Published : 16 Jan 2026, 09:22 AM
কেউ হুমকি দিচ্ছেন দেখে নেওয়ার, কেউ ভয় দেখাচ্ছেন রাস্তাঘাটে হেনস্থা করার। গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। গালিগালাজ তো চলছেই সমানে। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনসহ বেশ কজন ক্রিকেটার ফোনে এরকম হুমকি পাচ্ছেন প্রচুর পরিমাণে।
ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে বৃহস্পতিবার বিপিএলের ম্যাচ দুটি বর্জন করেন ক্রিকেটাররা। দুই ম্যাচের চার দলের কেউ মাঠেই আসেননি।
নানা বিতর্ক, উত্তেজনা ও টানপোড়ের পর রাতে বিসিবি, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ও ক্রিকেটারদের ত্রিমুখী বৈঠকে মেলে সমাধান। শুক্রবার থেকে আবার বিপিএল শুরুর কথা জানানো হয়।
পরে সংবাদ সম্মেলনে মিঠুন দাবি করেন, তাদের অনেককেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
“ক্যামেরার সামনে আমরা যারা এসেছি, তারা সবাই পেয়েছে (হুমকি), শুধু আমি নই। কোনো না কোনোভাবে বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে আমাদের বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এটা সত্য।”
মিঠুনের বললেন, নিজেদের মর্যাদাহানি হওয়ার প্রতিকার চেয়েই তারা কঠোর পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
“দেখনি, আপনারা সাংবাদিক, আমরা ক্রিকেটার। আমাদের ভাষা আপনারা বোঝেন, আপনাদের ভাষা আমরা বুঝি। আমি যদি বিতর্কিত কথা বলি, প্রতিটি মানুষের সেটি বোঝার ক্ষমতা আছে। আমি নিশ্চিত, এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করিনি, যেটা কাউকে ছোট করে বা বিতর্কিত কিছু কিংবা দেশের বিপক্ষে কোনো কথা বলিনি। আমার একমাত্র ইস্যু ছিল ক্রিকেট, আমাদের সবার ইস্যু ছিল ক্রিকেট। আমাদের সম্মান। প্রতিটি মানুষের নিজের সম্মান আছে এবং সেটি রক্ষা করার অধিকার তার আছে। আমরা আমাদের সম্মান রক্ষা করার অধিকার থেকে কথা বলেছি।”
“এখানে আমাদেরকে দেশদ্রোহী বা দেশের শত্রু হিসেবে বিভিন্নভাবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। আমরা জানি না, এখানে কোনো একটা শব্দ দেশের বিরুদ্ধে ছিল কি না। আমার মনে হয় না, আমাদের ক্রিকেটাররা বা কোয়াবের যারা আছে, তারা দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কথা বলেছে বা দেশের স্বার্থ রক্ষা না করে কোনো কথা বলেছে।”
বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান পরে জানান, বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে বলবেন তারা।
“আমাদের নিরাপত্তা বিভাগ আছে। আমরা তো এখন শুনলাম। আমি ওটায় অনুরোধ করব, যার যার কাছে এসেছে (হুমকি), এই ফোন নম্বরগুলি যদি আমাদেরকে দেয়, আমরা আমাদের নিরাপত্তা বিভাগকে দেব, উনারা দায়িত্ব নেবেন। আমরা এটাকে গুরুত্ব দিয়েই নিচ্ছি।”