Published : 09 Jul 2026, 08:34 AM
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ অভিযানে, এ পর্যন্ত আক্রমণভাগের শক্তি, ধৈর্য্য ও মানসিক শক্তির পরীক্ষা দিয়েছে ফ্রান্স। কিন্তু এবার আসলে পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছে দিদিয়ে দেশোঁর দল। দারুণ উজ্জীবিত মরক্কো সব বিভাগেই যে চ্যালেঞ্জ জানাবে গত বিশ্বকাপের রানার্সআপদের।
বস্টনে ১০ জুলাই ২টায় (এএম) সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। চার বছর আগে, কাতার বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনালে দেখা হয়েছিল তাদের। মরক্কোর স্বপ্ন গুঁড়িয়ে সেবার ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স।
এবার অবশ্য মরক্কো ‘আন্ডারডগ’ নয় মোটেই। আত্মবিশ্বাসী ও প্রতিভায় ঠাসা মোহামেদ ওয়াহ্বির দল। যারা শিরোপা নিয়ে ঘরে ফেরার আশাবাদ জানিয়েছে খোলাখুলিভাবেই।
শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে অসীম সহিষ্ণুতার পরীক্ষা দিয়ে ফ্রান্স জিতে ১-০ গোলে। রক্ষণের চাদরে প্যারাগুয়ে নিজেদের রেখেছিল মুড়িয়ে। তাতে সহজাত আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা মেলা কঠিন হয়ে গিয়েছিল এমবাপে-ওলিসেদের জন্য। গতিও কমে গিয়েছিল তাদের খেলার। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করার পথ খুঁজতে হয়েছিল হন্যে হয়ে।
অবশেষে, ৭০তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের সফল স্পট কিকে খোলে ম্যাচের ‘ডেডলক।’ গোলটি আগলে রেখে জেতে ফ্রান্স। এমবাপে পান চলতি আসরে সপ্তম গোলের দেখা। তবে, এই ম্যাচটিই স্পষ্ট করে দেয়, শক্তিশালী আক্রমণভাগের কাঁধে সওয়ার হওয়া ফ্রান্সকে মুখোমুখি হতে হবে আরও কঠিন পরীক্ষার।
ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রস্তুত মরক্কোও। ওয়াহ্বির দল ইতোমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে, প্রতিপক্ষকে তারা ফেলতে পারে সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে। নির্দিষ্ট সময় ধরে বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে। গতি ও নিখুঁত আক্রমণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে শাস্তিও দিতে সক্ষম তারা। বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতে ব্রাজিলকে ১-১ গোলে রুখে দেওয়া ম্যাচেই সক্ষমতা মেলে ধরেছিল তারা।
বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়টি মরক্কোর সামর্থ্যের আরেকটি প্রমাণ। ওই ম্যাচেই তারা দেখিয়ে দেয়, ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে তারা। অপরাজিত থাকা ওয়াহ্বির দল আরও পরিণত হয়ে উঠছে সময়ের সাথে।
গ্রুপ পর্বে ৭ পয়েন্ট পেয়েছিল মরক্কো। পাঁচবারের রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ড্রয়ে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরুর পর স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে তাদের জয় দুটি তুলে ধরেছিল, স্রেফ ২০২২ সালে সেমি-ফাইনালে খেলার আবেগের পুনরাবৃত্তি করতে নয়, প্রতিশ্রুতি রাখতেই এসেছে তারা।
অন্যদিকে, মরক্কোর মতো টেকনিক্যালি দক্ষ, শারীরিক সক্ষমতায় পূর্ণ এবং আত্মবিশ্বাসী দলের মুখোমুখি ফ্রান্স হয়নি এখনও। শেষ বত্রিশের ম্যাচে সুইডেনকে তারা হারিয়েছিল অনায়াসে। প্যারাগুয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও, তারা মরক্কোর মতো প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি।
কোয়ার্টার-ফাইনালে তাই পরিষ্কার হয়ে যাবে, চার ফরোয়ার্ডে সাজানো ফ্রান্সের আক্রমণভাগ মরক্কোর বিপক্ষে দাপট দেখাতে কিংবা বিশ্বকাপের সামনের পথচলায় দলকে পথ দেখাতে পারবে কিনা। কেননা, মরক্কো এবার এমন প্রতিপক্ষ, যারা পাল্টা আক্রমণে ক্ষতি করতে সক্ষম এবং রক্ষণের পরীক্ষা নিতেও সমান পারদর্শী।
বস্টনের ম্যাচের আগে দুই দলের দুর্ভাবনা বাড়িয়েছে চোট। পেশির চোটে ভোগা নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনিকে খুব সম্ভবত পাবে না ফ্রান্স। অন্যদিকে, ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করা স্ট্রাইকার ইসমায়েল সাইবারিকে ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে খেলতে হতে পারে মরক্কোকে।
আক্রমণভাগ নিয়ে অবশ্য চিন্তামুক্ত ফ্রান্স। এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্রাডলে বার্কোলা- এই চার জনকে নিয়ে, এই আসরের সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণভাগের একটি ফ্রান্সের। আর আত্মবিশ্বাসে ফুটছে মরক্কো; যাদের সে অর্থে বড় তারকা নেই, কিন্তু আছে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘বড়’ দল হয়ে ওঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত। বস্টনে তাই আসল পরীক্ষায় বসতে হবে ফ্রান্সকে।