Published : 08 Jul 2026, 07:23 PM
বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে আগের সরকারের করা চুক্তিতে ‘সার্বভৌম গ্যারান্টি’ (রাষ্ট্র বা সরকারের দেওয়া আইনি ও নিঃশর্ত প্রতিশ্রুতি) থাকায় ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিদ্যুতের খরচ কমাতে দরকষাকষির সুযোগ সীমিত বলে তথ্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ‘লেট পেমেন্ট ফি’ (নির্দিষ্ট বিল বা বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত ফি বা চার্জ) না দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সংসদে তথ্য দিয়েছেন তিনি।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের করা এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মারদিয়া মমতাজ প্রশ্ন করেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সময় খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও ভর্তুকি ও খরচের বড় অংশ ক্যাপাসিটি চার্জে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এ বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।
জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুতায়নের জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যেসব বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছিল, সেসব চুক্তিতে সার্বভৌম গ্যারান্টি দেওয়া আছে। সোভরেইন গ্যারান্টি হচ্ছে রাষ্ট্রের গ্যারান্টি। এই গ্যারান্টি বাতিল করার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সে ব্যবস্থা অনেক সময়সাপেক্ষ।
“এসব চুক্তির সঙ্গে আরো অনেক বিষয় জড়িত। বিশেষ করে লেট পেমেন্ট ফি না দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এগুলো আমরা দেব না বলে আলোচনা করছি। আশা করি, সেটা ফলপ্রসূ আলোচনা করতে পারব।”
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো জাতীয় অবকাঠামোর অংশ হয়ে গেলে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকারকে সতর্কভাবে এগোতে হয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ থাকা পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন্ত্রীর ভাষ্য, সরকার সহজমূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করবে।
তবে বিদ্যুতের দাম বাড়ার আরেক কারণ হিসেবে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কথাও বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
জামালপুর-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল প্রশ্ন করেন, দেশে বর্তমানে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা কত, এসব কেন্দ্র থেকে বছরে কত টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয় এবং বিগত সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।
জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চলমান নেই। তবে দুটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে নবায়ন করা হয়েছে। কেন্দ্র দুটি হল শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ৮৬ মেগাওয়াট কেন্দ্র এবং আশুগঞ্জের প্রিসিশন অ্যানার্জি লিমিটেডের ৫৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র।
“কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চলমান না থাকায় এর বিপরীতে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিও বিদ্যমান নেই।”