Published : 08 Jul 2026, 11:23 PM
বাণিজ্য খাতে করা অর্থায়নের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে যেসব ব্যাংকের সার্বিক খেলাপি ঋণ যত বেশি, বাণিজ্যে অর্থায়নে (ট্রেড ফাইন্যান্সে) তাদের খেলাপির হার ৮০ শতাংশেরও বেশি।
বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘ট্রেড সার্ভিসেস অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এমন তথ্য তুলে ধরা হয়।
এ বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে বিআইবিএমের অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, মূলধনী যন্ত্রপাতি, তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমাদানি, চিনি ও সার জাতীয় পণ্য, জ্বালানি এবং স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি সংক্রান্ত খাতে ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ব্যবসায় চলতি মূলধন যোগানো, রপ্তানি খাতে বিনিয়োগ ও স্থানীয় পর্যয়ে ভোক্তাদের জন্য আমদানি করা পণ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয়ে যে অর্থায়ন করা হয় তাই বাণিজ্যে অর্থায়ন।
অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি রপ্তানি খাতের বাণিজ্য অর্থায়নেও খেলাপি বাড়ার তথ্য দিয়ে অধ্যাপক হাবীব বলেন, ‘‘গবেষণায় রপ্তানি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। মতামত জরিপে প্রায় সব ব্যাংকারই মনে করেন, আইনগতভাবে কার্যকর ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি ছাড়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহারের ফলে রপ্তানি অর্থায়নে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হচ্ছে।
গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি (ঋণপত্র) মূলত রপ্তানির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য। কিন্তু চুক্তি যদি দুর্বল, বিতর্কিত বা আইনগতভাবে কার্যকর না হয়, তাহলে পুরো অর্থায়ন প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এর ফলে রপ্তানি আয় সময়মত না আসার আশঙ্কা তৈরি হয়। অর্থ আদায় না হলে ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তখন অর্থায়ন জোরপূর্বক ঋণে পরিণত হয়ে ব্যাংকের খেলাপি বাড়িয়ে দেয় বলে কর্মশালায় বলা হয়।
ব্যাক টু ব্যাংক এলসি গুণগত মানের না হওয়ায় বাণিজ্যে অর্থায়নে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার নিয়মিত বাড়ছে। এজন্য বাণিজ্যে অর্থায়নের প্রক্রিয়া আধুনিক করার সুপারিশ করেন অধ্যাপক হাবীব।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কাগজবিহীন করতে ইলেকট্রনিক ট্রেড ডকুমেন্টের জন্য আধুনিক আইনগত ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
গবেষণা প্রতিবেদনটি যৌথভাবে তৈরি করেছেন অধ্যাপক হাবীব, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক রাহাত বানু ও প্রভাষক রাজিব কুমার দাস, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আরাফাত আলী এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এ.টি.এম. নেছারুল হক।
কর্মশালায় আলোচক ছিলেন বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ও এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান, প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী ও সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।