করতে ৯০ বল খেলা নিসার কট বিহাইন্ড হন কার্সের বলে। এরপর স্মিথকে নিয়ে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটি গড়েন হেড।
সেঞ্চুরির পর দেড়শতেও চার মেরে পা রাখেন হেড, ১৫২ বলে। অ্যাশেজে যৌথভাবে যা চতুর্থ দ্রুততম দেড়শ।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে হেডকে থামান জেকব বেথেল। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অস্ট্রেলিয়ান তারকাকে এলবিডব্লিউ করে ৫৪ রানের জুটি ভাঙেন অনিয়মিত ইংলিশ বাঁহাতি স্পিনার।
দেড়শ ছোঁয়া ইনিংসটির সৌজন্যে এবারের অ্যাশেজে ৬০০ রান হলো হেডের। তালিকায় তার ধারকাছে নেই কেউ। ৩৯৪ রান করে দুইয়ে জো রুট।
হেড ফেরার পর যখন মাঠে নামেন উসমান খাওয়াজা, তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান দর্শকরা। বিদায়ী টেস্টে অনেকটা সময় ক্রিজে কাটিয়ে ১৭ রান (৪৯ বলে) করে ফেরেন তিনি কার্সের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। স্মিথের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৫১ রান।
অ্যালেক্স কেয়ারি দ্রুত বিদায় নিলে স্মিথকে সঙ্গ দেন ক্যামেরন গ্রিন। এই সময়ে ১৬৬ বলে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন স্মিথ। আগের তিন টেস্টে কেবল একটি ফিফটি করা অস্ট্রেলিয়ান তারকা সিরিজের শেষ ম্যাচে এসে পেলেন তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া।
গ্রিনকে (১ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৭) ফিরিয়ে ৭১ রান যুগলবন্দি ভাঙেন কার্স। এরপর দিনের বাকি সময় ওয়েবস্টারকে নিয়ে কাটিয়ে দেন স্মিথ। ৮১ রানের অবিচ্ছিন্ন বন্ধনে দিনের খেলা শেষ করেন তারা দুইজন।
ইনিংসে সাতটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। টেস্টে ইতিহাসে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালে ওভাল টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ইনিংসে আটটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি পেয়েছিল ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৮৪
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১২৪ ওভারে ৫১৮/৭ (আগের দিন ১৬৬/২) (হেড ১৬৩, নিসার ২৪, স্মিথ ১২৯*, খাওয়াজা ১৭, কেয়ারি ১৬, গ্রিন ৩৭, ওয়েবস্টার ৪২*; কার্স ২৩-২-১০৮-৩, পটস ২৫-১-১৪১-০, টং ২৭-০-৮৯-১, স্টোকস ২৬-৬-৮৭-২, জ্যাকস ৮-০-৩১-০, বেথেল ১৫-১-৫০-১)