Published : 09 Jul 2026, 08:13 AM
নির্বাচনি ইশতেহারের ‘ন্যাশনাল এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পূরণে বিএনপি সরকার পড়ে থাকা আটটি স্টল পোর্টকে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিলেও এর ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী হতে পারছে না বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম বলছেন, এসব বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখেন না।
আর নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলছেন, “যে স্কেলে এগুলোর জন্য ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান করা হচ্ছে সেই প্রয়োজন আমি মনে করি না।”
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে দেশের ১৫টি বিমানবন্দরের একটি তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। বাকি ১২টির মধ্যে কক্সবাজার, সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী ও বরিশাল বিমানবন্দরের কাজ চলছে।
বাকি সাতটির মধ্যে তেজগাঁও, বগুড়া ও শমসেরনগর বিমান বন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট অপারেশনাল কাজের জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন বলে ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বরদী, কুমিল্লা ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর ‘অচল’ এবং বাগেরহাটে একটি বিমানবন্দর নির্মাণাধীন।
এরমধ্যে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বগুড়া, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, পাবনার ঈশ্বরদী, মৌলভীবাজারের শমশেরনগর, বাগেরহাটের খানজাহান আলী, কুমিল্লা ও পটুয়াখালীর স্টলপোর্টকে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
গত ১৮ জুন জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই আট বিমানবন্দর নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানান বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা।
স্টল মানে হচ্ছে শর্ট টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতের শাসক ব্রিটিশ সরকার এসব বেশিরভাগ স্টলপোর্ট তৈরি করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে অনেকগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। কয়েকটিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে বিমান বাহিনী। এগুলোকে ব্মিানবন্দরে রূপান্তর করা কয়েক হাজার কোটি টাকার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্টলপোর্টের বাইরে বগুড়া, সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহী বিমানবন্দরকে ‘আন্তর্জাতিক গেইটওয়ে’ হিসেবে গড়ে তোলা কথা বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাাহমুদ চৌধুরী।
তবে দেশের এয়ারলাইন্স অপারেটর ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম এবং সিলেটকেই এখনো পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা যায়নি। এয়ারলাইন্সগুলো ঢাকার বাইরে থেকে আন্তর্জাতিক রুটে অপারেট করতে চায় না।
কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিস্তর টাকা ঢালা হলেও তার ফল কী, সেই প্রশ্ন উঠছে এখন। আগের আওয়ামী লীগ সরকারই দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে কক্সবাজারের রানওয়ে উন্নত করতে, সেটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার তোড়জোড় তখনো চলেছিল, এখন আবার নতুন করে চলছে।

কিন্তু সেখানে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন যাবে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করতে পারছেন না। আবার চার বিমানন্দরকে ‘ইন্টারন্যাশনাল গেইটওয়ে’ করার পরিকল্পনার কথা বলা হলেও সৈয়দপুর ছাড়া বাকিগুলোতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করাই কঠিন। সেগুলো কী করে আন্তর্জাতিক গেইটওয়ে হবে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে এভিয়েশন খাতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা সেতুর কল্যাণে ঢাকা থেকে সড়ক পথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের সময় অনেক কমে আসায় বরিশাল ও যশোরের ফ্লাইটগুলো যাত্রী হারিয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ভালো হওয়ার পর রাজশাহীর পথেও যাত্রী কমে গেছে।
এ অবস্থায় দেশের ভেতরে মূলত কক্সবাজার, সৈয়দপুর আর সিলেট রুট ফ্লাইট চালিয়ে টিকে আছে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো। সিলেটের রাস্তাটা খারাপ বলে এখনো যাত্রী পাওয়া যায়। তবে রাস্তা ঠিক হয়ে গেলে ঢাকা থেকে সড়ক পথে চার ঘণ্টায় সিলেট চলে যাওয়া যাবে। তখন আকাশপথে যাত্রী পাওয়া কঠিন হবে।
বিলাসিতা না প্রয়োজন?
দেশের অন্যতম বেসরকারি এয়ারলাইন নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান মনে করেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এসব বিমানবন্দরের পেছনে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হবে, সেই অনুপাতে কাজে আসবে না।
“বগুড়া, সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহীতে নতুন চারটা এয়ারপোর্টকে ইন্টারন্যাশনাল করার চিন্তা করা হচ্ছে। কিন্তু এখানে কমার্শিয়াল ভাইবটা সেভাবে নাই। এগুলো খুব লিমিটেড ইউজ হবে, বিদেশি এয়ারলাইন আসবে কি না আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। যে স্কেলে এগুলোর জন্য ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান করা হচ্ছে, সেই প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।”
তিনি বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল হিসেবে আমাদের সৈয়দপুরের লিমিটেড একটা ব্যবহার আছে নর্থ ইন্ডিয়া এবং নেপাল ও ভুটানের জন্য। যশোর আর রাজশাহীতে ডোমেস্টিক ফ্লাইটই ঠিকমত হয় না… একটা দুটো করে হয়। সেখানে কোন যুক্তিতে ইন্টারন্যাশনাল হবে? আমি এর যৌক্তিকতা আমি খুঁজে পাই না। আর এমনিতেই আমাদের দেশে চাষযোগ্য জমি কম, সেখানে এত বেশি বিরাট এয়ারপোর্ট তৈরি করা যৌক্তিক না বলে আমার মনে হয়।”
আর কক্সবাজার বিমানবন্দর নিয়ে তার মফিজুর রহমানের মূল্যায়ণ, “কক্সবাজার সেই অর্থে বিদেশি টুরিস্ট ডেস্টিনেশন না, এটা অ্যাবসলিউটলি আমাদের ডমেস্টিক ডেস্টিনেশন।”
নতুন যে আটটি স্টলপোর্টকে বিমানবন্দর করার কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে বাগেরহাটের কিছু সম্ভাবনা দেখছেন মফিজুর রহমান; আর সেটা কিছুটা অর্থনৈতিক, কিছুটা পর্যটনের কারণে।
বেবিচকের তালিকায় বাগেরহাটে খানজাহান আলী নামের একটি বিমানবন্দর রয়েছে, তবে প্রায় দুই দশক ধরে সেটির ‘স্ট্যাটাস’ হচ্ছে ‘নির্মাণাধীন’।

১৯৯৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একাধিকবার বিমানবন্দরটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই কাজ শুরু হয়নি। এ বিমানবন্দর থেকে খুলনা শহর ও মোংলা বন্দর দুটোই কাছে।
বাগেরহাটের এই বিমানবন্দরটির সম্ভাবনা কোথায়, তার ব্যাখ্যায় নভো এয়ারের এমডি বলেন, “ওখানে অনেক ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন হয়েছে। আবার সুন্দরবন কেন্দ্রিক একটা ট্যুরিজম আছে। সেখানে পোর্ট আছে। সেসব দিক থেকে বাগেরহাটে একটা বিমানবন্দর হতে পারে। কিন্তু আমি অন্য কোনো এয়ারপোর্টের যৌক্তিকতা দেখি না। এখন যেগুলোর প্ল্যান করা হচ্ছে, বেসিক্যালি এগুলোর ব্যবহার খুব সীমিত থাকবে।”
তিনি বলেন, “ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কিছুটা ব্যবহার হতে পারে। আর শমশেরনগরও হতে পারে, কিন্তু এগুলো সেভাবে কমার্শিয়াল এয়ারপোর্ট হবে না। স্টলপোর্ট হিসেবে হতে পারে, কিন্তু এখানে কমার্শিয়ালি অপারেশন ভায়াবল হবে না।”
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, “আমরা যে কোনো প্রজেক্টের মধ্যে এত বেশি টাকা খরচ করি! আল্টিমেটলি এগুলো তো আমাদের জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে যায়। তো এটা আমার কাছে মনে হয় বিলাসিতা, একচুয়ালি ভায়াবল যেগুলো আছে, কমার্শিয়াল ভায়াবিলিটি আছে সেগুলো করা উচিত। বাকিগুলো আমি মনে করি না যে এটা করা কোনভাবেই যৌক্তিক।”
ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা হয় এসব বিষয়ে। বগুড়ায় বিপুল খরচ করে বিমানবন্দরের যৌক্তিকতা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য তিনি করতে চাননি, নামও প্রকাশ করতে চাননি।
তবে তিনি বলছেন, “ঢাকা থেকে বগুড়ার ফ্লাইং টাইম হবে ২০ মিনিটেরও কম। কিন্তু এখানে যাওয়ার জন্য অন্তত একঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে একজন যাত্রীকে এয়ারপোর্টে ঢুকতে হবে। প্লেনের ওঠা-নামা, এয়ারপোর্টের ফর্মালিটিজ সব মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লেগে যাবে ঢাকা থেকে বগুড়া পৌঁছাতে।
“আর সড়ক পথে ঢাকা থেকে বগুড়ায় যেতে এখন সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে। এখন ঢাকার দক্ষিণভাগে যারা বাস করেন, সেই যাত্রীরাই চট্টগ্রামে যেতে ফ্লাইট প্রেফার করছেন না। কারণ যাত্রাবাড়ী থেকে এয়ারপোর্টে এসে ফ্লাইট ধরে চট্টগ্রামে যাওয়ার চেয়ে বাস ধরা অনেক কম খরচের। সময়ের দিক থেকে সামান্যই হেরফের হয়।”
সিলেটের রাস্তা উত্তরবঙ্গের মত ভালো হলে সেখানেও ডমেস্টিকে যাত্রী কমবে বলে মনে করেন ইউএস বাংলার এই কর্মকর্তা।

বিপুল বিনিয়োগ, সম্ভাবনা শূন্য
সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই কক্সবাজারের উদাহরণ টানলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহেদুল আলম।
“কক্সবাজারে একটা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করা হয়েছে। এগারো হাজার কোটি টাকা খরচ করে সমুদ্রের মধ্যে থেকে রানওয়ে বের করা হয়েছে। এটা করে কী হয়েছে? আমরা বায়োডাইভার্সিটি নষ্ট করেছি। মহেশখালীকে আমরা ডেজার্টেড করে দিয়েছি। বে অব বেঙ্গলে আমরা একটা ডিজাস্টার করেছি। এখন দেখা যাচ্ছে এই কক্সবাজার এয়ারপোর্টে কোনো এয়ারলাইনই ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট অপারেট করতে রাজি না।”
তিনি বলেন, “বিগত ইন্টেরিম গভার্নমেন্টের সময় দেখেছি বিমানসহ সব এয়ারলাইনন্সকে সরকারের পক্ষ থেকে রিকোয়েস্ট করা হয়েছিল, কক্সবাজার থেকে অন্তত একটা ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট চালু করার জন্য। কিন্তু একটা ফ্লাইটও চালু করতে রাজি হয়নি কেউ। ইভেন বিমানও রাজি হয়নি, বিমান তো সরকারি প্রতিষ্ঠান সেও রাজি হয়নি।
“এটাতো কোনো লাভজনক রুট না। যে বেসিক ট্রাফিক থাকতে হবে অর্থাৎ কক্সবাজার থেকে ইউরোপ বা আমেরিকায়… যদি সপ্তাহে ১০ বা ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করত, তাহলে সেই রুটটা ভয়াবল হত।”
চট্টগ্রাম ২৬ বছর আগে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেও সেভাবে যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আসছে না, সে কথা মনে করিয়ে দিলেন ওয়াহেদুল আলম।
তিনি বলেন, “চিটাগং এয়ারপোর্টে কিন্তু এখনো প্রপারলি বা ট্রুলি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট হয়নি। সেখানে এখনো বিদেশি এয়ারলাইন একটা-দুইটা আসে, কয়দিন পর আবার চলে যায়। এভাবে আসা-যাওয়ার মধ্যে আছে, কোনো একটা সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে না।
“তারপরে চিটাগং এয়ারপোর্টে নানা রকমের ব্যবহারিক সমস্যা আছে। ওখানে ট্যাক্সিওয়ে নাই, যার ফলে এয়ারলাইনগুলো ওখানে ম্যানুভার করতে অসুবিধা হয়। ওখানে কার্গো কমপ্লেক্স নাই, কোনো সিকিউরিটি সিস্টেম নাই… আরও অনেক অনেক ধরনের সমস্যা আছে।”
তার প্রশ্ন, চট্টগ্রামের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্য বা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে থাকে। সেই চট্টগ্রাম যদি না পারে, তাহলে কক্সবাজার কী করে পারবে?
“কক্সবাজারে কি চট্টগ্রামের চেয়ে বেশি লোকজন থাকে? সিলেটেও আমরা এখনো একটা প্রপার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করতে পারিনি। অথচ সিলেটের একটা বিশাল অংশ মানুষ ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে থাকে।”
তিনি বলেন, “আমরা ইন্টেরিম সরকারের সময় দেখলাম যে সরকার সিদ্ধান্ত নিল সিলেট থেকে কার্গো ফ্লাইট অপারেট করবে। ভালো কথা। কিন্তু সিলেট থেকে কে কার্গো অপারেট করবে? একটা ফ্লাইট কোনরকমে ঢাকঢোল পিটিয়ে করা হল, তারপরে সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। করতে গেলে তো একটা বাস্তব চিন্তা করতে হবে।”
নতুন বিমানবন্দরগুলোর বিষয়ে সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন মন্তব্য করে ওয়াহেদুল আলম বলেন, “এখন প্রতিদিনই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আমরা সাতটা এয়ারপোর্ট করব, চারটা ইন্টারন্যাশনাল করব–ইত্যাদি। এগুলো এভাবে হয় না। এয়ারপোর্ট হচ্ছে একটা ম্যাসিভ ইনভেস্টমেন্টের ব্যাপার এবং এটা প্ল্যান করে কাজ করতে হবে। টাকা ঢেলে এয়ারপোর্ট তৈরি করে তারপর প্ল্যান করলে হবে না। আমাদের এখানে সবকিছু করে তারপর আমরা প্ল্যানিং করি।
“এখন এই বিমানবন্দরগুলো কার্যকর হবে কিনা, ফাইন্যান্সিয়ালি ও কমার্শিয়ালি ভায়াবল হবে কিনা, অন্যান্য আরো আনুষঙ্গিক ব্যাপারে কী ধরনের সম্ভাবনা আছে, সেটা নিয়ে তো দেশীয় এয়ারলাইনগুলোর সাথে কথা বলতে হবে। বিদেশি এয়ারলাইনগুলোরও থাকা উচিৎ এই প্রক্রিয়ায়। কারণ তারাই (এয়ারলাইনগুলো) এই বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করবে। তাহলে সেই জিনিসটা বাস্তবসম্মত হবে। তা না হলে ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার অবস্থা হবে।”

সরকার আশাবাদী
গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে উদ্যোগী হন। এরপর বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে নতুন উড়োজাহাজ কেনাসহ বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা বলতে শোনা যায়।
এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বিমান। এই উড়োজাহাজগুলো কিনতে সরকারের খরচ হবে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)।
নতুন বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে বেশি তোড়জোড় শুরু হয় বগুড়াকে ঘিরে। সরকারের কর্তাব্যাক্তিরা এর মধ্যেই কয়েকদফায় বগুড়া বিমানবন্দর সফর করেছেন।
সবশেষ চলতি মাসে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় নতুন করে চারটি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার পরিকল্পনা উঠে আসে। বিভিন্ন সভা-বক্তৃতায় সরকারের মন্ত্রীরা বিমানবন্দর তৈরির বিষয়ে কথা বলছেন, বিমানবন্দর তৈরি হলে ওইসব এলাকার বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ বাড়বে বলে তারা তুলে ধরছেন। যদিও খাত সংশ্লিষ্টরা এসব বক্তৃতার সঙ্গে একমত নন।
গত রোববার ঢাকায় বেবিচক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে, আমাদের সরকার দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরকে পুরোপুরি সচল করার জন্য সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে বগুড়ায় একটি নতুন বিমানবন্দর উন্নয়নের কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
“এই কৌশলগত পরিকল্পনাগুলো বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের রূপান্তর ঘটাচ্ছে এবং দেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পথ তৈরি করছে। তাছাড়া, এই পদক্ষেপগুলো বাণিজ্য, পর্যটন, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা মূলত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে।”